প্রথমবার ব্ল্যাক হোলের ছবি প্রকাশ, আরও একবার সত্যি প্রমাণিত হতে চলেছেন আইনস্টাইন

ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই প্রবল যে কোনো কিছুই তার হাত থেকে রেহাই পায় না। এমনকি আলোকরশ্মিও না। এর ফলে ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলা সম্ভব হয়নি।

0
black hole
কৃষ্ণগহ্বর।

ওয়েবডেস্ক : ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বর দেখতে কেমন তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। তবে সব ধোঁয়াশা কাটিয়ে প্রথমবার ব্ল্যাক হোলের ছবি প্রকাশ্যে আনলেন বিজ্ঞানীরা। এই ছবি তোলার জন্য বিশেষ ভাবে নির্মিত ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপের (ইএইচটি) ফলাফলের উপর ভিত্তি করে কৃষ্ণগহ্বরের ছবিটি বুধবার প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

 কেন উল্লেখযোগ্য?

ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতই প্রবল যে কোনো কিছুই তার হাত থেকে রেহাই পায় না। এমনকি আলোকরশ্মিও না। এর ফলে ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলা সম্ভব হয়নি।

একে কৃষ্ণগহ্বর বলা হলেও আদতে এটি ফাঁকা নয়। এর ভিতর বিপুল পরিমাণ পদার্থ জমাট বেঁধে রয়েছে। তার ফলেই এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এতো জোরালো।

কী ভাবে সম্ভব হল ছবি তোলা?

এর আগে কোনো একক টেলিস্কোপের পক্ষে এর ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। পৃথিবীর আটটি মহাদেশে বসানো আটটি রেডিও টেলিস্কোপের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই ব্ল্যাক হোলটির ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে। পৃথিবী থেকে ৫৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে ছায়াপথ এম ৮৭-এর গভীরে অবস্থিত এই ব্ল্যাক হোলটিকে বিজ্ঞানীরা দৈতাকৃতি বলে বর্ণনা করেছেন।

কৃষ্ণগহ্বরটির আকার ৪০ বিলিয়ন কিলোমিটার, পৃথিবীর থেকে ৩০ লাখ গুণ বড়। ছবিটতে দেখা যাচ্ছে, ওই কৃষ্ণগহ্বরটিকে ঘিরে রয়েছে আগুনের চক্র। অধ্যাপক হেইনো ফআলকে বিবিসিকে জানিয়েছেন, একটি সম্পূর্ণ গোলাকৃতি ও অন্ধকার গহ্বরকে ঘিরে রয়েছে আগুনের চক্র। গহ্বরে আটকে পড়া উচ্চ তাপমাত্রার গ্যাসের কারণে এই আগুনের উৎপত্তি বলে তিনি জানিয়েছেন।

ওই আগুন থেকে উৎপন্ন হচ্ছে তীব্র এক আলোকরশ্মি। এর তীব্রতা এতটাই বেশি যে বহুদূরে থাকা সত্ত্বেও পৃথিবী থেকে ব্ল্যাক হোলটিকে দেখা সম্ভব হয়েছে। গবেষক দলের সদস্য ড. যিরি ইউনুসি বলছেন, কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে বহু বছর আগে আইনস্টাইন যে ধারণা রেখে গিয়েছিলেন, সেটিই সত্যি প্রমাণিত হতে চলেছে। তিনি বলেছেন, ‘কৃষ্ণগহ্বরের উপস্থিতি সময়, মহাকাশ, এমনকি আমাদের অস্তিত্বের বিষয়গুলোকে অনেক জটিল প্রশ্নের সামনে ফেলে দিচ্ছে। আশ্চর্যজনক ভাবে আমরা যেই ছবি পেয়েছি, সেটি আমাদের তাত্ত্বিক গবেষণার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, আইনস্টাইন আরও একবার সঠিক প্রমাণিত হতে চলেছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here