সানি চক্রবর্তী :

এক দিকে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির হাতছানি, অপর দিকে দু’ বছর ধরে হয়ে চলা ক্ষতে মলম দিয়ে হিসেবনিকেশ মেলানোর ছক। আইএসএলের প্রথম ফাইনালের মুখোমুখি দুই দল ফের আর এক বার সামনাসামনি। তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কলেবরে। কারণ দু’ বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে আতলেতিকো দে কলকাতা ও কেরালা ব্লাস্টার্স দুই দলের। সেই ফাইনালের সংযোজিত সময়ে যে মহম্মদ রফিকের গোলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল হাবাসের এটিকে, তিনি এখন কেরালা দলের মাঝমাঠের ভরসা। আবার প্রথম আইএসএলেই সচিনের দলের জার্সিতে নিজের জাত চেনানো ইয়ান হিউম আবার মোলিনার এটিকের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। তাই আগের কাসুন্দি এখন ইতিহাস। ফাইনালে সচিন-সৌরভের দলের লড়াই ছাড়া প্রায় পুরোটাই নতুন মোড়কে আসছে ফাইনালের আসরে।

আর এ বারের ফাইনালে স্টিভ কোপেলর দলের সব থেকে বড়ো শক্তি হতে চলেছে স্বয়ং কোচির মাঠ। প্রায় ৬০ হাজার সমর্থকের হলুদ সমুদ্রে প্রথম বার কোনো ফুটবলার নামলে ঘাবড়ে যেতেই পারেন। কারণ, সমর্থকদের আবেগ সেখানে থাকে আকাশছোঁয়া। হ্যাঁ, কলকাতার আবেগকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতোই। ম্যাচ চলাকালীন দু’জনের মাঝে একটা সিটের পার্থক্য হলে পাশের লোকের কথা শোনা যায় না জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে। এমনই তীব্রতা সেই হলুদ সমুদ্রের গর্জনের। মোলিনার দলের কাছে চ্যালেঞ্জটা সেখানেই। মাঠে কেরালার এগারো জন ছাড়াও স্টেডিয়ামের মধ্যের পরিবেশে স্নায়ুর চাপটা ধরে রাখা। এমনিতেই দু’দল যে রকম ছন্দে রয়েছে, তাতে ফাইনালের আগে ক্লিয়ার ফেভারিট বাছাটা মুর্খামি। তবে শুধু কোচিতে খেলা বলেই টুর্নামেন্টের সব থেকে ধারাবাহিক দল এটিকে এ দিন নামবে আন্ডারডগ হয়ে। বিনীথ-সন্দীপ নন্দীরা তো বলেই দিচ্ছেন কেরালা দলের সমর্থকদের জন্য ট্রফিটা জিততে চাই।

মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ন’টি পরিবর্তনের ‘স্বাভাবিকত্ব’ থেকে সরে এসে হাতে থাকা সেরা একাদশই মাঠে নামাতে চাইবেন মোলিনা। তাই আপফ্রন্টে হিউম-পোস্তিগার জুটি খেলার শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে। কেরালা ডিফেন্সে হেংবার্ট-সন্দেশ জুটি ও তাদের সামনে দাঁড়ানো মেহতাবকে টপকে গোলের খাতা খুলতে বেশ বেগ আগে পেতে হয়েছে কলকাতাকে। মুম্বই ম্যাচে শেষ দিকে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ায় দুই ম্যাচের জন্য নির্বাসিত হয়েছেন বেলেনকোসো। তাই পরিবর্ত হিসেবে তাঁর নামার কোনো সম্ভবনা নেই। ডিফেন্সে লেউট ব্যাক রবার্টও গত ম্যাচে লাল-কার্ড দেখায় নির্বাসিত। সে ক্ষেত্রে গত ম্যাচের মতোই কিগান তাঁর স্থান নিতে পারেন। মাঝমাঠে বোরহার সঙ্গী কারা হন সেটাও দেখার। এ বারে কলকাতার জার্সিতে সেরা দুই আক্রমণাত্মক বিদেশি লারা ও দ্যুতি। তাদের পালটে নাকি এক সঙ্গে ব্যবহার করেন সেটাও দেখার। কারণ ডিপ ডিফেন্সে গত ম্যাচে ছিলেন সেরোনো ও তিরি। এই ম্যাচেও তাঁরা খেললে ছয় বিদেশি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক জন পরে নামতে পারেন। সেটা পোস্তিগা বা হিউমের মধ্যেও কেউ এক জন হতে পারেন। পাশাপাশি আক্রমণের সঙ্গে বোরহার সঙ্গী হিসেবে পিয়ারসন বা জুয়েলের মতো এক জন ব্লকারের কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে মোলিনাকে। কারণ বিনীথ, বেলফোর্ট সমৃদ্ধ কেরালার নতুন অ্যাটাকিং লাইন যথেষ্ট ভয়ঙ্কর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here