boxer

ওয়েবডেস্ক: ভারতের জার্সিতে এশিয়ান গেমসে রুপো জিতেছিলেন তিনি। ২০১০ সালে অর্জুন পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন। তিনি হরিয়ানার ৩০ বছর বয়সি বক্সার দীনেশ কুমার। তবে এই মুহূর্তে তিনি হরিয়ানার ভিয়ানিতে একজন কুলফি বিক্রেতা। ‘দীনেশ কুলফি’ নামক নিজের ঠেলা গাড়িতে কুলফি বিক্রি করেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি। অনেকেই তাঁকে দেশের আগামী বক্সিং তারকা হিসাবে ভেবেছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালে সামানাতে একটি দুর্ঘটনায় তাঁর সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়। একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে তাঁর গাড়ির।

দেশের বিভিন্ন টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ১৭টি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। সর্বভারতীয় সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর ছোটো ভাই বলেন, “জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দেশকে ও অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে। বাবা ওকে ইংল্যান্ড এবং বিদেশে পাঠানোর জন্য প্রচুর টাকা ধার করেছিল। এই মুহূর্তে ওর লক্ষ লক্ষ টাকার ধার রয়েছে। যার ফলে আমাদের অবস্থা এই মুহূর্তে খুবই খারাপ। সরকার থেকেও এই মুহূর্তে কোনো সাহায্য আসছে না। এবং কেউ জানতেও চায় না আমরা কেমন আছি। এটা যদি অন্য কারও সঙ্গে হত তাহলে চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা হত”।

সর্বভারতীয় সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দীনেশ জানান, “সরকার আমাকে অর্থ বা চাকরি দিয়ে কোনো সাহায্য করবে, এমন আশা এই মুহূর্তে আমি দেখছি না। আমার দুর্ঘটনার পর থেকে কোনো রাজনৈতিক দলই আমাকে সাহায্য করেনি। আমি সরকারকে জানাতে চাই যে আমি একজন ভালো ক্রীড়াবিদ হয়েও এখানে সময় নষ্ট করতে বাধ্য হচ্ছি। আমি আমার পরিবারকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করতে চাই সব ঋণ শোধ করে। তারপর ফের বক্সিং রিঙে ফিরতে চাই। আমি বক্সিংয়ে নিজের টাচ এখনও হারাইনি। এবং এই মুহূর্তে বাচ্চাদের কোচিং করাতে ব্যস্ত। আমার কোচিংয়ের অনেক বাচ্চাই এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের সেরাটা দিচ্ছে। তবে আমি কারও থেকেই কোনো টাকা নিই না”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here