‘পড়ুয়াদের মনে প্রশ্ন উঠুক’, বেদান্ত কলেজের বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে পরামর্শ বিজ্ঞানী দেবীপ্রসাদ দুয়ারির

0

কলকাতা: “নতুন প্রজন্মের মধ্যে চিন্তাশক্তি গড়ে উঠবে বিজ্ঞানের জনপ্রিয়করণের মাধ্যমে। প্রকৃতি, সমাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠুক তাদের মনে”। বৃহস্পতিবার কলকাতার বেদান্ত কলেজের (Vedanta College, Kolkata) বিজ্ঞান প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমনটাই বললেন জ্যোতির্বিজ্ঞান, মহাকাশ এবং ভূবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ স্বনামধন্য বিজ্ঞানী ড. দেবীপ্রসাদ দুয়ারি (Dr. Debiprasad Duari)।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বেদান্ত কলেজের পক্ষ থেকে এ দিনের বিজ্ঞান প্রদর্শনী এবং ক্যুইজ প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যালয়-শিক্ষার্থীদের ভিতর বৈজ্ঞানিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা ও বৈজ্ঞানিক মানসিকতার বিকাশ ঘটানো।

বিজ্ঞানের প্রভাব সমাজ এবং পরিবেশেও

বেদান্ত কলেজের অধ্যক্ষা ড. কীর্তি সিংয়ের উপস্থিতিতে প্রদীপ-প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কলকাতার এমপি বিড়লা প্ল্যানেটেরিয়ামের ডিরেক্টর দেবীপ্রসাদ দুয়ারি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর অধ্যাপক দুয়ারি সমবেত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ‘জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান’-শীর্ষক একটি বক্তৃতা করেন।

তিনি বলেন, “বিজ্ঞান চর্চা বা বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করলে যে শুধু বিজ্ঞানের সাধনা হবে এমনটা নয়। বিজ্ঞান মানুষকে যুক্তিবাদী করে দেয়। পৃথিবীকে, মহাবিশ্বকে, নিজেদের এক নতুন আলোকে দেখতে শেখায় বিজ্ঞান। নতুন প্রজন্মের মধ্যে সেই চিন্তাভাবনা গড়ে তোলার আরেকটি পদ্ধতি হল বিজ্ঞানের জনপ্রিয়করণ। সেই কাজে এগিয়ে এসেছে বেদান্ত কলেজ। আমি তাদের সাধুবাদ জানাই”। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তাদের মতে প্রশ্ন উঠুক। প্রকৃতি, সমাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠুক তাদের মনে। তবে তারা জ্ঞান, তথ্যে সমৃদ্ধ হতে পারবে”।

ড. দুয়ারির বক্তব্যের রেশ ধরেই কলেজের অধ্যক্ষা ড. সিং বলেন, বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে বিস্তৃত কর্মকাণ্ড চলছে। প্রতিদিনের জীবনযাপনের সঙ্গে সমাজ এবং পরিবেশেও তার ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। সেই সব প্রভাবের কথা তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি নিয়েছে কলেজ।

বেদান্ত কলেজের রয়ায়ন বিভাগের প্রধান এবং বিজ্ঞান প্রদর্শনীর আহ্বায়ক ড. দেবাশিস কর বলেন, “আমাদের প্রদর্শনীর শীর্ষক- বিজ্ঞান, সমাজ এবং পরিবেশ। এই তিনটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলো নিয়েই জগৎ। আমরা আজ নিজেদের স্বার্থে যে ভাবে পরিবেশকে ব্যবহার করছি, তাতে হয়তো ভবিষ্যতে আমাদের নিজেদের ধ্বংসের কারণ হব আমরাই। তাই আমরা চাইছি পড়ুয়াদের মধ্যে এ বিষয়েই জোরালো সচেতনতা গড়ে তুলতে। পৃথিবীকে বাঁচাতে হলে সমাজ, প্রকৃতিকে বাঁচাতে হবে, এই বার্তাই আমরা পৌঁছে দিতে চাইছি”।

বিজ্ঞান প্রদর্শনী এবং ক্যুইজ প্রতিযোগিতা

প্রদর্শনীতে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি-উৎপাদন, খাদ্যসুরক্ষা, শক্তির উৎস, পরিবেশ সংরক্ষণ, বিপর্যয় মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তন, দৈনন্দিন জীবনে গণিত এবং রসায়নের মজা বিষয়ক মোট ২৫টি মডেল প্রদর্শিত হয়। বেদান্ত কলেজের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত, প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা এবং ভূগোল বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা সমস্ত মডেল আগত দর্শকদের সামনে প্রদর্শন এবং ব্যাখ্যা করেন। পাঁচটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের ব্যবহারও হাতেকলমে দেখানো হয় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের।

প্রায় ৩০টি বিদ্যালয় এবং কলেজের ছাত্রছাত্রীরা এই প্রদর্শনী অংশ নেন। প্রদর্শনীতে বিচারক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ড. বিএন দাস (অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, পদার্থবিদ্যা বিভাগ, প্রসিডেন্সি কলেজ), ড. স্বরূপ সাহা (সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল বিভাগ, বিদ্যাসাগর কলেজ ফর উইমেন), ড. অভিজিৎ দে (সহকারী অধ্যাপক, জীববিদ্যা বিভাগ, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ড. তিতাস বিশ্বাস (সহকারী অধ্যাপক, রসায়ন বিভাগ, গুরুদাস কলেজ)। তাঁদের বিচারেই তিনটি মডেলকে সেরার সম্মান দেওয়া হয়।

ক্যুইজ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষা জানিয়েছেন, কলকাতা এবং সংলগ্ন অঞ্চলের মোট ১৬টি বিদ্যালয় এ দিনের ক্যুইজে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগীরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তত্বাবধানে অংশ নিতে এসেছিলেন বেদান্ত কলেজে। ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে যথাক্রমে বিধাননগর গভর্নমেন্ট স্কুল, বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল স্কুল এবং দ্য পার্ক ইনস্টিটিউ।

অধ্যাপিকা সিং আরও বলেন, প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে যে ব্যাপক সাড়া মিলেছে, তাতে তাঁরা অভিভূত। পাশাপাশি বেদান্ত কলেজের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা আবিষ্কার করার জন্যও এই প্রদর্শনী বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতে বেদান্ত কলেজের এ রকম আরও কর্মসূচি গ্রহণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান অধ্যক্ষা।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন