raj

 

ডঃ রাজ রিন্দানি, জুনাগড়, গুজরাত

শুধুমাত্র সৌরভ গাঙ্গুলিকে নিয়ে একটা কলম শুরু করার জন্য খবর অনলাইনকে অনেক ধন্যবাদ। আমাকে খবর অনলাইনে লিখতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমাদের ফেসবুক পেজ ‘সৌরভ গাঙ্গুলি(দাদা)’স ফ্যান ফ্রম গুজরাত’ এবং ওই পেজের অন্য অ্যাডমিন নীরব পাণ্ড্য ও দীপ ত্রিবেদীর তরফ থেকে খবর অনলাইনকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

বডোদরার মোতিবাগ স্টেডিয়ামে বাংলা বনাম বরোদার খেলা। এটা ছিল রঞ্জি লিগের লাস্ট ম্যাচ। সুপার লিগে থাকার জন্য বাংলার মরণপণ লড়াই। এই ম্যাচে হার মানেই অবনমন। সেই ম্যাচে আমরাও মাঠে হাজির ‘এসজি গুজরাত’-এর তরফ থেকে। সে দিনের অভিজ্ঞতাটাই আমি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই।

মোতিবাগের সবুজ পিচে টসে জিতে বরোদাকে ব্যাট করতে পাঠালেন দাদা। শুরুতেই উইকেট পড়ল বরোদার। কিন্তু তার পরেই ভালো পার্টনারশিপ। অনেকটা ভালো অবস্থায় এল তারা। কিন্তু মধ্যাহ্নভোজের পর দিন্দা স্বমূর্তিতে। বরোদার স্কোর দাঁড়াল ২২২-৬। তার পরেই বরোদাকে বাঁচাতে ইরফান পাঠানের আবির্ভাব। টেল- এন্ডারদের নিয়ে স্কোর রোটেট করাতে লাগলেন ইরফান। কিন্তু দাদা তো এ সব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখার পাত্র নন। হাতে তুলে নিলেন বল। গর্জন করে উঠল ‘টাইগার’। দিনের শেষ ওভারের আগের ওভারে বল হাতে দাদার আবির্ভাব। ওভারের দ্বিতীয় বলেই ইরফানের উইকেট। পরের বলেই আবার উইকেট। বরোদা দিন শেষ করল ৯ উইকেট হারিয়ে। পরের দিন প্রথম ওভারেই বল হাতে দাদা। দ্বিতীয় বলেই বরোদা অল আউট। স্কোরবোর্ডে বরোদার রান ২৮৪।

এ বার বাংলার পালা। সুপার লিগে থাকতে হলে প্রথম ইনিংসেই লিড নিতে হবে। শুরুটা কিন্তু ভালো হল না বাংলার। টপ অর্ডার খুব তাড়াতাড়ি প্যাভিলিয়নে। বাংলা ৯৮-৪। ভাগ্য তো নির্ধারিত হয়েই আছে – দাদাকে এখান থেকে হাল ধরতে হবে। তা-ই হল। দাদার দৃষ্টিনন্দন খেলা। ৬০ নট আউট। শেষ পর্যন্ত দৌড়তে গিয়ে হ্যামস্ট্রিং-এ টান। দাদা অবসৃত, ফিরে গেলেন প্যাভিলিয়নে। কিন্তু খেলায় যে সুরটা বেঁধে দিয়ে গেলেন তারই সূত্র ধরে শুক্ল আর মজুমদার বাংলাকে পৌঁছে দিলেন ৩৯০-এ।

দাদার আঘাত নিয়ে আমাদের ফেসবুক টিম কিন্তু রীতিমতো উদ্বিগ্ন। সব সময় দাদার খবর নিতে লাগলাম। স্থানীয় ক্রিকেটমহলে আমাদের যে যোগাযোগ আছে তাকে কাজে লাগালাম। এবং এটা আমার কাছে এবং আমাদের পেজের অন্যান্য অ্যাডমিনের কাছে অত্যন্ত গৌরবের মুহূর্ত, যে আমরাই প্রথম ঘোষণা করলাম দাদার আঘাত তত গুরুতর নয়। ভগবানকে অসংখ্য ধন্যবাদ। দাদার অসংখ্য গুণমুগ্ধ ভক্ত এক সময় চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল, দাদা আইপিএল ৫-এ খেলতে পারবেন তো! দাদার সুস্থতা সম্পর্কে আমরাই সবাইকে নিশ্চিন্ত করলাম।

তৃতীয় দিনে মধ্যাহ্নভোজের পর থেকে সময়টা পুরোটাই বাংলার। দিন্দা আর সৌরভ সরকারের সংহারমূর্তি। ৪৪ ওভারে ১৩৯ রানেই বরোদার দ্বিতীয় ইনিংস মুড়িয়ে গেল। বাংলা তখন ফিল্ডিং করছে। আমরা দেখলাম বাংলার টিমে দাদার সতীর্থরা দাদাকে কত সম্মান, কত শ্রদ্ধা করেন। একেবারে বাউন্ডারির ধারে ফিল্ডিং করছিলেন শুক্ল। কিছু লোক দাদাকে নিয়ে হাসি-মশকরা করছিল। শুনতে পেলেন শুক্ল। বাউন্ডারির আরও কাছে এসে হাতজোড় করে বললেন, “মেরে বারে মে জো হি বোলনা বোলো, প্যার দাদাকে বারে মে কুছ মত কহো।” এতটা শ্রদ্ধা, ভাবতেই পারা যায় না। বাংলা টিমের এক জন খেলোয়াড়, যিনি দু’ দশক ধরে খেলছেন, এবং টিমের এক জন স্টার, তিনি পর্যন্ত দাদাকে কত শ্রদ্ধা করেন, না দেখলে, নিজ কানে না শুনলে বিশ্বাস করতাম না। খেলার শেষ আমাদের টিম মেম্বাররা যখন দিন্দাকে পিডবলিউআই-তে খেলা নিয়ে প্রশ্ন করলেন, দিন্দা একটু হেসে বললেন, পিডবলিউআই-তে খেলতে তাঁর খুব ভালো লাগবে। সে বার আইপিএল ৫-এ পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়া (পিডবলিউআই) দাদার নেতৃত্বে খেলেছিল।

জয়ের জন্য বাংলার দরকার ছিল মাত্র ৩৪ রান। খুব সহজেই সেই রান তুলে নিল তারা। ওই মরশুমে বাংলার প্রথম সরাসরি জয় এবং তা এল সৌরভ গাঙ্গুলির ক্যাপ্টেন্সির সুবাদে। এটা একটা এমন মুহূর্ত যা ভোলা যায় না। স্থানীয় মানুষজনও এসজি-র নামে জয়ধ্বনি করছিল। বাংলা অবনমন থেকে বাঁচল এবং সুপার লিগে থেকে গেল। পুরোটাই সেই অসাধারণ, অসামান্য নেতা সৌরভ গাঙ্গুলির কৃতিত্ব। এর চেয়ে গৌরবের মুহূর্ত আর কী হতে পারে এসজি ফ্যানদের কাছে !

সময়টা ভালো যাক বা না-ই যাক, এসজি ফ্যান হওয়া সব সময়েই একটা গৌরবের ব্যাপার। সৌরভ গাঙ্গুলির ফ্যানেরা সব সময়েই বলে থাকেন, “ওয়ানস্‌ আ গাঙ্গুলিয়ান, অলওয়েজ আ গাঙ্গুলিয়ান।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here