Connect with us

অ্যাডভেঞ্চার

বাঘ সংরক্ষণের বার্তা দিতে দেশ ঘুরে এ বার বিদেশে পাড়ি বাঙালি দম্পতির

শ্রয়ণ সেন

এ বছর জুলাইয়ের কথা। দীর্ঘক্ষণ মোটরবাইক চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটি গাছের তলায় বাইকটিকে পার্ক করে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রীও। কিন্তু সেটা যে রথীনবাবু আর গীতাঞ্জলিদেবীর কাছে কতটা বিপদ বয়ে আনছে ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তাঁরা।

রথীনবাবু যখন গাছের তলায় দাঁড়িয়েছিলেন, সেই সময় ওই গাছের তলায় সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়েছিল এক কিশোর। রথীনবাবু তার কাছে যেতেই সে দৌড়ে কাছের একটি বাড়িতে ঢুকে যায়। কিছুক্ষণ পরেই গ্রামের পুরুষ-মহিলারা ঘিরে ধরেন তাঁদের। তৈরি হয় গণপিটুনির পরিস্থিতি।

কিন্তু সে যাত্রায় কোনো ভাবে বেঁচে গেলেও, ব্যাপারটা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তাঁরা। বরং তাঁদের বিশ্বাস, যে বার্তা ছড়িয়ে দিতে তাঁরা বেরিয়েছেন, তাতে সমস্ত প্রতিকূলতা তাঁদের অতিক্রম করতেই হবে।

বিশ্ববাসীকে বাঘ সংরক্ষণের বার্তা দিতে এক অভিনব অভিযানে বেরিয়েছেন কলকাতার বাঙালি দম্পতি রথীন্দ্রনাথ দাস ও গীতাঞ্জলি দাস। ফেসবুকে রথীনবাবু, ‘ওয়াইল্ড রথীন’ হিসেবে বেশি পরিচিত।

এ বছর ফেব্রুয়ারিতে সস্ত্রীক রথীনবাবু বেরিয়েছিলেন দেশ সফরে। পৌঁছে গিয়েছিলেন দেশের তৎকালীন ২৯টা রাজ্য ও পাঁচটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। সেই অভিযানই এ বার দেশের গণ্ডির বাইরে। আগামী মাসের শেষ দিকে, বনভূমি ও বন্যপ্রাণী, বিশেষত বাঘ সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাড়ি দিচ্ছেন তিনি আর গীতাঞ্জলিদেবী। 

কিছুটা প্রচারের আড়ালে থেকে অনন্য কাজ করে চলেছেন এই দম্পতি। সংবিধানের ৪-এ বিভাগের ৫১-এ (জি) অনুচ্ছেদটি রথীনবাবু মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে দেশের বনাঞ্চল, হ্রদ এবং বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করা তাঁর অন্যতম কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।

নিজের নেশাকেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ করে এমনই একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রথীনবাবু। পশুশিকার বিরোধী এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয়ে একাধিক কাজকর্মে তিনি নিজে হাত লাগিয়েছেন। কখনও কখনও দুঃসাহসিক কিছু অভিযানেও গিয়েছেন।

আরও পড়ুন বাঘের গহ্বরে বিকল সাফারির বাস, পর্যটকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিজেকে নিয়োজিত করার পাশাপাশি তিনি একজন অত্যন্ত সফল বাইকারও। এই বাইক নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, উদ্দেশ্য একটাই, বাঘ তথা সামগ্রিক ভাবে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে বার্তা দেওয়া।

এই অভিযান তিনি শুরু করেছিলেন ২০১৬ সালে। সে বছর ৩ অক্টোবর নিজের প্রাণের বাইক নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন, ফিরেছিলেন পরের বছর ১৩ ফেব্রুয়ারি। এই সফরে তাঁর মূল বার্তা ছিল, ‘জঙ্গল বাঁচাও, বন্যপ্রাণ বাঁচাও।’ এই সফরে দেশের ২৯টি রাজ্য আর পাঁচটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে মোট ২৭,১৩৮ কিমি সফর করেন তিনি। নিজের বার্তা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পৌঁছে যান ২২টি স্কুলে।  

এর পর ‘গণ্ডার বাঁচাও’-এর বার্তা নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ আর অসমে মোট ২৮২২ কিমি সফর করেন তিনি। এই সফরে ১৬৭টা স্কুলে বন্যপ্রাণ সংক্রান্ত সচেতনতা শিবির করেন তিনি।

এর পর তৃতীয় সফর। “কেন বন্যপ্রাণ রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য?”, দেশবাসীকে সেই পাঠ দিতেই বেরিয়ে পড়েন দু’ জন। ভারতের দশটি রাজ্যে প্রায় ৬০০০ কিমি সফর করে তাঁরা পৌঁছে যান ২৩২টি স্কুলে। 

প্রথম তিনটে সফরের সফলতার পর এ বার আরও বড়ো পরিকল্পনা করেন দু’ জনে। ‘জার্নি ফর টাইগার’ নামের এই সফরের মূল বার্তা ছিল, “প্রকৃতিকে বাঁচানোর জন্য বন্যপ্রাণ বাঁচাও!”

দেশ আর বিদেশ মিলিয়ে এই সফরকে মোট তিনটে ভাগে ভাগ করেন রথীন-গীতাঞ্জলি। তাঁর প্রথম ভাগের জন্য এ বছর ১৫ ফেব্রুয়ারিতে বেরিয়ে পড়েন দু’জনে। প্রথম লক্ষ্য ভারতের ২৯টা রাজ্য এবং পাঁচটা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সফর।

কলকাতা থেকে শুরু হয়ে প্রথমে সুন্দরবন হয়ে রথীনবাবুরা চলে যান আলিপুরদুয়ারের বক্সা। সেখান থেকে উত্তরপূর্ব ভারতের ব্যাঘ্রপ্রকল্পগুলি ঘুরে, দেশের বাকি অংশে সফর করেন। এই সফরে দেশের সব ক’টি ব্যঘ্র প্রকল্পে যাওয়াই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। তার আশেপাশের গ্রামগুলিতে বাঘ সংরক্ষণের বার্তা দিয়েছেন এই দম্পতি। তাঁদের এই অভিযানে পূর্ণ সহায়তা করেছে বিভিন্ন রাজ্যের বন্যপ্রাণ দফতরও।

১০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিযানে ছিলেন দু’জনে। মোট ২৬৯ দিনের এই অভিযানে ৩৬৪৯২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন তাঁরা। এই সফরে দেশের ৫০টি ব্যাঘ্রপ্রকল্প, ১০০-এরও বেশি অভয়ারণ্য সফর করেন তাঁরা। সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে ৩০০০টি গ্রাম আর ৬৪৩টি স্কুলে যান তাঁরা। আর এই সফর চলাকালীনই উন্মত্ত জনতার রোষের মুখেও পড়তে হয় তাঁদের।

মধ্যপ্রদেশের সাতপুরা টাইগার রিজার্ভের কাছে উন্মত্ত জনতার মুখোমুখি হয়েছিলেন দু’জনে। ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রথীনবাবু বলেন, “‘আমরা কিডনি চোর, এমন ধারণা হয়েছিল ওঁদের। কিছুতেই ওদের বোঝাতে পারছিলাম না আমাদের উদ্দেশ্যটা। এমনকি আমার সঙ্গে যে একজন মহিলা রয়েছেন, সেটাও ওঁরা বিশ্বাস করছিলেন না।”

শেষে গ্রামেরই এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন রথীনবাবু। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তিকে দেখে মনে হল উনি শিক্ষিত। বুঝলাম, ওঁকে যদি বোঝাতে পারি, তা হলে এ যাত্রায় বেঁচে যাব।”

শেষে ওই ব্যক্তির তৎপরতায় রণে ভঙ্গ দেয় উন্মত্ত ওই জনতা। ছাড়া পেয়ে যান রথীনবাবুরা।

এই ঘটনার পরেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরতে ভয় লাগে না?

এই বিপদেও হাল ছাড়েননি দু’জনে। বলছেন, ‘‘যে-শপথ নিয়ে বেরিয়েছি, তা শেষ করেই ফিরব।” সেই অভিযানের প্রথম অংশটি শেষ হয়েছে গত নভেম্বরেই। কিন্তু এ বার লক্ষ্য আরও বড়ো।

অভিযানের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অংশ শুরু হচ্ছে জানুয়ারির শেষে। এ বার তাঁদের লক্ষ্য, বাঘ রয়েছে, এশিয়ার এমন ১২টি দেশে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

আরও পড়ুন রাজস্থানের জাতীয় উদ্যানে পর্যটকদের তাড়া বাঘের, দেখুন রোমহর্ষক ভিডিও

মোট দুটি অংশে এই অভিযানকে ভাগ করেছেন তাঁরা। দ্বিতীয় অংশে মূলত আসিয়ানভুক্ত দেশ, অর্থাৎ মায়ানমার, তাইল্যান্ড, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কাম্বোডিয়া এবং লাওসে যাবেন তাঁরা। তৃতীয় তথা শেষ অংশে তাঁরা অভিযান করবেন, বাংলাদেশ, চিন, রাশিয়া, নেপাল এবং ভুটানে। প্রত্যেকটা দেশের রাজধানী ছুঁয়ে আরও গভীরে প্রবেশ করার ইচ্ছে রথীন-গীতাঞ্জলির।

তাঁদের এই অভিযানগুলির পরিকল্পনা এবং দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে হংকং-এর এশিয়ান ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার্স ক্লাব, সাউথ এশিয়ার ফোরাম ফর এনভায়রনমেন্ট (সেফ) আর ‘এক্সপ্লোরিং নেচার’ নামক তিনটি সংস্থা।

এই অভিযান শেষ করে ফিরে আসার পর বাঘ সংরক্ষণ নিয়ে একটি বই লেখারও পরিকল্পনা রয়েছে রথীনবাবুর। তবে তার আগে তাঁর একমাত্র লক্ষ্য, উল্লিখিত দেশগুলিতে নিজের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

এই সফরে বেরোনোর আগে দেশবাসী তথা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে একটা বিশেষ বার্তা দিতে চান রথীনবাবু। তিনি বলেন, “আমাদের জীবনের মূল উৎস হল জঙ্গল। কারণ জঙ্গল আছে বলেই জল, অক্সিজেন-সহ বাঁচার মূল রসদ আমরা পাচ্ছি। আর এই জঙ্গলকে বাঁচিয়ে রাখছে বন্যপ্রাণ, বিশেষত বাঘেরা। তাই বাঘ বাঁচানোর দায়িত্ব কোনো সরকারের একটা বা দু’টো দফতরের নয়, এই দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। ওরা বাঁচলে, আমরাও বাঁচব।”

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

অ্যাডভেঞ্চার

করোনাভাইরাস: এভারেস্টের দরজা বন্ধ করল নেপাল

traffic jam in everest

কাঠমান্ডু: করোনাভাইরাসের (Coronavirus) আতঙ্ক এ বার পর্বতারোহণেও প্রভাব ফেলল। এভারেস্ট-সহ বিভিন্ন শৃঙ্গের দরজা আপাতত পর্বতারোহীদের জন্য বন্ধ করে দিল নেপাল।

১৪ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পর্বতারোহণের (Expedition) যাবতীয় অনুমতিপত্র বাতিল করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে নেপাল।

শুধুমাত্র এভারেস্ট (Mount Everest) অভিযান থেকেই প্রতি বছর ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার আয় করে নেপাল। এ ছাড়াও আরও অন্যান্য শৃঙ্গ বা সাধারণ পর্যটন তো রয়েছেই। কিন্তু করোনাভাইরাসের জেরে তারা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে পর্যটনশিল্প যে বিশাল বড়ো ধাক্কা খাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের তরফে জানানো হয়েছে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোনো পর্যটন ভিসা প্রদান করবে না নেপাল। এমনকি এভারেস্ট অভিযানের জন্য যত অনুমতিপত্র প্রদান করা হয়েছে, সবই আপাতত বাতিল করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন শেয়ার বাজারে নজিরবিহীন পতন, বন্ধ রইল কেনাবেচা

উল্লেখ্য, এই এভারেস্ট মরশুমের দিকে শুধুমাত্র নেপাল সরকারই যে তাকিয়ে থাকে তা শুধু নয়, একাধিক শেরপা পরিবারের ভরসা এই মরশুম। কিন্তু করোনা আটকাতে নেপাল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা যে সবার কাছে একটা বড়ো ধাক্কা তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

বাঙালি পর্বতারোহীদের কাছেও এই ব্যাপারটা নিঃসন্দেহের ধাক্কার। কিন্তু একটা কথা সবাই এক বাক্যে মানছেন যে শরীরস্বাস্থ্য সবার আগে।

২০১৫ সালে নেপাল ভূমিকম্পের সময়ে সাংঘাতিক ভাবে ধাক্কা খেয়েছিল এভারেস্ট মরশুম। অভিযান বাতিল করে ফিরতে হয়েছিল পর্বতারোহীদের। পাঁচ বছর পর ফের এভারেস্ট মরশুমে প্রভাব পড়ল।

Continue Reading

অ্যাডভেঞ্চার

বাংলার পর্বতারোহণে ইতিহাস! নন্দাদেবী ইস্টের মাথায় বাঙালি অভিযাত্রী দল

ওয়েবডেস্ক: তেনজিং নোরগেকে একবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে তাঁর পর্বরোহণকালে সব থেকে কঠিন শৃঙ্গ কোনটি ছিল? এত অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ শেরপা সবাইকে অবাক করে কোনো আট হাজারি শৃঙ্গের নাম না নিয়ে উত্তর দিয়েছিলেন নন্দাদেবী ইস্ট! তেনজিং যখন এমন কথা বলেছেন, তখন নন্দাদেবী ইস্ট কতটা দুর্গম তা সহজেই অনুমেয়। সেই নন্দাদেবী ইস্টের মাথায় চেপে বাংলার পর্বতারোহণে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল সাউথ ক্যালকাটা ট্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন।

রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ ৭৪৩৪ মিটার (২৪,৩৮৪ ফিট) উচ্চতার নন্দাদেবী ইস্টে চার শেরপাকে নিয়ে পা রাখেন সংগঠনের সদস্য প্রদীপ বর। শনিবার রাত ১:৪৫-এ পাঁচ নম্বর ক্যাম্প বা সামিট ক্যাম্প থেকে রওনা হয়েছিলেন প্রদীপ। তাঁর সঙ্গে থাকা চার শেরপার নেতৃত্বে ছিলেন ফুর্বা শেরপা। শেষ পাওয়া খবরে, এ দিন বিকেল চারটেয় ৫ নম্বর ক্যাম্পে নিরাপদে ফিরে এসেছেন প্রদীপরা।

আরও পড়ুন নন্দাঘুণ্টিজয়ী পর্বতারোহী বিশ্বদেব বিশ্বাস প্রয়াত

গত ১৬ আগস্ট অভিযানে রওনা হওয়ার আগের মুহূর্তে

নন্দাদেবী ইস্টে অভিযান ঠিক কতটা শক্ত সেটা একটা তথ্যে আন্দাজ করা যাবে। তা হল এখনও পর্যন্ত ৩০ বার অভিযান হয়েছে এই শৃঙ্গের উদ্দেশে। এর মধ্যে সফল হয়েছে মাত্র ১৩টি। এমনকি গত মে মাসেই এই নন্দাদেবী ইস্টে উঠতে গিয়ে চির ঘুমে চলে গিয়েছেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পর্বতারোহী মার্টিন মোরান। এত দুর্গমতা সত্ত্বেও এ বার সাহস দেখিয়েছিল সাউথ ক্যালকাটা ট্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশন।

গত ১৬ আগস্ট কলকাতা থেকে রওনা হয় সংগঠনের চার সদস্যের একটি অভিযাত্রী দল। দলনেতা রাজশেখর মাইতির নেতৃত্বাধীন এই দলে প্রদীপ বর ছাড়াও ছিলেন, উপল চক্রবর্তী এবং আশিস গুপ্ত। সেই সঙ্গে ফুর্বা ছাড়াও ছিলেন আরও চার শেরপা।

২৬ আগস্ট এই দলটি বেসক্যাম্পে পৌঁছোয়। এর পর অ্যাডভান্স বেসক্যাম্প (৪৯১০ মিটার), ক্যাম্প ১ (৫৯১০ মিটার), ২ (৬০০০ মিটার), ক্যাম্প ৩ (৬৩০০ মিটার), ক্যাম্প ৪ (৬৫১৪ মিটার) এবং ক্যাম্প ৫ (৬৮৮০ মিটার) স্থাপন করতে করতে রবিবার সকালে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তারা। এখন অপেক্ষা এই অভিযাত্রী দলটির নিরাপদে ফিরে আসার।

Continue Reading

অ্যাডভেঞ্চার

হিমাচলের ছ’হাজারি শৃঙ্গ জয় করল পানিহাটির নীলকণ্ঠ অভিযাত্রী সংঘ

পানিহাটি: হিমাচল প্রদেশের ‘চন্দ্রভাগা-১২’ শৃঙ্গ জয় করল পানিহাটির নীলকণ্ঠ অভিযাত্রী সংঘ। সফল ভাবে শেষ হল এই অভিযাত্রী সংঘের ২৩তম অভিযান।

সমুদ্রতল থেকে প্রায় ৬,২৩০ মিটার (২০,৪০০ ফুট) উচ্চতার এই শৃঙ্গ জয় করতে গত ২৯ আগস্ট রওনা দেন এই সংঘের সাত সদস্য। এই দলে সব থেকে বয়স্ক অভিযাত্রী ৭২ বছরের অমিয়কুমার বড়ুয়া এবং কনিষ্ঠতম অভিযাত্রী ২১ বছরের দুই তরুণ, প্রতনু দাস এবং অনিকেত সামন্ত। বাকি চার সদস্য হলেন শান্তনু চট্টোপাধ্যায়, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া বিশ্বাস এবং সন্দীপ বসু।

গত বছর জুলাইয়ে আকস্মিক ভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন পর্বতারোহণ জগতে খুব পরিচিত মুখ অরুপম দাস। নিজের পর্বতারোহণ জীবনে ২৩ বার বিভিন্ন শৃঙ্গ জয় করা অরুপমবাবুর স্মৃতিতে এই অভিযানে নেমেছিল নীলকণ্ঠ।

২ সেপ্টেম্বর বেসক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সমুদ্রতল থেকে ৪৪০০ মিটার উচ্চতায় একটি জায়গায় এই ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। দু’ দিন এই ক্যাম্পে অবস্থান করে ৫ সেপ্টেম্বর শৃঙ্গের দিকে অগ্রসর হয় অভিযাত্রী দলটি। বেসক্যাম্পে থেকে যান অমিয়বাবু, শান্তনুবাবু এবং অভিজিৎবাবু। বাকি চার অভিযাত্রীর সঙ্গে ছিলে তিন জন শেরপা, ডুকপা শেরিং, তেনজিং নরবু এবং পুরবা শেরপা।

আরও পড়ুন নাইটহুড পেলেন সৌরভকে ‘প্রিন্স অব ক্যালকাটা’ আখ্যা দেওয়া জেফ্রি বয়কট

৬ সেপ্টেম্বর শৃঙ্গজয়ের দিকে আরও কিছুটা এগিয়ে ক্যাম্প ২ স্থাপন করা হয়। এখান থেকে বেসক্যাম্পে ফিরে আসেন মহুয়া। ওই দিন রাত ১:৪০ (৭ সেপ্টেম্বর) ‘সামিট পুশ’ করেন প্রতনু, অনিকেত ও সন্দীপ। আবহাওয়া ভালো থাকলেও পথ মোটেও ভালো ছিল না বলে জানিয়েছেন শান্তনুবাবু। ৭ তারিখ সকাল ৭:০৫-এ চন্দ্রভাগা-১২ শীর্ষে পৌঁছে যায় এই অভিযাত্রী দল। প্রথমেই সেখানে অরুপমবাবুকে স্মরণ করে তাঁর একটি ছবি রাখা হয়। সেখানে পুজো দিয়ে আবার বেসক্যাম্পের পথে রওনা হয়ে যায় দলটি।

Continue Reading
Advertisement
বিনোদন22 mins ago

জর্জ টেলিগ্রাফ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট-এর সূচনা, মেন্টরের দায়িত্বে পরিচালক সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়

রাজ্য3 hours ago

রেকর্ড সংখ্যক টেস্ট, মৃত্যুর সংখ্যাতেও রেকর্ড, তবে রাজ্যে সুস্থতার হার ছুঁল ৭০ শতাংশ

রাজ্য3 hours ago

সিপিএম নেতা মোহাম্মদ সেলিম কোভিড পজিটিভ, হাসপাতালে ভরতি

রাজ্য4 hours ago

লকডাউনের সূচি ফের বদলাল রাজ্যে

দেশ5 hours ago

বুধবার থেকে খুলছে জিম, স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নির্দেশিকা প্রকাশিত

দেশ6 hours ago

আত্মতুষ্টির ফল ভুগছি: পিনারাই বিজয়ন

বিদেশ6 hours ago

সেপ্টেম্বরের মধ্যেই টিকটক কিনতে পারে মাইক্রোসফট

দেশ6 hours ago

‘ভগবান রামের ইচ্ছে’, ভূমিপুজোর আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন অযোধ্যার অন্যতম মামলাকারী ইকবাল আনসারি

রবিবারের খবর অনলাইন

কেনাকাটা

things things
কেনাকাটা3 days ago

করোনা আতঙ্ক? ঘরে বাইরে এই ১০টি জিনিস আপনাকে সুবিধে দেবেই দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে এবং বাইরে নানাবিধ সাবধানতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে। আগামী বেশ কয়েক মাস এই নিয়মই অব্যাহত...

কেনাকাটা6 days ago

মশার জ্বালায় জেরবার? এই ১৪টি যন্ত্র রুখে দিতে পারে মশাকে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একে করোনা তায় আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এই সময় প্রতি বারই মশার উৎপাত খুবই বাড়ে। এই বারেও...

rakhi rakhi
কেনাকাটা2 weeks ago

লকডাউন! রাখির দারুণ এই উপহারগুলি কিন্তু বাড়ি বসেই কিনতে পারেন

সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে মনের মতো উপহার কেনা একটা বড়ো ঝক্কি। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধান করতে পারে অ্যামাজন। অ্যামাজনের...

কেনাকাটা2 weeks ago

অনলাইনে পড়াশুনা চলছে? ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ৪০ হাজার টাকার নীচে ৬টি ল্যাপটপ

ইনটেল প্রসেসর সহ কোন ল্যাপটপ আপনার অনলাইন পড়াশুনার কাজে লাগবে জেনে নিন।

কেনাকাটা2 weeks ago

করোনা-কালে ঘরে রাখতে পারেন ডিজিটাল অক্সিমিটার, এই ১০টির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারেন

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে এই অক্সিমিটার।

কেনাকাটা3 weeks ago

লকডাউনে সামনেই রাখি, কোথা থেকে কিনবেন? অ্যামাজন দিচ্ছে দারুণ গিফট কম্বো অফার

খবরঅনলাইন ডেস্ক : সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে দোকানে গিয়ে রাখি, উপহার কেনা খুবই সমস্যার কথা। কিন্তু তা হলে উপায়...

laptop laptop
কেনাকাটা3 weeks ago

ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ২৫ হাজার টাকার মধ্যে এই ৫টি ল্যাপটপ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : কোভিভ ১৯ অতিমারির প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে চলছে লকডাউন ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম। অনেকেই অফিস থেকে ল্যাপটপ পেয়েছেন।...

কেনাকাটা3 weeks ago

হ্যান্ডওয়াশ কিনবেন? নামী ব্র্যান্ডগুলিতে ৩৮% ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনাভাইরাস বা কোভিড ১৯ এর সঙ্গে লড়াই এখনও জারি আছে। তাই অবশ্যই চাই মাস্ক, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ।...

কেনাকাটা4 weeks ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা4 weeks ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

নজরে

Click To Expand