সানি চক্রবর্তী :

আইএসএলের সেরা দুই দলের সেরা দুই স্তম্ভ মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন শেষ লগ্নে। এটিকের দেওয়াল তথা শেষ প্রহরী দেবজিতের কাছে আটকে গেলেন কেরালা ব্লাস্টার্সের সেড্রিক হেংবার্ট। কেরালার বিপুল হলুদ জনসমুদ্রে বারবার ভেসে উঠছিল কাট-আউটটা, কেরালার গোলের সামনে স্মম্ভ হয়ে দাঁড়ানো হেংবার্টকে টপকানো সম্ভব নয়। গোটা ফাইনালের ১২০ মিনিটে বেশ বোঝা গিয়েছে সচিনের দলের সমর্থকরা কেন এতটা ভরসা করেন এই বিদেশি ডিফেন্ডারকে। তবে সেই হেংবার্টই পেনাল্টি শুটআউটের শেষ শটে আটকে গেলেন। দেবজিতকে ডান দিকে ফেলে মাঝখানে শটটা রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু দুরন্ত রিফ্লেক্সে বাঁ পায়ে শটটা আটকে দিলেন দেবজিত।

debjitকলকাতার দ্বিতীয় বার ট্রফি জয়ের মোমেন্ট এটাই। উত্তরপাড়ার টুনির দুরন্ত শেভের পরে ঠান্ডা মাথায় বাকি কাজটা সারতে কোনো ভুল করলেন না বজবজের জুয়েল রাজা। ৪-৩ ব্যবধানে পেনাল্টি শুটআউটে জিতে মোলিনা শহরে এনে দিলেন দ্বিতীয় বার ভারতসেরার ট্রফিটা।

rajaঅনেক নিন্দুকই হয়তো এটিকের এই জয়কে ভাগ্যের সাহায্য বলবেন। কিন্তু মনে মনে তাঁরা অস্বীকার করতে পারবেন না ফাইনালে দুই দলের পার্থক্যটা ছিল উনিশ-বিশের। এ দিন শেষ লগ্নে ঠান্ডা মাথায় বিশটা উপহার দিয়েছে কলকাতাই। আর এটিকের সমর্থকরা বুক বাজিয়ে বলতেই পারেন, ভাগ্য তো চ্যাম্পিয়নদেরই সঙ্গী হয়। আর মোলিনা যে কতটা হিসেবনিকেশ কষে এ দিন নেমেছিলেন, বা বলা ভালো শেষ লগ্নে দলের কম্বিনেশনটা ঠিক ফর্মেশনে আনতে পেরেছিলেন, বোরহার সঙ্গে প্রথম থেকে জুয়েলকে নামিয়ে দেওয়াটাই তার প্রমাণ। এ দিন দুই দলই ছিল প্রায় দুর্ভেদ্য। প্রথমার্ধে দুই দলেরই ডিফেন্স একটা করে ভুল করে, আর দুই ক্ষেত্রেই হেডে গোল হজম করতে হয় তাদের। কতটা মস্তিষ্ক ও হিসেবনিকেশের লড়াইটা এ দিন মোলিনা ও কোপেলের মধ্যে চলেছে, তার জন্য কি এই তথ্য যথেষ্ট নয়? ৩৭ মিনিটে কর্নার থেকে মহম্মদ রফির গোলে লিড নেয় কেরালা দল। এ ক্ষেত্রে দেবজিতের রিফেলক্স কিছুটা কাঠগড়ায় উঠতে পারত ম্যাচের ফল অন্য রকম হলে, কিন্তু যার শেষ ভালো তার সব ভালোর মতোই রাতটা নিজেদের করে গেলেন দেবজিতরা। কেরালার গোলের পরে হলুদ গ্যালারির গর্জন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে একই ভাবে সেরেনো গোল করে যান। সন্দেশকে টপকে হেডে গোল করেন এ দিনের ম্যাচসেরা পর্তুগিজ ডিফেন্ডার। দ্বিতীয়ার্ধে ফাটা মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েও খেলা চালিয়ে গেছেন তিনি। শেষ দিকে তাঁকে তুলে নিতে আরেক ডিফেন্সিভ ব্লকার নাতোকে নামিয়ে বোরহাকে আক্রমণে ওঠার লাইসেন্স দেন মোলিনা। তার আগে পোস্তিগাকে তুলে জাভি লারাকে নামিয়েছিলেন তিনি। তবে কেউই সে ভাবে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরীক্ষার মধ্যে ফেলতে পারেননি। দূর পাল্লার কিছু শটে গোলরক্ষকদের ডাইভ গ্যালারির টেনশন বাড়ালেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাতে প্রয়োজনীয় ভেদশক্তি ছিল না।

molinaট্যাকটিক্যাল ম্যাচের শেষে স্নায়ুর যুদ্ধে জেতার পরে কেরালার সমর্থকদের মাঠঘুরে যে ভাবে অভিবাদন জানান এটিকে ফুটবলাররা, তাতে কলকাতায় তাদের সমর্থক সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়াটাই স্বাভাবিক। সোমবারই আইএসএল ট্রফি নিয়ে শহরে ফিরছে চ্যাম্পিয়নরা। বিকেলে কোয়েস্ট মলে ট্রফি নিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাতে হাজির থাকার কথা গোটা দলেরই।

The Cup returns to Mecca of Indian Football, the place where it belongs.#ATK #KERvATK #AamarBukeyATK #LetsFootball pic.twitter.com/LA3vqrEPrI

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here