অলিম্পিকের প্রথম দিন ভারতকে এক রাশ হতাশাই উপহার দিল। অবশ্য শনিবার দিনটা শুরু হয়েছিল খুব ভালো একটা খবর দিয়ে। রোয়িং-এ মেন সিঙ্গলস স্কালসে হিটে তৃতীয় হয়ে কোয়ার্টার ফাইনাইলে উঠেছেন দাত্তু ভোকানাল।

এর পরই খারাপ খবরের আসা শুরু। দাত্তু যখন কোয়ার্টার ফাইনালে উঠছেন তখনই মহিলাদের শুটিং-এর ১০ মিটার এয়ার রাইফেল বিভাগে ফাইনালে যোগ্যতা অর্জনকারী রাউন্ড থেকেই ছিটকে গেলেন অপূর্বী চান্দেলা আর অয়নিকা পাল। যোগ্যতাঅর্জনকারী রাউন্ডে অপূর্বীর র‍্যাঙ্ক ছিল ৩৪ আর অয়নিকার ৪৭। অবশ্য ২০১৪-র কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতেছিলেন অপূর্বী, অয়নিকা দখল করেছিলেন রূপো।

পুরুষদের শুটিং-এর ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন জিতু রাই। তবে সেই আশা ধূলিসাৎ হয়ে গেল ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে। কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ষষ্ঠ স্থান পেয়ে ফাইনালে ওঠেন জিতু। কিন্তু ফাইনালে ৮ জনের মধ্যে প্রথমেই বিদায় নেন তিনি। তাঁর স্কোর ৭৮.৭। জিতু রাই ৫০মি পিস্তল বিভাগেও লড়ছেন। ভারতের গুরপ্রীত সিং কোয়ালিফাইং রাউন্ডেই ব্যর্থ হন। তিনি ২৫মি র‍্যাপিড ফায়ার পিস্তল বিভাগেও লড়ছেন।

লন টেনিসকে ভারতের একটা প্রধান খেলা হিসেবে গন্য করা হয়। ১৯৯৬-এর আটলান্টা অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন লিয়েন্ডার পেজ, অন্য দিকে ২০০৪-এর এথেন্স অলিম্পিকেও ব্রোঞ্জ জেতার কাছাকাছি চলে এসেছিলেন পেজ-ভূপতি জুটি। কিন্তু শনিবার রিও-তে ভারতের টেনিস আশা সম্পূর্ণ ভাবে শেষ হয়ে গেল। প্রথমে পুরুষদের ডাবলস বিভাগে পোল্যান্ডের মাতকাওস্কি-কুবত জুটির কাছে স্ট্রেট সেটে হেরে গেলেন লিয়েন্ডার পেজ-বোপান্না জুটি। খেলার ফল ৪-৬, ৬-৭। এর পর মহিলাদের ডাবলস বিভাগেও হার। প্রার্থনা তোমবারের সাথে জুটি বেঁধে তিন সেটের ম্যাচে হেরে গেলেন সানিয়া মির্জা। অবশ্য প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কিছুটা লড়াই দিতে পেড়েছিলেন প্রার্থনা-সানিয়া জুটি। ৬-৭-এ প্রথম সেট হেরে দ্বিতীয় সেট দখল করেন ৭-৫-এ। তৃতীয় সেটে ৫-৭-এ হেরে টেনিসের আশা সম্পূর্ণ ভাবে শেষ হয় ভারতের।

টেবিল টেনিসও তথৈবচ। মহিলা বিভাগে মৌমা দাস রোমানিয়ার ড্যানিয়েলা মন্টেরিও-র বিরুদ্ধে ৪-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেন। তবে কিছুটা লড়াই দিয়েছিলেন মনিকা বাত্রা। শেষ পর্যন্ত পোল্যান্ডের গ্র্যাজিবাউস্কা-ফ্রাঙ্কের কাছে ৪-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেন। পুরুষ বিভাগে পোল্যান্ডের আদ্রিয়ান ক্রিসানের কাছে ৪-১ সেটে হেরে বিদায় নেন অচন্ত শরৎ কমল এবং তাইল্যান্ডের পাদাসাকের কাছে ৪-১ সেটে হেরে বিদায় নেন সৌম্যজিৎ ঘোষ।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here