মধুমন্তী চট্টোপাধ্যায়

“সে ই পাহাড়ের পায়ের কাছে থাকবে গহন অরণ্য,
আমি সেই অরণ্য পার হয়ে যাবো,
তারপর শুধু রুক্ষ কঠিন পাহাড়।”

কবি সুনীল কি এরকমই কোনো পাহাড় কিনে রাখতে চেয়েছিলেন নদীর বদলে? হতেও পারে, ওপরের ছবিটা দেখে প্রথমেই মনে পড়ে গেল এই কটা লাইন। সদ্য কলেজ পাশ করা এক তরুণের তোলা। ঋজু ভাদুড়ি। নামটা চেনা চেনা লাগছে? হতেও পারে। মাস তিনেক আগে মানালি থেকে লেহ হেঁটে পাড়ি দিয়েছিল ২২ বছরের ঋজু। বন্ধুর এই পথে বন্ধুও জুটিয়ে নিয়েছিল সে, শিবেন রায়- পরিচয় একসঙ্গে কাজ করার সূত্রে। ১০০ কিলোমিটার রাস্তা খুবই বিপজ্জনক হওয়ায় সাহায্য নিতে হয়েছিল ট্রাকের। বাকি পথটা দুই সঙ্গী পেড়িয়ে এসেছে পায়ে হেঁটেই।

কেমন ছিল ১৪ দিনের অভিজ্ঞতা? দিনের আলো থাকতে থাকতে ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেন তাঁরা। রাতে মাথা গোজার ঠাই বলতে কাছে পিঠে কোনো অতিথিনিবাস। রাঁধুনি বা সহায়কের কাজ করে দিলে বেঁচে যেত থাকা খাওয়ার খরচা। দিনের খরচ হিসেবে বরাদ্দ ছিল শ’দুয়েক টাকা। পয়সা বাঁচাতে লেহ পৌঁছে অ্যাডভেঞ্চার সংস্থার হয়ে অভিযানের গাইড হিসেবেও কাজ করেছেন শ্রীরামপুরের ঋজু।

২০১৬তে দার্জিলিং-এর হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে বেসিক কোর্স করার আগে অ্যাডভেঞ্চারকে পেশা হিসেবে নেওয়ার কথা ভাবেননি ম্যানেজমেন্ট পাশ করা এই ছাত্র। বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন একটি অ্যাডভেঞ্চার সংস্থার সঙ্গেই।

আচ্ছা, লাদাখ থেকে ফিরে কি তবে এই শহরেই কেটেছে এ ক’টা মাস? তা কখনও হয়? গেল মাসেই তো ফিরলেন মন্দানি উপত্যকার অভিযান সেরে। এই অভিযানে আবার পেরোতে হয়েছে খান তিনেক গিরিখাত, যার মধ্যে উচ্চতমটি প্রায় ৪৭০০ মিটার ওপরে। এই পথেই পড়েছে মন্দানি মন্দির, হিন্দু পুরাণে বলে এখানেই নাকি মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন মা দুর্গা।

এক চুড়োর রেশ বুকে নিয়েই ঋজু ছুটে যায় অন্য কোনো চুড়োয়। সাগর পাড়ি দিয়ে খুব শিগগির পৌঁছে যাবে ফিলিপিন্স-এ। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহেই। এবার গন্তব্য সে দেশের পুলাগ পাহাড়।

কীসের টানে ঋজুরা ফিরে ফিরে যায় পাহার চুড়ায়? কেন, কবি তো বলেই গিয়েছেন,

” কে না জানে পাহাড়ের চেয়ে নদীর দামই বেশি।
পাহাড় স্থানু, নদী বহমান।
তবু আমি নদীর বদলে পাহাড়ই কিনতাম।
কারণ আমি ঠকতে চাই।”

ছবি সৌজন্য: সূর্য গায়েন

1 মন্তব্য

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here