খবর অনলাইন: এই তো সে দিন তিনি আবার গর্জে উঠেছিলেন।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে দেশে মুসলিমদের ঢুকতে দেবেন না। অসুস্থ শরীরে খবরটা শুনেই গর্জে উঠেছিলেন মহম্মদ আলি। ডাক দিয়েছিলেন দেশের সমস্ত মুসলিমকে এক যোগে প্রতিবাদ জানানোর।

অদ্ভুত লড়াকু চেতনা। যে চেতনাকে তিনি বয়ে এনেছেন সেই ষাটের দশক থেকে। আর এই চেতনাই তাঁকে সাহায্য করেছে গত ৩২ বছর ধরে একটা অসম লড়াই লড়তে।

তিন দশক ধরে পার্কিনসন্স রোগে ভুগছিলেন কিংবদন্তি বক্সার মহম্মদ আলি। রোগের প্রভাবে বেশ কিছু দিন কথা বলার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন তিনি। হাঁটাচলার ক্ষমতাও হারিয়েছিলেন। লড়াইও চালাচ্ছিলেন হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নের মতো। আর চালাবেন নাই বা কেন? দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই চালানোর যে অভ্যাস রয়েছে তাঁর। ১৯৭৫ সালে জো ফ্রেজারের সঙ্গে ১৫ রাউন্ড ধরে লড়াই চালিয়েছিলেন। সে লড়াই হেরে গিয়েছিলেন। আবার ফিরেও এসেছিলেন। আবার ছিনিয়ে নিয়েছিলেন তাঁর খেতাব। কিন্তু শুক্রবার রাতে তিনি হেরে গেলেন। আর ফিরবেন না। স্থানীয় সময় রাত দু’টো নাগাদ অ্যারিজোনার একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।

১৯৬০ সালের প্রথম দিকে ধুমকেতুর মতো বক্সিং জগতে আবির্ভাব হয় এই মার্কিন বক্সারের। তাঁর ধারাবাহিক পারফরমেন্স বুঝিয়ে দেয় তিনি মোটেই ধুমকেতু নন। তিনি ‘রাজ’ করতে এসেছেন বক্সিং-এর জগতে। অলিম্পিকে সোনা জিতে শুরু হয় তাঁর বর্ণময় কেরিয়ার। তার পর সেই ‘জয়’ পাওয়াকে তিনি অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। কেরিয়ারে মোট ৬১টি লড়াইয়ের মধ্যে ৫৬ টিতেই জেতেন আলি। তিন বার বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ানশিপ খেতাব জিতে অবসর নেন তিনি।

ক্যাসিয়াস ক্লে থেকে ধর্ম পরিবর্তন করে মহম্মদ আলি। ভিয়েতনাম যুদ্ধে দেশের অংশ নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করা — সবটাই তাঁর বর্ণময় জীবনের এক-একটি রঙের ছটা। বক্সিং রিংয়েও তিনি প্রজাপতির মতো ‘মুভ’ করতেন আর বোলতার মতো আঘাত করতেন প্রতিপক্ষকে।

নিজেকেই নিজে বলতেন ‘দ্য গ্রেটেস্ট’। এটা বলার মধ্যেও একটা ‘ধক’ থাকা দরকার। সেটা যে আলির ছিল, তা তিনি শেষ দিন পর্যন্ত বুঝিয়ে দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here