নয়াদিল্লি: ভারতীয় দলের কোচ নির্বাচন নিয়ে নাটকে নতুন মোড়।

শোনা যাচ্ছিল কুম্বলে-কোহলি দ্বন্দ্ব এমনই তীব্র আকার নিয়েছে যে কুম্বলে ভারতীয় দলের কোচ রাখা মুশকিল। গত শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে সে কথা অবশ্য উড়িয়ে দেন ভারতীয় অধিনায়ক। যদিও তাঁদের সমস্যা সামলাতে লন্ডন উড়ে গেছিলেন বিসিসিআই-এর তিন কর্তা।

শোনা যাচ্ছিল কুম্বলের নানা কাজে খুশি নয় বিসিসিসিআই। তাই তাঁকে সরাতে চেয়ে কোচের জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। ওদিকে কোচ নির্বাচনে ক্যাপ্টেনের কথাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিবাদ করে(আরও নানা কারণের সঙ্গে) কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস থেকে পদত্যাগ করেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ।

শোনা যাচ্ছিল ভারতীয় দলের কোচ হতে পারেন বীরেন্দ্র শেহওয়াগ। ‘দেশপ্রেমিক’ শেহওয়াগকে কোচ করার জন্য বিসিসিআই-এর উপর মহলে চাপ রয়েছে। এও শোনা যায়, কোচ হওয়ার ‘নিশ্চয়তা’ না পেলে কোচের পদের জন্য আবেদন করবেন না বীরু। শেষ পর্যন্ত তিনি আবেদন করেন। তাঁর ২ লাইনের বায়োডাটা নিয়ে প্রচুর চর্চা হয় গোটা দেশে। বীরু ছাড়াও আবেদন করেন লালচাঁদ রাজপুত এবং টম মুডি সহ চার বিদেশি।

বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, কুম্বলে যেহেতু কোচ রয়েছেন, তাই তাঁকে আলাদা করে আবেদন করতে হবে না। এমনিতেই তাঁকে বিবেচনা করবেন সিএসি(ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি)। সৌরভ, সচিন ও লক্ষ্মণকে নিয়ে তৈরি ওই কমিটিই গত বছর কোচ করেছিল কুম্বলেকে। এ বারও দায়িত্বে তাঁরাই।

কিন্তু এত কিছুর পর জানা যাচ্ছে কুম্বলে নতুন করে আবেদন করেছেন কোচ পদের জন্য।

কীভাবে হল এই পালাবদল। সৌরভ, সচিন, লক্ষ্মণ- তিনজনেই এখন ইংল্যান্ডে। ভারতীয় দলে তাঁর প্রাক্তন সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা না করেই কি আবেদন করেছেন কুম্বলে!!! প্রায় অসম্ভব। শুধু আবেদনই নয়, সঙ্গে ভারতের বিদেশে টেস্ট জয়ের একটি রোডম্যাপও নাকি জমা দিয়েছেন কুম্বলে। অতএব বোঝাই যাচ্ছে, কোচ থেকে যাওয়ার ব্যাপারে ক্ষমতাশালী মহল থেকে আশ্বাস পেয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের সফলতম বোলার।

শেহওয়াগ বারবারই ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, কুম্বলের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াতে চান না তিনি। অনিলের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা আছে। ১ বছর ভারতীয় দলের বাইরে থাকার পর কুম্বলের অধিনায়কত্বেই ২০০৭-০৮-এর অস্ট্রেলিয়া সফরে দলে ফেরেন বীরু এবং সফল হন। বোঝাই যাচ্ছে, কুম্বলে থাকতে চান জানলে শেহওয়াগ নিশ্চয় আবেদন করতেন না। অর্থাৎ নতুন যা ঘটছে, সবই আবেদন জমা পড়ে যাওয়ার পর।

১৮ জুন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শেষ হওয়ার আগেই ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটি কোচ ঠিক করে ফেলবে বলে খবর। এক দশক আগে সৌরভ-চ্যাপেল বিতর্ক সকলেরই মনে এখনও দগদগে। তবু সব ক্ষমতা ক্যাপ্টেনের হাতে তুলে দিতে নারাজ সচিনরা।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন