ওয়েভডেস্ক : বিশালাকার গ্রহ বা ধুমকেতুর ধাক্কা যদি বিশাল জলাশয় বা মহাসাগরে লাগে তা হলে সেখানে সুনামি হতে বাধ্য। পৃথিবীতে ছয় কোটি বছরেরও আগে এমন একটি জলোচ্ছ্বাস ঘটেছিল। এ বার বিজ্ঞানীরা বলছেন মঙ্গলেও বহু কোটি বছর আগে এমন একটি সুনামি ঘটে থাকতে পারে। তার কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।

মঙ্গল একটি ঠাণ্ডা ও শুষ্ক গ্রহ এই নিয়ে কোনো মতবিরোধ নেই। সাড়ে তিন লক্ষ কোটি বছরেরও আগে এই অবস্থায় পৌঁছেছিল মঙ্গল। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, বহু লক্ষ কোটি বছর আগে এই গ্রহতে জলের উপস্থিতি ছিল। তবে এর সপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল না। কিন্তু নতুন একটি গবেষণা থেকে মঙ্গলে মহাসাগর ও জল থাকার প্রাথমিক কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। তার থেকেই এই লাল গ্রহতে প্রাণের উপস্থিতির বিষয়টিও বেশ কিছুটা আশ্বাস পাচ্ছে।

নতুন গবেষণায় মঙ্গলে বিশাল সমুদ্র ও জলোচ্ছ্বাস তরঙ্গ ইত্যাদির বিষয়ে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাতে হঠাৎ অস্বাভাবিক বড়ো ঢেউয়ের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এই গবেষণা থেকে মঙ্গলের একটি অঞ্চলে একটি বিশালাকার উলকা বা গ্রহাণু পড়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এর গভীরতা প্রায় সমুদ্রের গভীরতার মতো। ১২০ কিলোমিটার উচ্চতা ও লম্বায়। এই এলাকার নাম দেওয়া হয়েছে লোমোনোসোভ।

পড়ুন – পৃথিবীর ৫টি ছবি পাঠাল চন্দ্রযান-২

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এই বিষয়টির ফলেই মঙ্গল পৃষ্ঠে একটি বিশাল সুনামির সৃষ্টি হয়েছিল। এমনটি মনে করার পেছনে রয়েছে পৃথিবীর সঙ্গে এর সাদৃশ্য। পৃথিবী পৃষ্ঠের সমুদ্রের গঠন ও সমুদ্রের পার্শ্ববর্তী ভূমিরূপের সঙ্গে এর যথেষ্ট মিল রয়েছে। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে এখনও প্রচুর প্রমাণ দরকার বলেও জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই গবেষণাটি করেছেন ফ্রঙ্কয়িস কোস্টার। এই গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ‘আমেরিকান জিও ফিজিক্যাল ইউনিয়ান’স জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চে।   

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here