লন্ডন: ২১ শতকে দাঁড়িয়ে যেটা ভাবাও যায় না, ইতিহাসের পাতায় কিন্তু সবাই পড়েছি সে সব আদিম কাণ্ডকারখানা। মানুষ যে এক কালে মানুষের মাংস খেত, এ কথা সবাই জানি। কিন্তু এ রকম অনেক জানা ঘটনার পেছনের ইতিহাসটা অজানাই থাকে আমাদের। কারণ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করা তো বিজ্ঞানীদের স্বভাব। সে রকমই এক বিজ্ঞানী, ব্রাইটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ববিদ জেমস্‌ কোল দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছিলেন পুরোনো প্রস্তর যুগের মানুষের নরমাংস খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে।   ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণার ফল বলছে, আদিম এই অভ্যাস শুধু পুষ্টির কারণে নয়। বিজ্ঞানীদের অনুমান, এই খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে জড়িত ছিল আদিম কিছু প্রথা।

পুরোনো প্রস্তর যুগের শুরুটা হয়েছিল আজ থেকে ২৫ লক্ষ বছর আগে। আনুমানিক ১০ হাজার বছর আগে পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল এই যুগ। হোমো সেপিয়ান্স প্রজাতির জন্ম এই সময়েই। মানুষের মাংস ভক্ষণ করার অভ্যাসও এই সময়কারই।

মানুষের দেহের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে যে পরিমাণ ক্যালোরি থাকে, তা যোগ করে বিজ্ঞানীরা হিসেব করে দেখেছেন তা এক পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রয়োজনীয় ক্যালোরির এক তৃতীয়াংশ। সে ক্ষেত্রে দুর্ভিক্ষ কিংবা বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া খাদ্য হিসেবে নরমাংস ভক্ষণ করা খুব একটা কাজের কথা না। তার চেয়ে পুরোনো প্রস্তর যুগের গরু, বাইসন, উলি গণ্ডার, উলি ম্যামথের দেহে অনেক গুণ বেশি ক্যালোরি থাকে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে নরমাংস ভক্ষণের অভ্যাসটা এল কোথা থেকে? জেমস্‌ কোলের মতো বহু নৃতত্ববিদের অনুমান, সে যুগে মানুষের মাংস খাওয়াকে উদযাপনের উপায় হিসেবে ধরা হত। বিজ্ঞানী জেমস্‌-এর মতে, এই প্রথার পেছনে থাকতে পারে কোনো আদিম ভূ-রাজনৈতিক ব্যাখ্যাও। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here