ওয়েবডেস্ক: কলকাতার তাপমাত্রার পারদ নামলে কী হবে, উত্তেজনার পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা পেরিয়ে অবশেষে স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছনো। সেভেন সামিটের শেষ ধাপ ভিন্সন ম্যাসিফ অভিযানের প্রস্তুতি পর্ব চরমে। আগামী ৩০ নভেম্বর কলকাতা থেকে আন্টার্কটিকার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন সত্যরূপ সিদ্ধান্ত। কলকাতা থেকে আমস্টার্ডাম হয়ে চিলি। দক্ষিণ মেরুর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ অভিযান সফল হলে অসামরিক ক্ষেত্রে দেশের প্রথম বাঙালি সপ্তশৃঙ্গজয়ী হবেন সত্যরূপ।

আরও পড়ুন; ‘আমার লড়াইটা এ রাজ্যের যে কোনো পর্বতারোহীর মতোই’: সত্যরূপ সিদ্ধান্ত

এবারের অভিযান অবশ্য ভিন্সন ম্যাসিফেই শেষ নয়। সামিট পরবর্তী অভিযানের তালিকাটা বরং বেশ লম্বা। দক্ষিণ মেরুর ৮৯ ডিগ্রি থেকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত ১১১ কিলোমিটার পথ স্কি করবেন সত্যরূপ এবং তাঁর সঙ্গীরা। নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে দলের বাকি পাঁচ সদস্য যোগ দিচ্ছেন অভিযানে। অভিযানের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হচ্ছে  জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। চিলি এবং ব্রাজিলের দুই পর্বতারোহীকে সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন সেখানে। চিলির বেশ কিছু পর্বতারোহণ থাকছে সত্যরূপের তালিকায়- মাউন্ট টার্ন, সিয়েরা হার্মানোস, কোপিয়াপো আগ্নেয়গিরি, ওজোস দেল সালাদো (চিলির সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এবং পৃথিবীর সরবোচ্চ আগ্নেয়গিরি)। সবশেষে থাকছে আর্জেন্টিনা আর চিলির সীমান্ত বরাবর দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেস ক্রুসেস অভিযান। ২০১৫-এর মার্চে এই পর্বতেই সফল অভিযান সেরেও ঘরে ফেরা হয়নি মল্লি মস্তান বাবুর। ভারতের প্রথম সেভেন সামিটারের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ট্রেস ক্রুসেসকে বেছে নেওয়া সত্যরূপদের।

সেভেন সামিট, অর্থাৎ সাত মহাদেশের সাত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছোঁয়া। বেঙ্গালুরুপ্রবাসী সত্যরূপের সেভেন সামিটের শুরুটা হয়েছিল ২০১২ সালে আফ্রিকার কিলিমাঞ্জারো দিয়ে। বছর পাঁচেকের মধ্যে স্বপ্নের শেষ ধাপের কাছাকাছি চলে আসা। পেছনের লড়াইটা অবশ্য অজানাই থেকে যায় বেশির ভাগ মানুষের কাছে। অভিযানের বিপুল ব্যয়ভার বহন করতে সম্প্রতি বাকি অভিযানের সময় দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা স্মারক নিলামে ওঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে অবশ্য মোট খরচের বেশ কিছুটা উঠে আসে কয়েকটি স্পন্সরশিপ আর সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রাউড ফান্ডিং-এর মাধ্যমে। স্বপ্ন দেখার পথ গোলাপ বিছানো হয় না বলেই হয়তো স্বপ্ন ছোঁয়ার জেদটা বেড়ে যায় সত্যরূপদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here