লাল পলাশের আগুন মেখে মালভূমির পথে পথে

0

সনৎ ব্যানার্জি

পাশাপাশি দু’টো পাহাড়। জয় আর চণ্ডী। একটি পাহাড়ের মাথায় রয়েছে মন্দির। সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হয়। অনেক সংগঠনই রক ক্লাইম্বিং-এর হাতে খড়ি দিয়ে থাকে এখান থেকেই। আরও একটা বলার মতো বিষয় হল, গুপী গাইন আর হীরক রাজার দেশের শ্যুটিং লোকেশন এখানেই বেছেছিলেন সত্যজিৎ রায়। না, যা-ই হোক না কেন, শুধু জয়চন্ডী পাহাড় দেখতে পুরুলিয়ার এই প্রান্তে যাওয়াটা অর্থহীন। এ রকম আরও কয়েকটা জায়গা দেখে নিতে বরং চলে যান রামচন্দ্রপুরের বড়ন্তিতে।
এক দিকে লমুরাডি পাহাড়। অন্য দিকে বড়ন্তি পাহাড়। মাঝে একটি লেক। বড়ন্তি একটি গ্রাম হলেও দুই পাহাড়ের মাঝের লেকটি এখানে প্রকৃতিকে অপরূপা করে তুলেছে।

boronti_ 4
বড়ন্তিতে থেকে আশেপাশের বেশ কয়েকটি দ্রষ্টব্য স্থানে ঘুরে আসা যায়। তবে হাতে কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে লাল মেঠো পথ ধরে পায়ে হেঁটে সাঁওতাল গ্রাম ঘোরাটা এই সফরে সেরাপ্রাপ্তি হতে পারে। শাল, পিয়াল আর পলাশ গাছে ঘেরা বড়ন্তি হেঁটে ঘুরলে আপনার সঙ্গী হবে বেশ কিছু অচেনা পাখির সুরেলা ডাক। মাঝে মধ্যে চোখে পড়বে বন্য প্রাণীও।
কলকাতা থেকে বড়ন্তির দূরত্ব ২৬৩ কিলোমিটার। ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার পথ। হাওড়া থেকে ট্রেনে আসানসোল। সেখান থেকে আদ্রা-আসানসোল শাখার লোকাল ট্রেনে করে মুরাডি স্টেশনে নামতে হবে। মুরাডি থেকে ভ্যান রিকশা করে গ্রামের ভিতর দিয়ে বড়ন্তি যাওয়ার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। তবে হোটেলে বলে রাখলে স্টেশনেও গাড়ি পাঠিয়ে দেয়। আসানসোল থেকেও বড়ন্তি নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ।

boronti_ 5
বড়ন্তিতে বেশ কয়েকটা হোটেল রয়েছে। কলকাতা থেকে বুকিং-এর ব্যবস্থা আছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কোথায় কী ভাবে ঘুরবেন, তার পরামর্শ নিতে পারেন। তারাই গাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে। ৩ দিন ২ রাত বড়ন্তি ভ্রমণের পক্ষে আদর্শ। দুপুরের মধ্যে বড়ন্তি পৌঁছন। স্নান-খাওয়া সেরে গাড়ি নিয়ে চলে যান পাঞ্চেৎ ড্যাম (বড়ন্তি থেকে ২২ কিমি) আর ঐতিহাসিক স্থান গড়পঞ্চকোট (বড়ন্তি থেকে ১৮ কিমি)। সন্ধে নামার আগেই হোটেলে চলে আসুন। সন্ধ্যায় ক্যাম্প ফায়ার করতে পারেন। বললে হোটেল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করে দেয়। পরের দিন ঘুরে আসুন মাইথন ড্যাম (বড়ন্তি থেকে ৩৮ কিলোমিটার), বিহারীনাথ পাহাড় (বড়ন্তি থেকে ২৫ কিমি), জয়চণ্ডী পাহাড় (২৫ কিমি)। বড়ন্তি থেকে শুশুনিয়া পাহাড়ও ঘুরে আসা যায় (৪০ কিমি)। ফেরার দিন সকালটা গ্রাম ঘুরে আসুন। সাঁওতাল নৃত্য, টুসু গানের ব্যবস্থাও থাকে।
মালভূমি অঞ্চল হওয়ায় যাত্রাপথে ছোট ছোট পাহাড় পড়বে। কালো পিচ রাস্তা ধরে শাল বনের ভিতর দিয়ে পাহাড়কে এক পাশে রেখে গাড়ি করে যাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সাধারণত পুজোর পর থেকে ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত বড়ন্তিতে পর্যটকের ভিড় থাকে। মার্চে বসন্তের সময় পলাশের লাল আগুনে রঙে সেজে ওঠে বড়ন্তি। বর্ষার প্রকৃতির অন্য রূপ দেখার জন্যও ঠিকানা হতে পারে বড়ন্তি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here