ওয়েলিংটন : তলিয়ে যাওয়া মহাদেশ জিল্যান্ডিয়ার সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানীরা সমুদ্রে পাড়ি দিলেন। শুক্রবার এই অভিযান শুরু করলেন তাঁরা। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নেভিল এক্সন বলেন, এই অভিযান দু’ মাসের। টাউনসভেলি থেকে যাত্রা শুরু করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব দিকে অবস্থিত এই সুবিশাল ভূখণ্ডের ব্যাপারে এর আগে কখনোই এত ব্যাপক ভাবে গবেষণা বা অনুসন্ধান করা হয়নি।

জিল্যান্ডিয়ার বেশির ভাগ অংশই রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে। এটা প্রাচীন গন্ডোয়ানা মহাদেশেরই একটা অংশ। ৭৫০ লক্ষ বছর আগে মূল ভূখণ্ড থেকে এই অংশটা ভেঙে যায়। ফেব্রুয়ারি মাসে জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব আমেরিকার পত্রিকা ‘জিএসএ টুডে’তে প্রকাশিত একটি লেখায় বিজ্ঞানীরা এই ভূখণ্ডটিকে একটা আলাদা মহাদেশ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

ও-ই লেখায় তাঁরা বলেন, এই ভূখণ্ডটির স্বতন্ত্র একটা ভূতাত্ত্বিক অস্তিত্ব রয়েছে। একটা মহাদেশের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যের মানদণ্ড পূরণ করছে এই ভূখণ্ড। শুধু তা-ই নয়, এর পার্শ্ববর্তী এলাকা, এর বিশেষ ধরনের ভূতত্ত্ব, সুনির্দিষ্ট পরিসর, তা ছাড়া সমুদ্রের তলদেশের ভূত্বকের থেকে অনেক বেশি পুরু কঠিন ও ভূত্বক একটি স্বতন্ত্র মহাদেশের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। এই অংশে রয়েছে ৫০ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা। এটা দক্ষিণ নিউজিল্যান্ড থেকে নিউ ক্যালিডোনিয়া, পশ্চিমে কেইন মালভূমি থেকে পূর্বে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে খননকারী জাহাজ (ড্রিল জাহাজ) জইদেস রেজোলিউশন। এই ড্রিল জাহাজটি এই নিম্মজিত অংশের কাদামাটি-পাথর গত কয়েক লক্ষ বছরে কী ধরনের আচরণ করেছে, তার কী পরিবর্তন হয়েছে তা আবিষ্কারের চেষ্টা করবে। এই জাহাজে গবেষণার কাজে বিজ্ঞানীরা সামুদ্রিকতত্ত্ব, চরম জলবায়ু, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা, পাতসঞ্চালন তত্ত্ব ইত্যাদি নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন।

টেক্সাসের রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞানী জেরি ডিকেন্স বলেন, বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে এই ডুবে যাওয়া অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া উত্তরে সরে যাওয়ার পর ভাসমান সাগর সৃষ্টি হয়েছে। তার ফলে বিশ্বের সমুদ্রপ্রবাহ আর জল পরিবহনের ধরন বদলে গেছে। ফলে জিল্যান্ডিয়ার ওপর জলের চাপ ক্রমশ বেড়েছে। তিনি আরও বলেন, এই অংশটি বিশ্বের বিরাট পরিবর্তনের একটা অন্যতম কারণ।

বিজ্ঞানী নেভিল এক্সন বলেন, এই অভিযান ৫৩০ লক্ষ বছর আগে শুরু হওয়া পাতসঞ্চালনকে আরও ভালো করে বুঝতে সাহায্য করবে। সেই সময়ই প্রশান্ত মহাসাগরীয় আগ্নেয় বলয় তৈরি হয়, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি উদ্ভব ইত্যাদি হয়।

ফেব্রুয়ারির গবেষণা পত্রটির প্রধান লেখক নিক মোরটাইমার বলেন, এই মহাদেশ নিয়ে গবেষণা ২০ বছর ধরে চলছে। কিন্তু এত পরিশ্রমের পরও তাঁদের হতাশ হতে হয়েছে। কারণ গোটা বিষয়টা জলের নীচে লুকিয়ে। যদি এমন সম্ভব হত যে, সমুদ্রের জল আটকে দেওয়া যেত তা হলে এই নিমজ্জিত মহাদেশের বিষয়ে সকলের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হত। দেখানো যেত এই জলের নীচে পর্বতমালা রয়েছে, একটা বিশাল মহাদেশ রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here