wi-fi

ওয়েবডেস্ক: এখনকার দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেট কতটা প্রয়োজনীয়, তা বুঝিয়ে বলার নয়। পাশাপাশি যত্রতত্র-সর্বত্র ইন্টারনেট পরিষেবা সুলভে পেতে ওয়াই-ফাই ব্যবহারে ব্যয় তুলনামূলক অনেক কম। অফিসে তো বটেই অনেকে বাড়িতেও ওয়াই-ফাই কানেকশনের মাধ্যমে নেট ব্যবহার করে থাকেন। আবার ওয়াই-ফাই ফ্রি এলাকারও অভাব নেই শহরে। ফলে সব মিলিয়ে নেট এবং ওয়াই-ফাই এখন আমাদের সর্বক্ষণের সঙ্গী। কিন্তু মাঝে মধ্যেই বিগড়ে যায় এই অতি প্রয়েজনীয় পরিষেবা। কী করা যাবে তখন?

রাউটারের অবস্থান

বেশির ভাগ সময়েই রাউটারটিকে ঠিক জায়গায় রাখা হয় না। কাজ চলে যাচ্ছে এই রকম মানসিকতা থেকে সেটিকে যেখানে হোক রাখলেই চলে। কিন্তু ঘরের মধ্যে এই রাউটারের অবস্থানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ওয়াই-ফাইয়ের কার্য ক্ষমতা। ফলে রাউটারটিকে ঘরের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে। কোনো সেলফ্, ডেস্ক বা মেঝেতে এমন জায়গায় সেটি থাকবে যাতে তার থেকে নির্গত রেডিও তরঙ্গ ঘরের সর্বত্র সমান ভাবে পৌঁছতে পারে।

এলইডির ঝিকিমিকি আলো

উৎসবের সময় যে এলইডি লাইট (চলতি কথায় টুনি লাইট) লাগানো হয় তার জ্বলা-নেভার ফ্ল্যাশে ওয়াই-ফাই কাজ করতে পারে না। এই লাইটগুলিতে যে ফ্ল্যাশিং চিপ লাগানো থাকে সেগুলি রেডিও তরঙ্গকে স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাহত করে।

কংক্রিট বা অন্যান্য ধাতব বস্তু

রাউটারের কাছে যদি কোনো কংক্রিটের দেওয়াল, আচ্ছাদন, অন্য কোনও ইলেট্রনিক্স ডিভাইস, উচ্চ তড়িৎবাহী তার থেকে থাকে তাহলেও ওয়াই-ফাইয়ের তরঙ্গ বিস্তারে ব্যাঘাত ঘটবে।

রাউটারের দূরত্ব

মাথায় রাখতে হবে রাউটার থেকে নির্গত রেডিও তরঙ্গ ৩৬০ ডিগ্রি কোণে বিচ্ছুরিত হয়ে থাকে। ফলে ঘরের এক কোণে এটিকে রাখলে শুধু সামনে থেকই সহজ ভাবে ওয়াই-ফাই উপলব্ধ হয়। ফলে সেটিকে ঘরের এমন জায়গায় রাখতে হবে, যাতে সেটি থেকে চারদিক থেকেই সমান ভাবে পরিষেবা পাওয়া যায়।

অন্য সিগনাল

রাউটার যেখানে রাখা রয়েছে তার কাছাকাছি অঞ্চলটি দিয়ে কি অন্য কোনো শক্তিশালী সিগনাল যাতায়াত করছে। এটা নির্ধারণ করতে মোবাইল নিয়ে রাউটারের চার দিকে তার কার্যকারিতার ওঠা-নামা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোনো স্যাটেলাইট, মোবাইল টাওয়ারের সিগন্যাল জোরালো থাকলে ওই অঞ্চলে ওয়াই-ফাই নিজের মতো কাজ করবে না। ফলে ওই ক্ষেত্রগুলিকে এড়িয়ে চলতে হবে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন

মাইক্রোওয়েভ ওভেন কাজ করে ২.৪৫ গেজ ফ্রিকোয়েন্সিতে। আর ওয়াই-ফাই ২.৪ গেজ। ফলে মাইক্রোওয়েভ ওভেন চালু থাকলে ওয়াই-ফাই ঠিক মতো কাজ করবে না। ফ্রিকোয়েন্সি কম থাকায় দমে যাবে আপনার ওয়াই-ফাই।

নিরন্তর ডাইনলোড

দেখতে হবে ওয়াই-ফাই কানেকশন থেকে নিরন্তর ডাউনলোড হচ্ছে কি না? যদি কম্পিউটারে এ ভাবে ডাউনলোডিং চলতেই থাকে তা হলে ওয়াই-ফাই পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটতেই পারে।

চ্যানেল ওভার ল্যাপ

বাড়িতে বাড়িতে এখন ওয়াই-ফাইয়ের চল। ফলে পাশের বাড়িতে ওয়াই-ফাই চালু থাকলে আপনারটির চ্যানেল ওভার ল্যাপিং হতে পারে। নজর রাখতে হবে, কোনো কারণে পাশের বাড়ির কেউ আপনার রাউটার থেকে ওয়াই-ফাই চুরি করছে কি না?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here