ওয়েবডেস্ক: চারদিকে এখন ১ জিবি ডাটা ব্যবহারের অফার। সব টেলিকম সংস্থাই ১জিবি পরিমাণটাকে ডাটা ব্যবহারের সীমার একটা মানদণ্ড করে ফেলেছে। কোনো অফারে রয়েছে রোজ ১ জিবি করে ডাটা ব্যবহারের সুযোগ। কোনোটায় আবার ২৮ দিন বা ৩০ দিনে মোট ১ জিবি ডাটা ব্যবহারের অফার। এই অফারগুলির মধ্যেই কোনো না কোনোটা ব্যবহার করছি আমরা সবাই। কিন্তু কী কী করা যায় ১জিবি ডাটায়? এই সম্পর্কে ধারণাটা স্পষ্ট থাকলে, এর চেয়ে বেশি বা কম ডাটাতে কী কী হতে পারে, সেটাও আমরা নিজের মতো করে বুঝে নিতে পারব।

ব্রাউজ করা যাবে ৩০০০টি ওয়েবপেজ

যদি শুধুমাত্র ওয়েবপেজ ব্রাউজ করার জন্যই আপনি ১ জিবি ডাটা খরচ করতে চান, তাহলে আপনি দিনে ৩০০০টি ওয়েবপেজ উল্টে দেখতে পারবেন। যদিও সব ওয়েবপেজের ভার সমান নয়। শুধুমাত্র কিছু লেখা রয়েছে, এমন ওয়েবপেজ যদি আপনি ব্রাউজ করেন, তাহলে তিন হাজারের কিছু বেশি পরিমাণ ওয়েবপেজ ব্রাউজ করতে পারবেন। আর যদি খুব উঁচু মাত্রার রেজলিউশনের ছবিতে ভরা ওয়েবপেজ ওল্টাতে থাকেন, তাহলে তিন হাজারের থেকে কিছু কম ওয়েবপেজ ব্রাউজ করতে পারবেন।

পাঠাতে পারবেন ১৫ লক্ষ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ

হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠিয়ে ১ জিবি ডাটা শেষ করা খুবই কঠিন ব্যাপার। হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের পরিমাপ এতটাই ছোটো হয় যে ১ জিবি ডাটা ব্যবহার করে আপনি ১৫ লক্ষ মেসেজ পাঠাতে পারবেন। যদি খুব বেশিরকম ছবি ও ভিডিও মেসেজ পাঠাতে চান, তাহলে কিছু কম মেসেজ পাঠানো যাবে। আও সেটা তেমন কোনো বড়ো ব্যাপার নয়।

আরও পড়ুন: এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন, বিএসএনএল, আইডিয়া- রোজ ১ জিবি ডাটার সেরা প্ল্যান কার?

আপলোড করতে পারবেন ৪০০০ ছবি

আপনি যদি ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম করতে ভালোবাসেন বা আপনার যদি নিজের ব্লগ থাকে তাহলে জেনে রাখুন ১ জিবি-তে আপনি ৪০০০টি ছবি আপলোড করতে পারবেন। অর্থাৎ মাসে ১ জিবি ডাটা ব্যবহারের সুযোগ থাকলে আপনি দিনে ১৩০টি ছবি আপলোড করতে পারবেন। বড়ো সাইজের ছবি আপলোড করলে কিছু কম পরিমাণ ছবি আপলোড করা যাবে। আর আপনি যদি শুধুই সোশাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকেন, তাহলে কার্যত আপনি যা খুশি, যতখুশি আপলোড করতে পারবেন।

১০ হাজার ইমেল পাঠান

১ গিগাবাইট ডাটায় আপনি ১০ হাজার ইমেল করতে পারবেন। যদি ছবি ইমেল করেন বা ইমেলের সঙ্গে বড়ো অ্যাটাচমেন্ট থাকে, তাহলে মোট ইমেলের সংখ্যা সামান্য কিছু কম হবে। অনেক বড়ো বড়ো ইমেল ফরওয়ার্ড করলেও তাই।

ইউটিউব দেখুন ৩১০ মিনিট

১ জিবি ডাটায় আপনি ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইউটিউবে ভিডিও দেখতে পারবেন। অর্থাণ আপনি পরপর ৭০টি মিউজিক ভিডিও দেখতে সক্ষম হবেন। কিন্তু যদি আপনি খুব উঁচু মানের বা অনেক এফেক্ট / গ্রাফিক্স দিয়ে তৈরি ভিডিও দেখেন, তাহলে ডাটা বেশি খরচ হবে। তাই সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।

শুনুন ১৬০টি গান

ভিডিও দেখার থেকে যদি আপনি গান শুনতে বেশি পছন্দ করেন, তাহলে ১ জিবি ডাটায় আপনি টানা ১০ ঘণ্টা গান শুনতে পারবেন। স্ট্রিমিং-এ একটি গান শোনা এবং  সেই গানটি ডাউনলোড করা, দুটি ক্ষেত্রেই একই পরিমাণ ডাটা খরচ হয়। সেই হিসেবে আপনি ১ জিবি-তে ১৬০টি গান শুনতে পারবেন। ১৬০টি গান পরপর শুনতে লাগে ১০ ঘণ্টা।

জেনে নিলেন তো সব। এবার শুনুন আরও দুটি জরুরি তথ্য। প্রথমত যখনই আপনি ইন্টারনেট চালু করছেন, তখনই আপনার ডাটা খরচ শুরু হয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ফেসবুক এবং টুইটারে যে ভিডিওগুলো আপনি না চাইতেও চলতে শুরু করে দেয়, সেগুলোতেও কিন্তু আপনার ডাটা খরচ হয়। আমাদের ওপরে দেওয়া হিসেবে সেগুলোর বিষয়ে কিছু দেওয়া নেই। ওই ভিডিওগুলোর থেকে সাবধান।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here