পাপিয়া মিত্র: রাস্তা বড়োই দুর্গম ও ভয়ানক। বরফ-তুষার-পাথর আর চির নিঃশব্দ পর্বতসঙ্কুল সেই অসাধারণ পৃথিবী মনের ওপর যে প্রভাব ফেলে তা ভাষায় ব্যক্ত করার নয়। মনে হয় এ অনন্ত, অসীম। কিন্তু কোনো পর্বতই অনন্ত নয়। পর্বতারোহণেই এক জন মানুষ নিজেকে বুঝতে শেখে তার মানবিক ও শারীরিক লড়াইয়ের ক্ষমতা। কারণ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই চলে না। তাই পাহাড়ে অভিযান চালানো মানে প্রতি পদক্ষেপে নগাধিরাজকে চেনা, প্রকৃতিকে সম্মান জানানো।

শিখর মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব ৩৫ বছর ধরে যে ৪১টি অভিযান করেছে তা এই পথ ধরেই। তাই এ বছরও বাদ যাচ্ছে না। ২৩ জুলাই কলকাতা ছাড়ছে শিখরের সদস্যরা। গোপাল দাসের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের এ বারের অভিযান হিমাচল হিমালয়ের চৌ চৌ কাং-নিল্ডা শৃঙ্গ (৬৩০৩ মিটার)। লাহুল-স্পিতি জেলায়, কাজা থেকে ১৩ কিমি উত্তর-পূর্বে এই ‘চৌ চৌ কাং-নিল্ডা’ তথা ‘আকাশে নীল চাঁদ’।

শিখরের অভিযান শুরু ১৯৮১ থেকে। শুরু থেকে টানা ছ’বছর সফল অভিযানের তালিকাও খারাপ নয়। তবে পাহাড়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা চলে না। তাই কখনও বিফল মনোরথ হয়ে ফিরতে হয়েছে বই-কি। কিছু দিনের অপেক্ষা, তার পরেই আবার পরের অভিযানে যাওয়ার জন্য মন-প্রস্তুতি, পড়াশোনা, অনুমতি পত্রের জন্য লেগে পড়া।

এ বারের অভিযান ৩৬ বছরে পড়ল। তাই কাহিনির পাল্লা বেশ ভারীর দিকে। নানা অভিযানের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য অভিযানটি ছিল ‘সহস্রাব্দ মহিলা পর্বতাভিযান-২০০০’। রাজ্যের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অসীম দাশগুপ্ত মহাকরণে অভিযাত্রীদের হাতে জাতীয় পতাকা সংবলিত তুষার-গাঁইতি তুলে দিয়ে ওই নামকরণ করেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরও এক সিনিয়র অভিযাত্রী, দিপালী সিনহা। শিখর মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব আয়োজিত সম্পূর্ণ মহিলাদের দুঃসাহসিক এই অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের মেয়েরা এসেছিলেন, যোগ দেন মণিপুরের মেয়েও। এই ‘সহস্রাব্দ মহিলা পর্বতাভিযান-২০০০’ হারিয়ে যাওয়ার নয়, অন্তত শিখরের দিনলিপি থেকে। সমতল থেকে ২০,৩৭৫ ফুট উঁচুতে আনন্দে চোখে তিন কন্যার জল। রাজুভাট, বিষাণ ও গালবু –তিন শেরপা ভাইয়ের হাতছানি আর ক্লাইম্বিং লিডার রূপার চিৎকারে সম্বিত ফিরে পান আইনবি ও বর্ণালী। চতুরঙ্গী পর্বতশৃঙ্গে আমাদের তিন কন্যারা। রাজুভাইয়ের ডাক, ‘রূপা আ যাও, তুম নে সামিট কর লিয়া’। রূপা সাঁতরার চিৎকার, ‘চলে আয় তোরা, আমরা চলে এসেছি’। আনন্দে একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে ওখানেই বর্ণালী মুখোপাধ্যায়, আইনবি আর রূপা।

সে দিনের স্মৃতি — ‘সহস্রাব্দ মহিলা পর্বতাভিযান-২০০০’।

শ্রীকৈলাশ, সুদর্শনের দক্ষিণ অংশ, কামেট, আবি গামিন, পূর্ব হিমালয়ের রাতোং, লাডাকের গুলাপ কাংরি, শিব শৃঙ্গ, কেদারডোম, নান-সহ বহু অভিযানের সদস্যদের এ বারের যাত্রা হিমাচল হিমালয়ের চৌ চৌ কাং-নিল্ডা শৃঙ্গ (৬৩০৩ মিটার)। ২০১৬-তে শিখরের অভিযানটি ছিল হিমাচল হিমালয়ের স্পিতি অঞ্চলের চেম্মা শৃঙ্গ (৬১০৫ মিটার)।

শুভেচ্ছা রইল অভিযাত্রীদের প্রতি।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

1 মন্তব্য

  1. Sobcheye age dhonnobad janai papiya Mitra ke jini esob tukro tukro khobor amader modhye choriye dicchen..tar lekha pore Swapna bhese jai Kichu muhurte jonno..somosho ghotona gulo eto sohojbhabe kolome dhoren je pronobonto hoye othe.asa Rakhi ro lekha porbo janbo.

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here