সানি চক্রবর্তী:

চার্চিল ম্যাচের পরেই কার্যত দু’ভাগ ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। আই লিগে দ্বিতীয় হারের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন একদল সমর্থক। ম্যাচশেষে রীতিমতো ধুন্ধুমার বেঁধে যায় বারাসত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে। প্রথমার্ধে জঘন্য ডিফেন্সের জেরে দুই গোল হজম করার পরে আর চেষ্টা করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি লাল-হলুদ সমর্থকরা। শান্ত গ্যালারি মাঝে কিছুটা রসদ পেয়েছিল পেইনের গোলের পরে। তবে আর গোল না আসায় ম্যাচ-শেষে সেই নিস্তবব্ধতা রূপান্তরিত হয় ক্ষোভে। স্লোগান ওঠে ‘গো ব্যাক মরগ্যান’। ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজি নিয়ে খেলিয়ে আগেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ব্রিটিশ কোচ। কিন্তু তাঁর দল ফের জয়ের সরণিতে ফেরায় সব বিতর্ক ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। আর এ দিনের হারে লিগের শীর্ষস্থান খোওয়ানোর পরেই ফের তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। একটা বড়ো অংশের সমর্থকরা যদিও এখনই ‘গেল গেল’ রব তোলার মতো কিছু দেখছেন না। লম্বা লিগে উথালপাতালকে সঙ্গী হিসেবে মেনে নিচ্ছেন। তবে অন্য দল তথা বিক্ষোভকারীরা সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। আগেও দু’দুবার মরগ্যানের কোচিংয়ে দুরন্ত অভিযান শুরু করেও শেষ দিকে খেই হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। এ বারও দ্বিতীয় লেগের চার ম্যাচে ২টি হারের পরেই ফের তাই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে দীর্ঘ ১৩ বছরের ক্ষত। মরগ্যান এ দিন হারের জন্য কাঠগড়ায় তুলেছেন দলের রক্ষণকেই। আই লিগে সব থেকে খারাপ পারফরম্যান্স, বলেছেন তিনি।

এ দিন ম্যাচ শেষে যেমন টানা বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ আয়োজকদের। সমর্থকদের হাতে প্রহৃত হয়ে হয়েছে তাঁদের। মাঠের বাইরের এই উত্তেজনার আগে রেফারি সন্তোষ কুমারের দিকে মাঠেই তেড়ে গিয়েছিলেন মরগ্যানের সহকারী ওয়ারেন হ্যাকেট। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের জেরে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক স্টেডিয়ামে বন্দি থাকতে হয়েছে রেফারিকে। ম্যাচ কমিশনার বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, “গোটা ঘটনাটাই দেখেছি, রিপোর্টেও সবটাই উল্লেখ থাকবে।” তাই মাঠের মধ্যে কোচিং স্টাফ ও বাইরে সমর্থকদের আচরণের জেরে শাস্তির মুখেও পড়তে হতে পারে ইস্টবেঙ্গলকে। 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here