পাপিয়া মিত্র: কথা ছিল সাইকেলে পাড়ি দিয়ে ২০ দিনে গঙ্গাসাগর থেকে দার্জিলিং পৌঁছোবেন তাঁরা। কিন্তু মাত্র ১৪ দিনে ৭৫২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেন হাওড়া ও বনগাঁর পার্থ মুখোপাধ্যায় ও সুপ্রতীম মজুমদার। ‘গাছ লাগাও, প্রাণ বাঁচাও’ – এই স্লোগান নিয়ে দুই সমাজসেবী রওনা দিয়েছিলেন ১৯ মার্চ সাগরদ্বীপের ভারত সেবাশ্রম সংঘের নিমাই মহারাজের আশিস নিয়ে।

আরও পড়ুন: দু’ চাকায় দশ দিনে শিলিগুড়ি পৌঁছোলেন সুপ্রতীম-পার্থ

রুটম্যাপ অনুযায়ী পথ এগিয়েছে সরিষা রামকৃষ্ণ আশ্রম হয়ে সাঁতরাগাছি, গুড়াপ, গুসকরা, রামপুরহাট, ধুলিয়ান, মালদা। রায়গঞ্জ- কিষাণগঞ্জ হয়ে বিধাননগর থেকে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি থেকে রোহিণী হয়ে কার্শিয়াং। কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিং। তবে এটা ছিল রুটম্যাপ। দুই সমাজসেবী মাঝে মাঝে বেপথুও হয়েছেন। যেমন মালদা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে আদিনা মসজিদে অল্প সময় থেমেছেন। রায়গঞ্জ থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে কুলিক পক্ষী অভয়ারণ্য ও কুলিক নদীর পাড়, কিষাণগঞ্জ থেকে ইসলামপুরেও চাকা থামিয়ে মানুষকে ওই স্লোগানে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন।

kurseong is still one km away
কার্শিয়াং তখনও এক কিমি দূরে।
বিজ্ঞাপন

ফিরে আসার পর কথা হচ্ছিল তাঁদের সঙ্গে। শোনালেন নানা অভিজ্ঞতার গল্প। সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন রায়গঞ্জের মানব মিত্র। ফেসবুকে দেখে তিনি যোগাযোগ করেন অভিযাত্রীদের সঙ্গে। সেখানের থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। শিলিগুড়ি থেকে সুকনা, রংটং, তিনধারিয়া, গয়াবাড়ি ও মহানদী হয়ে ৪৫ কিলোমিটার দূরত্বে কার্শিয়াং পৌঁছোন। কার্শিয়াং থেকে টুং, সোনাদা, ঘুম হয়ে দার্জিলিং-এর ম্যালে পৌঁছোন পয়লা এপ্রিলের দুপুরে। শিলিগুড়ি থেকে হিমালয়ান নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের বিশিষ্টজনেরা তাঁদের সম্মানিত করেন।

আরও পড়ুন: সাগর থেকে পাহাড়, দু’ চাকা নিয়ে পথে সুপ্রতীম-পার্থ

তবে বিপরীত ছবিও দেখা গিয়েছে। সুপ্রতীম বলছিলেন, “আমাদের অভিযান শুরুর কথা জানিয়ে গঙ্গাসাগর থানা থেকে আমাদের একটি লিখিত বয়ান দেওয়া হয়েছিল। দার্জিলিং-এ পৌঁছে সেখানকার থানার ওসিকে অভিযান শুরুর বয়ান দেখিয়ে আবেদন জানাই অভিযান সম্পূর্ণ হওয়ার কথা জানিয়ে একটি লিখিত বয়ান দিতে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ওসি কিছুতেই রাজি হলেন না। পরে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের প্রিন্সিপ্যাল শুভেচ্ছা জানিয়ে শংসাপত্র দেন ও আমাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান।”

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here