মাথার চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে? কোনো রকম মানসিক চাপ নেই তো? কী বলছে গবেষণা

0
haircare
প্রতীকী

ওয়েবডেস্ক : বহু ক্ষেত্রেই এমন দেখা গিয়েছে কোনো রকম মানসিক চাপের কারণে নিজের ত্বক এবং চুলের দিকে যত্ন নেওয়া না হলেই কয়েক দিন পরে যখন চোখ যায়, তখন দেখা যায় চোখের তলায় কালো দাগ বলিরেখা এবং মাথার বেশ কিছু চুল সাদা হয়ে গিয়েছে। এমন ঘটনা বহু মানুষের সঙ্গে ঘটেছে। তা সে বিখ্যাত মানুষ হন বা সাধারণ মানুষ।

এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতানুযায়ী বলে যায়, চুল সাদা হওয়ার ঘটনাটির সঙ্গে মানসিক চাপের বিষয়টি যুক্ত রয়েছে।

প্রথমবার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, চুল সাদা হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ঠিক কী ভাবে কাজ করে। তাঁদের মতে, স্ট্রেস অর্থাৎ মানসিক চাপ বা উত্তেজনা স্নায়ুগুলিকে সক্রিয় করে। এইগুলি হল সেই স্নায়ু যেগুলি ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এই স্নায়ুগুলিই চুলের রঙ-পুনঃসৃষ্টির ক্ষেত্রে দায়ী বীজকোষগুলিকে স্থায়ী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়।

এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে নেচার পত্রিকায়।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির স্টেম সেল অ্যন্ড রিজেনারেটিভ বায়োলজি বিভাগের অ্যালভিন অ্যান্ড এস্টা স্টার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর প্রবীণ লেখক ইয়া-চিহে হসু বলছেন, সকলেরই কম বেশি এই অভিজ্ঞতা আছে যে, মানসিক চাপ তাদের শরীরের ওপর বিশেষ করে যা বাইরে থেকে দেখা যায় সেই ত্বক ও চুলের ওপর কী ভাবে প্রভাব ফেলে। হসু বলেন, যদি এই সংযোগ সত্যি হয় তা হলে কী ভাবে মানসিক চাপ এই কোষ পরিবর্তন করে?

চুলের রঞ্জকতা পরিবর্তন লক্ষ ও পর্যবেক্ষণ করা বেশ সহজ। তাই এই বিষয়টিই দিয়েই পরীক্ষা শুরু করেছেন তাঁরা। এই বিষয়টি জানার জন্য তাঁরা খুবই কৌতুহলীও ছিলেন।

পড়ুন – এক লক্ষ কোটি বছর আগে চাঁদেও ছিল চৌম্বকীয় শক্তি, বলছে গবেষণা

কী ভাবে বিষয়টি আবিষ্কার করলেন?

যেহেতু মানসিক চাপ সারা শরীরেই সক্রিয়, তাই গবেষকরা প্রথমে এই বিষয়টি খুঁজে বের করতে চাইছিলেন যে ঠিক কোন বিষয় মানসিক চাপকে চুলের রঙের সঙ্গে যুক্ত করে। তার পর প্রথমে এটি অনুমান করে নেওয়া হয় যে মানসিক চাপ রঙ উৎপাদক কোষগুলিকে আক্রমণ করে।

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ সর্বদা দেহে হরমোন করটিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই তাঁরা ভেবেছিলেন, এ ক্ষেত্রে করটিসল একটি ভূমিকা নিলেও নিতে পারে। হসু বলেন, তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ভেবে তাঁরা ইঁদুরের শরীর থেকে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিটি সরিয়ে ফেলেন, যাতে তারা কর্টিসল জাতীয় হরমোন তৈরিই করতে না পারে। কিন্তু তাও তাদের চুল স্ট্রেসের ফলে ধূসর হয়ে গিয়েছে।

পদ্ধতি মেনে একের পর এক সম্ভাবনাগুলি সরিয়ে ফেলের পর গবেষকরা সিমপ্যাথেটিক নার্ভ সিস্টেমের ওপর নজর দেন। এই সিস্টেমের স্নায়ু প্রত্যেক চুলের সঙ্গে যুক্ত। মানসিক চাপ এই স্নায়ুগুলিকে এক রকমের রাসায়নিক নির্গত করতে বাধ্য করে। সেই রাসায়নিকটি রঞ্জক পুনসৃষ্টিকারী স্টেমসেলগুলি দ্বারা গৃহীত হয়।  

কী ভাবে পাকাপাকি ভাবে এটা ক্ষতি সাধন করে?

চুলের এই কোষের মধ্যে কয়েকটি কোষ রঞ্জক সৃষ্টিকারী কোষের সংগ্রহশালা হিসাবে কাজ করে। তার থেকেই চুল রং পায়।

গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, যে সিমপ্যাথেটিক নার্ভ  থেকে প্রাপ্ত নরিপাইনফ্রিন স্টেম সেলগুলিকে অত্যধিক ভাবে সক্রিয় করে তোলে। স্টেম সেলগুলিকে রঞ্জক উৎপাদক কোষে রূপান্তর করে।

পড়ুন – অতিরিক্ত ইন্টারনেট আসক্তি পড়ুয়াদের পড়াশোনার দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছে: গবেষণা

হসু বলেন, তাঁরা  যখন এই গবেষণাটি শুরু করেছিলেন, তখন ভেবেছিলেন যে শরীরের জন্য স্ট্রেস খারাপ। কিন্তু পরে যা দেখলেন তা তাঁদের কল্পনাতীত। তিনি বলেন, মাত্র কয়েক দিন পরেই রঞ্জক পুনর্জন্মের সমস্ত স্টেম সেল হারিয়ে গিয়েছিল। এই স্টেমসেলগুলি একবার চলে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। রঞ্জকটি পুনরায় তৈরি করা যায় না। ক্ষতি চির স্থায়ী।

গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক পোস্টডক্টোরাল ফেলো বিং ঝাং বলেছেন, তীব্র মানসিক চাপ, বিশেষত এই বিশেষ ধরনের অর্থাৎ সংগ্রাম করা বা সরে যাওয়ার প্রতিক্রিয়াটিকে একটি প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক চাপ স্টেম কোষের স্থায়ী অবনতি ঘটায়।

এই বিষয়টি জানতে গিয়ে, গবেষকরা গোটা শরীর নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেছিলেন। তারপর ক্রমশ পরিসর কমে এসেছে। তার পর একে একে পৃথক পৃথক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্রিয়ার ওপর নজর দেন। কোষের সঙ্গে কোষের সম্পর্ক ইত্যাদির দিকে নজর দেন।

ঝাং বলেছেন, সর্বোচ্চ স্তর থেকে ক্ষুদ্রতম বিশদে বিষয়ে জানতে একাধিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। একটি জৈবিক প্রশ্ন সমাধানের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতির সংমিশ্রণ ব্যবহার করেছেন। বিভিন্ন শাখার বিস্তৃত ক্ষেত্রে অনেক বিজ্ঞানীর সাহায্য নিয়েছেন।

কী উপকার হল এই গবেষণায়?

সহযোগী বিজ্ঞানীদের মধ্যে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ইমিউনোলজির সহকারী অধ্যাপক আইজাক চিউ-ও  ছিলেন। তিনি স্নায়ু এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থার মধ্যে ইন্টারপ্লে-র বিষয়ে অভিজ্ঞ। চু বলেন, “আমরা জানি যে পেরিফেরাল নিউরনগুলি শক্তিশালী ভাবে অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা, রক্তনালী এবং অনাক্রমণতা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু কী ভাবে তারা স্টেম সেলগুলি নিয়ন্ত্রণ করে সে সম্পর্কে খুব কম জানি।“

তিনি বলেন যে, এই অধ্যয়নের মাধ্যমে এখন জানা গিয়েছে যে, নিউরনগুলি স্টেম সেল এবং তাদের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। চুল রঙ ও ধরনের সঙ্গে মানসিক চাপকে যুক্ত করার জন্য তারা সেলুলার এবং আণবিক স্তরে কী ভাবে সংযোগ সাধন করে ও তার পরিবর্তন করে তাও এখন ব্যখ্যা করা যায়।

এই গবেষণা থেকে যা উঠে এল তা দিয়ে বিভিন্ন অঙ্গ এবং কোষগুলির ওপর মানসিক চাপের বিস্তৃত প্রভাব কী তা বুঝতে সুবিধে হবে। এই বিষয়গুলি স্ট্রেসের ক্ষতিকারক প্রভাবগুলিকে আটকাবে বা পরিবর্তন করার চেষ্টা করে এমন কিছু নতুন গবেষণার পথ সুগম করবে।

পড়ুন – ২০১৯ সালে মহাসাগরের তাপমাত্রা সব থেকে বেশি ছিল: গবেষণা

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.