আইজল এফসি-১(লালনুনফেলা)  লাজং-১(ডিপান্ডা ডিকা)

মোহনবাগান-২(কাতসুমি, ডাফি)  চেন্নাই সিটি-১(নন্দকুমার)

কলকাতা ও শিলং: যে সব মোহনবাগান দর্শক টিভি-তে আইজল-লাজং এর ম্যাচ দেখছিলেন, তারা হয়তো ভুলে যাওয়ার ওষুধ খাবেন আজ রাতে। মোহনবাগান জিতলেও আইজল না হারলে আই লিগ জয়ের কোনো সম্ভাবনা ছিল না সবুজ মেরুনের। তাই ৭৬ মিনিটে ডাফির গোলে (অবশেষে ডাফি আবার গোল দিলেন, তবে একটু দেরি হয়ে গেল) সঞ্জয় সেনের দল ২-১ -এ এগিয়ে যাওয়ার পর সবুজমেরুন সমর্থকদের চোখ ছিল পাহাড়ের দিকেই।

৬৬ মিনিট পর্যন্ত ১ গোলে এগিয়ে থাকার পর ঘরের মাঠে গোল খেয়ে গেছিল লাজং। তবে গোটা ম্যাচটাই এ দিন প্রচুর ভুল করছিল খালিদ জামিলের তরুণ তুর্কিরা। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপেই হয়তো। তবে গোল শোধ করার পর তারা কিছুটা খেলায় ফেরে। খেলার গতি কমিয়ে দিয়েছিলেন জামিল। তবু ম্যাচের ইনজুরি টাইমে হঠাৎই আইজল রক্ষণে বিপুল চাপ তৈরি করল লাজং (এ দিন তাদের জার্সি ছিল লাল)। আইজলের ডিফেন্সের তখন দিশাহারা অবস্থা। আই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা (এই ম্যাচেও গোল করেছেন) ডিপান্ডার নিশ্চিত গোলের শটটা বারে লাগল। তার ১ মিনিটের মধ্যেই ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে পারল না লাজং। আইজলের গোলকিপার সহ পুরো দলটাই তখন মাঠে দৃশ্যতই ঈশ্বরকে ডাকছেন। না দেখলে যা বিশ্বাস করা কঠিন। লাজং-এর হতাশাকে ১০০ গুন ছাপিয়ে তাদের টেনশন। এ ভাবেই একটু পর শেষ হয়ে গেল ম্যাচ। অবনমন থেকে ফিরে আই লিগ জিতল আইজল। উত্তরপূর্ব থেকে প্রথম চাম্পিয়ন পেল আই লিগ।
কিন্তু ২০১৭ সালের আই লিগ তখনও শেষ হয়নি। সেটা হল আরও মিনিট দুয়েক পর। রবীন্দ্র সরোবরে তখনও ইনজুরি টাইমের খেলা চলছে। যদিও তখন আর তাতে প্রাণ নেই। খেলার কখনও মনে হয়নি চেন্নাই সিটি জিতবে। তবু ম্যাচের ৩১ মিনিটে গোল দিয়ে এগিয়ে যায় তারা। যথারীতি একের পর এক গোল মিস করছিলেন ডাফি, বলবন্তরা। ওদিকে তখন লাজং এগিয়ে, তাই আশায় বুক বাঁধছিলেন মোহন সমর্থকরা। হাফটাইমের একটু আগে গোল করে সমতা ফেরালেন পুরো আই লিগটা চুটিয়ে খেলা সবুজমেরুন অধিনায়ক কাতসুমি। তার পরের কাহিনি বলা হয়ে গেছে।

এ বারের আই লিগের হিরো অবশ্যই আইজল কোচ খালিদ জামিল। আর সেখানেই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন মোহন কোচ সঞ্জয় সেন। এত ভালো টিমটার কেন তীরে এসে তরী ডুবল, তার ময়নাতদন্ত করতে গেলে হয়তো অনেক কারণই সামনে আসবে। তবে প্রথম ৮-৯টা ম্যাচের পর মোহনবাগান যে দ্বিতীয়ার্ধে দাঁড়িয়ে যেতে শুরু করেছিল, সেটা কিন্তু লিগের মাঝে বিশ্রাম পেয়েও কাটেনি (ডার্বি বাদে)। বড়ো প্লেয়ারদের দক্ষতায় অতিরিক্ত ভরসা রেখে ফিটনেসে কি কিছু কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল? মোহন কর্তারা নিশ্চয় ভাববেন।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here