অ্যাসেনসিও-গোলায় বার্সাকে ‘রিয়াল’ ডোজ, স্প্যানিশ সুপার কাপও মাদ্রিদের

0

রিয়াল মাদ্রিদ – ২ (অ্যাসেনসিও, বেঞ্জিমা)  বার্সেলোনা – ০

(দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে জয়ী রিয়াল মাদ্রিদ)

সানি চক্রবর্তী: ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে কার্যত দাদাগিরি দেখাল রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগে ন্যু ক্যাম্পে ঠিক যেখানে ম্যাচটা শেষ করেছিল জিনেদিন জিদানের ছেলেরা, এদিন শুরু করল সেখান থেকে। মিনিট চারেকের মধ্যে গোটা টাইয়ের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো গোলটা করে ফেললেন সেই মার্কো অ্যাসেনসিও। গতম্যাচের শেষলগ্নে করা গোলের থেকেও এদিনের গোলটি আরও বেশি দর্শনীয়। আর প্রথমার্ধের শেষদিকে স্যামুয়েল উমটিটিকে বোকা বানিয়ে করিমা বেঞ্জিমা করলেন আরও একটা গোল। আগাগোড়া দখল রেখে গ্যালাকটিকোস শিবির এল ক্লাসিকো জিতল ২-০ ব্যবধানে। দুই লেগ মিলিয়ে ফল ৫-১। কদিন আগেই ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ জিতেছিল রিয়াল। এদিন তারা তুলে নিল স্প্যানিশ সুপার কাপ। লা লিগা শুরুর আগেই দুটো ট্রফি জেতা হয়ে গেল জিদানের দলের। আর রোনাল্ডোদের কোচ হিসেবে জিদান ১৮ মাসে সাত নম্বর ট্রফিটা জিতলেন। প্রাইভেট বক্সে বসে যেটা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করলেন নির্বাসিত রোনাল্ডো, পরে যোগ দিলেন সেলিব্রেশনে। গত ম্যাচে হারের পরে এদিন বার্সেলোনার থেকে চমকপ্রদ ফুটবলের আশায় ছিলেন ফউটবলপ্রেমীরা। বিশেষ করে গত মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্যারিস সাঁ জাঁ-র বিরুদ্ধে শতাব্দীর সেরা প্রত্যাবর্তনের পরে। তবে এদিন সেই বার্সার ছিঁটেফোঁটা পাওয়া গেল না। আগের ক্লাসিকোর দিনেই নেইমারের অভাব চোখে পড়ছিল স্পষ্টভাবে। এদিনও তার ব্যতিক্রম হল না। পাশাপাশি এর্নেস্তো ভেলভের্দের ৩-৫-২ ছক বুমেরাং হয়ে ফিরে এল শুরু থেকেই। রক্ষণে প্রচুর ফাঁক ফোকর তৈরি হচ্ছিল বারবার। বিশেষ করে দুরন্ত গতির রিয়ালের পালটা আক্রমণের সামনে মাঝেমধ্যেই অসহায় লাগছিল পিকে-মাসচেরানো-উমটিটিকে। পাশাপাশি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা না থাকায় মাঝমাঠে দখলদারীর জায়গাটাও কমতে থাকল। অপরদিকে, রোনাল্ডো নির্বাসিত। তা সত্ত্বেও বেল-ইসকো-ক্যাসামিরোকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন জিদান। ভরসা রেখেছিলেন অ্যাসেনসিও-লুকাস ভাসকাস-কোভাচিচদের উপরে। কোচের ভরসার মর্যাদা দিয়ে বিদ্যুত গতিতে শুরুর পরে ৪ মিনিটের মাথায় এদিন রিয়ালকে লিড এনে দেন অ্যাসেনসিও। বার্সার ক্লিয়ারেন্স ধরে গোলের প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের গোলার মতো ডিপ খাওয়ানো শট। পা থেকে বেরিয়ে শূন্যে ভেসে এসে টের স্টেগেনকে দাঁড় করিয়ে রেখে গোঁত খেয়ে জালে জড়ায় বল। আগের ম্যাচের দুরন্ত গোলের পরে এদিনের গোল। মালোরকায় জন্মানো এই ২১ বছরের ফুটবলার ধীরে ধীরে প্রমাণ রাখছেন কেন রিয়ালভক্ত রাফায়েল নাদাল খোদ ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিতো পেরেজকে ফোন করে তার জন্মস্থানের এই ফুটবলপ্রতিভাকে সই করাতে সেধেছিলেন।  
বার্সেলোনা গোল খেয়ে পালটা কিছুটা চেষ্টা করলেও তাদের প্রয়াসে গোল শোধ করার মতো ঝাঁঝ একেবারেই ছিল না। তার মাঝেই ৩৩ মিনিটে লুকাস ভাসকাসের বাঁ পায়ে রাখা শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। নাহলে বড্ড তাড়াতাড়ি হাড়গোড় বেরিয়ে যেত তাদের। যদিও সেটা হতে বেশি সময় লাগেনি। ৩৯ মিনিটে মার্সেলোর ক্রস ধরে রিয়ালের পক্ষে ২-০ করেন বেঞ্জিমা। এক্ষেত্রে উমটিটিকে বোকা বানান তিনি। পিছনে ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে থেকে দ্রুত গতি বাড়িয়ে উমটিটিকে টপকে এসে বল রিসিভ করে চকিত শটে বুদ্ধিদীপ্ত গোল করে যান বেঞ্জিমা। আরও পড়ুন: লাল কার্ডেও ঝলমলে, ম্যাচ জেতানো গোলে ক্লাসিকো রোনাল্ডোময় দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি একবার সুয়ারেজের মরিয়া প্রয়াস ক্রসবারে লাগে। ব্যস এইটুকুই। মেসির শট নাভাস আটকালে রিবাউন্ড এসে পড়েছিল সুয়ারেজের কাছে। শরীর ছুঁড়ে দিয়ে রাখা সুয়ারেজের হেড করলেও লাভ হয়নি। যেমন কোনো কাজে আসেনি তাদের আরও একাধিক প্রয়াস। আক্রমণের ভেদশক্তি না থাকায় রিয়ালের শক্তিশালী রক্ষণকে বেগ দিতেও পারেনি বার্সা। আর খুনে, দাপুটে ফুটবলে যোগ্য দল হিসেবেই ট্রফিটা তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ।]]>

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন