ব্যস্ততায় বদলে যাওয়া জীবনযাত্রায় অসুস্থতার দাপাদাপি

0

এখন তো প্রতিদিন নতুন করে বাঁচা। হাজার কাজে জেরবার আধুনিক ব্যস্তজীবন। উলটো দিকে বাড়ছে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা। আর এমন কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যেগুলো গোড়াতেই এড়াতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে অপেক্ষা করে বড়োসড়ো বিপদ।

১. উচ্চ রক্তচাপ

measuring blood pressure

এটা এমন একটা শারীরবৃত্তীয় অবস্থা, যখন রক্তনালীতে রক্ত ​​প্রবাহের চাপ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে হার্ট দ্রুত কাজ করে। স্বাভাবিক অবস্থায় সিস্টোলিক রক্তচাপ (রক্তচাপের সর্বোচ্চ সীমা) হল ১০০ থেকে ১৪০ মিলিমিটার অব মারকারি। কিন্তু যখন রক্তচাপ এই সর্বোচ্চ স্তরের উপরে থাকে তখন এই ধরনের অবস্থাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসাবে অভিহিত করা হয়। মানসিক চাপ, অনিদ্রা, জাঙ্ক ফুড, কফি, অ্যালকোহল এবং ধূমপানকে এই সমস্যার জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়।

যা দরকার: সীমিত পরিমাণে ঘি, তেল, মশলা এবং নুন খাওয়া। অ্যালকোহল এবং সিগারেট থেকে দূরে থাকা। নিয়মিত ব্যায়াম এবং হাঁটা। যথেষ্ট ঘুম।

২. হৃদরোগ

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা সঠিক সময়ে নিয়ন্ত্রণে না করলে তা হৃদরোগজনিত রোগের কারণ হতে পারে। তাই যে সব কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়, এই সমস্যার জন্যও একই কারণ দায়ী। এর প্রধান উপসর্গ হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে ব্লকেজ। হার্ট অ্যাটাকের প্রধান উপসর্গ হল বুকের বাম পাশে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, কথা বলার সময় জিভ নড়বড়ে হওয়া এবং চোখের সামনে অন্ধকার হয়ে যাওয়া।

যা দরকার: চর্বিযুক্ত জিনিস থেকে দূরে থাকা। নিজেকে খুশি রাখা। নিয়মিত ব্যায়াম এবং সকালে হাঁটা।

৩. বিপিএইচ সমস্যা

old

বিপিএইচ (বিনাইন প্রোস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া) হল এমন একটি অবস্থা, যেটাকে বয়স্ক পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়। এটি মূত্রনালীর উপর আরও চাপ সৃষ্টি করে। ফলে ঘন ঘন টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভূত হয়। প্রস্রাবের সময় ব্যথা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে প্রস্রাবে রক্ত ​​পড়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়।

যা দরকার: বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে আগাম প্রতিরোধের কোনো বিশেষ উপায় নেই। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এর লক্ষণগুলো শনাক্ত হলে ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৪. অনিদ্রা

অনিদ্রার কারণ অনেক। এর নেপথ্যে থাকতে পারে শারীরিক এবং মানসিক- দুই কারণই। তবে ব্যস্ততার কারণে অস্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাসও অনিদ্রার জন্য দায়ী। প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে না যাওয়া এবং ঘুম থেকে না ওঠা এ ধরনের সমস্যা ডেকে আনতে পারে। পেশাগত সমস্যা, মানসিক চাপ, হতাশা ইত্যাদি তো রয়েইছে।

যা দরকার: সময়ে ঘুম এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যেস। ঘুমানোর আগে আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা ও মন ভালো রাখা। ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার না করা। শরীরচর্চা।

৫. ব্যথা

knee

দৈনন্দিন জীবনে প্রচণ্ড ব্যস্ততা। ফলে শরীরের জন্য ন্যূনতম সময় দেওয়ার সময় থাকে না। এ ভাবেই অবহেলার কারণে স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে অনেকেরই। অন্যান্য রোগের মতোই হাঁটু, কোমর, ঘাড়-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যথা ইত্যাদি যাবতীয় সমস্যা আজকাল কম-বেশি সবাইকেই কাবু করছে।

যা দরকার: নিয়মিত শরীরচর্চা করা। হাঁটা। কর্মক্ষেত্রে যতই ব্যস্ততা থাকুক কিছুক্ষণ অন্তর পায়চারি করা, ইত্যাদি।

আরও পড়তে পারেন: পিছু ছাড়ছে না ব্রণর সমস্যা? এই ৭টি খাবার প্রতিরোধে সাহায্য করে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন