শুধু স্থল নয়, জলও ক্রমশ অপরিষ্কার আবর্জনার স্তূপে পরিণত হচ্ছে। জলপথে বেড়াতে বেরোলেই এমন দৃশ্য চোখে পড়বেই পড়বে। তা সে নদী, নালাই হোক বা সমুদ্র।

মানুষই নোংরা করে আবার মানুষই তা পরিষ্কার করে। তবে তেমন মানুষ আর ক’জন ? তবে পরিবেশ পরিষ্কার রাখার কাজ বেশ কয়েক বছর ধরে হাতে নিয়েছে বিশ্বের তাবড় কিছু সংস্থা।

এবার জলের আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হতে চলেছে ‘ওয়েস্টশার্ক’ নামের একটি জলের ড্রোন। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডের রোটারডাম বন্দরে এই বিশেষ ড্রোনটির পরীক্ষা করা হয়।

এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, যেটি জলের নোংরা আবর্জনা খুব দ্রুত টেনে নেয়। এর মধ্যে রয়েছে অনেকগুলি অত্যাধুনিক সেনসর। এই ‘ওয়েস্টশার্ক’ এক সঙ্গে প্রায় ৪০০ পাউন্ড আবর্জনা গিলে নিতে পারে। এটি সর্বক্ষণ কাজ করে জল পরিষ্কার রাখে। আপাতত দু’টি মাপের ‘ওয়েস্টশার্ক’ আনা হয়েছে।

‘ওয়েস্টশার্ক’-এর প্রস্তুতকর্তা দক্ষিণ আফ্রিকার রিচার্ড হার্ডিমান এমন এক জন মানুষ যিনি পরিবেশ, বিশেষত জলের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কাজে লাগাচ্ছেন তাঁর উদ্ভাবনী শক্তিকে। তিনি মনস্থ করেছিলেন জলের পরিবেশ পরিষ্কার রাখবেন। তার জন্য এমন একটা কিছু করতে হবে যাতে খুব সচেতন ভাবে কাজটা করা সম্ভব হয়। কিন্তু তিনি বোঝেন কোনও মানুষই এই কাজের জন্য উপযুক্ত নয়। আর সেই থেকেই তিনি একটি যন্ত্র আবিষ্কারের কাজে লেগে পড়েন। কিন্তু যন্ত্রটি তৈরির পথে তিনি নানা ভাবে বুঝতে পারেন যে শুধু একটা ড্রোনই পারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবর্জনাগুলো খুঁজে বার করে পরিষ্কার করতে। আর তার থেকেই ক্রমশ তৈরি করে ফেলেন ‘ওয়েস্টশার্ক’।

পরের বছর রোটারডাম বন্দরের সঙ্গে হওয়া চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে, সারা পৃথিবীর সর্বত্র যেখানেই জলপথ ও বন্দর বা বলা ভালো জলে আবর্জনা জমার সম্ভাবনা আছে সেখানেই এই ‘ওয়েস্টশার্ক’ ব্যবহার করার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছেন রিচার্ড হার্ডিমান।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here