শৈবাল বিশ্বাস

মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে কলকাতার টিম হিসাবে জায়গা করে দেওয়া হলে আইএসএল থেকে টিম তুলে নিতে পারে আতলেতিকো দে কলকাতা।

অবিশ্বাস্য শোনালেও ঘটনা সে দিকেই এগোচ্ছে। গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত দ্রুত বদলানোয় আদৌ সঞ্জীব গোয়েঙ্কা ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের টিম আইএসএল-এ খেলবে কিনা তা নিয়ে গভীর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আসলে আইএসএল-এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইএমজিআর চাইছে যে কোনও মূল্যে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে খেলাতে। কারণ, ফুটবলের জনপ্রিয়তার বেশির ভাগটাই জুড়ে আছে এই দু’টি দল। ভারতীয় ফুটবলকে পয়সা এনে দেয় এই দু’টি দলের সমর্থকরাই। গোটা দেশ জুড়ে শুধু নয়, বিদেশেও অন্তত পাঁচ লক্ষ মানুষ প্রতিনিয়ত এই দু’টি দলের খেলা দেখেন। শুধুমাত্র কলকাতাতেই দু’ দলের খেলা থাকলে গড়পড়তা ২০ লক্ষ মানুষ খেলা দেখেন। সুতরাং আইএসএল-এর ব্যবসা বাড়াতে হলে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে অতি অবশ্যই লিগে ঢোকাতে হবে বলে তারা মনে করে।

ঘটনার গতিপ্রকৃতি যে দিকে এগোচ্ছিল তাতে কয়েকটি প্রশ্নে মোহন-ইস্ট কর্তারা বেঁকে বসেন। আপত্তির কারণগুলি হল:

১) তারা কোনো ফ্রাঞ্চাইজি ফি দিতে রাজি নয়।

২) তাদের কলকাতায় মাঠ দিতে হবে। তারা কলকাতার টিম হিসাবেই খেলতে চায়।

৩) তারা দু’টি লিগ খেলবে না। ফেডারেশন তাদের আই লিগ খেলার ব্যাপারে বাধ্য করতে পারবে না।

প্রথম আপত্তি, অর্থাৎ ফ্রাঞ্চাইজির ব্যাপারে গতকালই মীমাংসা হয়ে গিয়েছে। গতকাল ফেডারেশনের সভাপতি প্রফুল্ল পটেল টেলিফোনে এই দুই ক্লাবের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের বলা হয়, স্পনসর খুঁজে দেওয়ার দায়িত্ব ফেডারেশনও নেবে। একাধিক বড় ব্র্যান্ড এই দুই ক্লাবকে নেওয়ার জন্য বসে আছে। ইস্টবেঙ্গলকে আলট্রাটেক সিমেন্ট ও মোহনবাগানকে রিলায়েন্স জিও স্পনসর করতে রাজি আছে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলগুলিই। স্পনসররা দলের হয়ে ফ্রাঞ্চাইজি ফি দিয়ে দেবে। দ্বিতীয় আপত্তি কলকাতায় খেলা নিয়ে। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিজে উদ্যোগী হয়ে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে আইজিএমআরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রও আইএসএল-এর অন্যতম মালিক নীতা আম্বানির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁকে জানানো হয়, এই দুই ক্লাবকে কলকাতায় খেলতে না দিলে তেমন আয় হবে না। জানা গেছে, এই শর্ত মেনে আইএসএল-এর নিয়ম বদলাতে রাজি হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দুই দলই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে তাদের হোম গ্রাউন্ড হিসাবে দেখাতে পারবে। আতলেতিকো রবীন্দ্র সরোবরকে হোম গ্রাউন্ড হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। কলকাতার মালিকরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই বক্তব্য মানছেন না। তাঁরা বলেছেন, শর্ত অনুযায়ী কলকাতার টিম হিসাবে তাঁরা খেলার সুযোগ পেয়েছেন। কাজেই অন্য দলকে সুযোগ করে দেওয়ার অর্থ হল তাঁদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা ও চুক্তিভঙ্গ করা। তাঁরা বলছেন, মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল সুযোগ পেলে তাঁদের স্পনসররা বেঁকে বসবে। কলকাতায় তাঁদের সমর্থক পাওয়ারও অভাব হবে। টিভি ভিউয়ারশিপ কমে যাবে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের লোকসান নিশ্চিত।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই বক্তব্য মানতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে আতলেতিকো কর্তারা জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন