ইংল্যান্ড ৩০২ এবং ১৯৫

অস্ট্রেলিয়া ৩২৮ এবং ১৭৩-০ (ওয়ার্নার ৮৭ অপরাজিত, ব্যানক্রফ্‌ট ৮২ অপরাজিত)

ব্রিসবেন: তৃতীয় দিন প্রথম সেশন পর্যন্ত এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কার্যত কোনো আশাই ছিল না। এর ৪৮ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই চরম একপেশে ভঙ্গিকে ম্যাচটি নিজেদের পকেটে পুরে নিল স্মিথবাহিনী। ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে অ্যাসেজ সিরিজ শুরু অস্ট্রেলিয়ার।

অস্ট্রেলিয়াকে এ রকম একপেশে একটা ফল নিজেদের ক্রিকেটভক্তদের উপহার দিতে পারবে, অ্যাসেজ সিরিজ শুরু হওয়ার আগে সেটা ভাবাও সম্ভব ছিল না। যাবতীয় চর্চা ছিল রুটের ইংল্যান্ডকে নিয়ে। ২০১০-এর পর আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটি থেকে সিরিজ নিয়ে ফিরবে তারা, এমনই ধারণা ছিল বিশেষজ্ঞদের। এর কারণও ছিল অবশ্য। দু’টি দলের সাম্প্রতিক ফর্ম।

গত বছর এই সময়েই ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খুইয়েছে স্মিথবাহিনী। এ বছরের শুরুতেই ভারতেও সিরিজ হার। অন্য দিকে একই দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে হারিয়ে টগবগে ইংল্যান্ড। কিন্তু সব রেকর্ড উলটে গেল, ব্রিসবেন টেস্টেই। অক্ষত থাকল গত ২৯ বছরের ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার না হারার রেকর্ড।

যার জন্য অস্ট্রেলিয়ার এই রেকর্ড অক্ষত থাকল তিনি আর কেউ নন স্বয়ং অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। তৃতীয় দিন প্রথম সেশনের পর অজিরা যখন ম্যাচ থেকে বেরিয়ে গিয়েছে তখন তিনিই দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন। লৌহকঠিন মানসিকতায় একটি অসাধারণ শতরান উপহার দেন ক্রিকেটভক্তদের। তাঁকে যোগ্য সংগত দেন নীচের দিকের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ২৬ রানের লিড পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

তৃতীয় দিনের পরের দু’টি সেশনে বোলিং ব্যর্থতাই দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের ব্যাটিং-এ মারাত্মক প্রভাব ফেলে। স্টার্ক-হেজেলউডদের আগুনে পেস এবং ন্যাথান লিয়নের স্পিনের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ব্রিটিশ ব্যাটিং। অধিনায়ক রুট দলের হয়ে কিছুটা লড়াই দেন। মঈন আলি এবং জনি বেয়ারস্টোও কিছুটা সামলান অজি বোলিংকে। তবুও ১৯৫-এর বেশি যেতে পারেনি ইংল্যান্ড।

শেষ ইনিংসে জেতার জন্য ১৭০ রান খুব একটা কঠিন না হলেও, সহজও নয়। বিশেষ করে বিপক্ষে যখন ব্রড, অ্যান্ডারসনদের মতো বোলার রয়েছে। কিন্তু আদতে দেখা গেল দুই অজি ওপেনার ওয়ার্নার এবং ব্যানক্রফ্‌ট ইংল্যান্ড বোলিংকে ভোঁতা করে দিলেন। চতুর্থ দিনের শেষে বিনা উইকেটে ১১৪ উঠে গিয়েছিল। বাকিটা শেষ করার জন্য পঞ্চম দিন শুরু প্রথম ঘণ্টাটাই নেন এই দুই ব্যাটসম্যান। নিজের অভিষেক টেস্টই অ্যাসেজ। সেখানে আবার নিজের জয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে যাওয়া। ক্রিকেট কেরিয়ার শুরুর জন্য আর ভালো সুযোগ হয়তো কোনো দিন পেতেন না ব্যানক্রফ্‌ট।

জয়ের পরে অজি অধিনায়ক এবং এই ম্যাচের সেরার পুরস্কার পাওয়া স্মিথ বলেন, “যে কোনো সিরিজের প্রথম টেস্টটা জিতে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেটা যদি অ্যাসেজ হয় তা হলে গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। দলের সবাই খুব ভালো খেলেছে। নিজের ইনিংসে যথেষ্ট সন্তুষ্ট লাগছে।” অন্য দিকে হারের জন্য মোক্ষম সময়ে দলের বোলিং এবং ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই দায়ী করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here