ওয়েবডেস্ক: বাঙালির তো পায়ের তলায় সর্ষে। পুজোর ছুটি,গরমের ছুটি পড়তে না পড়তেই ট্রেনে চেপে বেড়িয়ে পড়ার অপেক্ষায় থাকে মন। কিন্তু তাই বলে সাইকেল? তাই বা নয় কেন? এই তো দিব্যি সপ্তাহ দুয়েকের জন্য বেরিয়ে এলেন নদিয়ার করিমপুরের জ্যোতিষ্ক বিশ্বাস। রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ। বিহার থেকে নেপাল, ভুটান, আসাম হয়ে সাইকেল এসে থামল মেঘালয়ে। ১৩৫৬ কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা ২১ বছরের জীবনে এই প্রথম। অ্যাডভেঞ্চারের টানেই মাথায় এসেছিল এমন পরিকল্পনা।
“প্রকৃতি যে এত সুন্দর, এ ভাবে বেরিয়ে না পড়লে জানতেই পারতাম না। খুব ছোটবেলায় বছর পাঁচেক অরুণাচল প্রদেশে পাহাড়ের কোলে কাটিয়েছিলাম, কিন্তু তখন কিছুই বুঝিনি”, অকপট স্বীকারোক্তি অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমী তরুণের। শিলিগুড়ির পর থেকে মেঘালয় পর্যন্ত প্রায় পুরো রাস্তাটাই বৃষ্টির মধ্যে পাড় হয়েছে জ্যোতিষ্ক। কখনও চড়াই, কখনও উতরাই। মেঘালয়ের পাহাড়ি নিসর্গ, মাওলিনং গ্রাম দেখে মুগ্ধতার রেশ এখনও ভরপুর রয়েছে বুকের মধ্যে। গিয়েছিল একাই, কিন্তু ফিরে এসেছে অজস্র মানুষের ভালবাসা আর আন্তরিকতা নিয়ে, গল্পে গল্পে সে কথাও শোনাল খবর অনলাইনকে। তাঁর কথায় “এত মানুষ, এত রকম সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় হলে এমনিতেই মনটা অনেক বড়ো, অনেক উদার হয়ে যায়”।


কলেজে পড়ার সূত্রে করিমপুর থেকে বছর দুয়েক আগে কলকাতায় আসা জ্যোতিষ্কের। ব্যারাকপুর সুরেন্দ্রনাথ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র অবসর পেলেই ডুব দেয় ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফিতে। সাইক্লিং নিয়ে নানা ভিডিও দেখতে দেখতেই দু’চাকায় ভর করে বেড়িয়ে পড়ার চিন্তাটা মাথায় আসে। এরকম সময়ে পরিচয় হয়ে যায় সাইকেলে ট্রান্স হিমালয় দাপিয়ে বেরানো চন্দন বিশ্বাসের সঙ্গে। “চন্দনদার বাহনে চেপেই তো ঘুরে এলাম এতটা পথ”, কথায় কথায় জানাল জ্যোতিষ্ক।


১৪ দিন ধরে এতটা পথ যেতে খরচ হয়েছে প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার টাকা। আর্থিক সাহায্য বেশ কিছুটা এসেছে পরিচিত দিদি অল্পা বসুর তরফ থেকে। বাকিটা জোগাড় হয়েছে পেশাদারি ফটোগ্রাফি থেকেই। এবার খানিকটা তাড়াহুড়ো করেই বেরিয়ে পড়েছিলেন। উপযুক্ত প্রমাণ, প্রশাসন স্বীকৃত অনুমতিপত্র না থাকায় বাদ পড়ে গেছে অনেকটা রাস্তা। আগামী বছর আটঘাট বেধেই বেরোতে চায় সে। এই তো সবে শুরু। ইচ্ছে থাকলে উপায় যে একটা হবেই, মনে প্রাণে তা বিশ্বাস করে জ্যোতিষ্ক। আজকের জ্যোতিষ্কদের আলোয় আগামীর পথ খুঁজে পাক বাংলার তরুণ প্রজন্ম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here