আইজল এফসি- ১(রালতে)  মোহনবাগান-০

আইজল: এখনও হালকা দু’-একটা  ‘যদি’, ‘কিন্তু’ পূরণ হওয়া বাকি। যেমন, শেষ ম্যাচে যদি লাজং-এর কাছে আইজল হেরে যায় এবং শেষ ম্যাচে জেতে মোহনবাগান, তা হলে আই লিগ ২০১৭-র গতি পালটে বাংলায় চলে আসতেও পারে। কিন্তু সে সব হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ কামো, আলামনা, রালতে, আলবিনো, আশুতোষ, জয়েশ রানেদের যে স্বপ্নের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন খালিদ জামিল, তার থেকে ফিরে আসা এখন ওদের পক্ষে কঠিন। ভারতীয় ফুটবলে বাংলা, গোয়ার সঙ্গে পাল্লা দিতে উঠে এল উত্তরপূর্ব। অবনমন থেকে ফিরে এসে আই লিগ জিতে ভারতের লেস্টার সিটি হওয়ার মুখে আইজল এফসি।

হ্যাঁ। মাত্র এক দিন অনুশীলন করে প্রায় ৪০০০ ফুট উচ্চতায় মানিয়ে খেলা কঠিন। তা-ও আবার লিগের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। তার ওপর ম্যাচ চলাকালীন দীর্ঘ সময় বৃষ্টি হয়েছে, মাথার খুব কাছেই ছিল মেঘ। তবু মোহনবাগানের এ দিনের পারফরমেন্সকে আলাদা করে খারাপ বলার জো নেই। ডার্বি জয়ের পর থেকে দলটা নাগাড়ে খারাপই খেলে চলেছে। দীর্ঘ আই লিগ খেলে যাওয়ার মতো ফিটনেস যে এই দলের নেই, তা আগেই বোঝা গেছে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লিগের শেষের দিকে এসে ডাফির অফ ফর্ম। শনিবার ম্যাচের ৩ মিনিটের মাথায় তিনি ওয়ান টু ওয়ানে যে সুযোগটা নষ্ট করেন, তাতে আইজলের গোলকিপারের কৃতিত্বের চেয়ে স্ট্রাইকারের ব্যর্থতাই বেশি। জেজে এই মরশুমটা জঘন্য খেলেছেন। কিন্তু এ দিন নিজের ঘরের মাঠে যেন সব চেয়ে খারাপ খেলাটা খেললেন। বাঁচিয়ে দিচ্ছিলেন সনি নর্দে। এ দিনও কিছু ঝলক দেখিয়েছেন। কিন্তু এই দলকে পার করা তাঁর কম্ম ছিল না। আশুতোষ মেহতা ৯০ মিনিট তাঁকে যে ভাবে মার্ক করে রাখলেন, তার জন্য আশুতোষের পাশাপাশি কোচ খালিদকেও কৃতিত্ব দিতেই হয়।

প্রথমার্ধে হল ম্যাড়মেড়ে খেলা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে সবুজমেরুনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে লাল জার্সি। খালিদের ম্যাচ রিডিং ঠিক ছিল। হাঁপিয়ে যাওয়ার কথা ছিলই সবুজমেরুনের। সেটাই হল। আলামনা, কামো, রানেরা ছিঁড়ে খেয়ে নিলেন ‌মোহনবাগানকে। তবু মোহনবাগানের ডিফেন্স দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করছিল আইজলকে। কিন্তু সারাক্ষণ চমৎকার খেলা রাজু গায়কোয়াড়ের ছোট্টো ভুলেই আলামনার কর্নারে মাথা ছুঁয়ে গোল করে দিলেন রালতে। টানা ৩ মিনিটে ৩টে কর্নারের চাপ নেওয়াটা ভারী হয়ে গিয়েছিল মোহনবাগানের পক্ষে।

ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট ২০ আগে নেমে প্রবীর দাস মোহনবাগানের আক্রমণে গতি আনেন। কিন্তু এ দিনের ডাফি আর জেজে-র মতো স্ট্রাইকার সামনে থাকলে কিছুতেই বুঝি কিছু হওয়ার নয়। জেজে-র বদলে বলবন্তকে নামালেন বটে সঞ্জয়। কিন্তু কেন অতক্ষণ জেজে-কে মাঠে রাখলেন, সে প্রশ্নের মুখে তাঁকে পড়তেই হবে।

১৭ ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট হল আইজলের, ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে পর পর দু’বার রানার আপ হওয়ার যন্ত্রণা বাগান-শিবিরে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here