বাইচুঙের জন্য খেলোয়াড় রাখতে সমস্যায় পড়ছে মোহন-ইস্ট, সমাধান-সূত্রের খোঁজে গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী

0
8589
শৈবাল বিশ্বাস

এতদিন যিনি মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলে খেলে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছিলেন, এবার তিনিই খেলোয়াড়দের স্বার্থ দেখার নামে এই দুই বড়ো দলের টিম তৈরি করার ব্যাপারে বাগড়া দিচ্ছেন বলে অভিযোগ।

এবার আইএসএল শেষ হতে পাঁচ-ছ মাস লেগে যাবে। পাশাপাশিই চলবে আই লিগ। খেলোয়াড়রা সেই কারণে হয় আই লিগে খেলতে পারবেন, নয়তো আইএসএল-এ। দুটি লিগে খেলার কোনো প্রশ্নই নেই। তাই ফুটবলাররা পড়েছেন আতান্তরে। কোথায় খেলবেন তাঁরা- আইএসএল না আই লিগ, অনেকেই সে ব্যাপারে কোনো স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দ্বারস্থ হয়ে জানতে চাইছেন, কী করা যায়। কোনটা খেললে লাভবান হওয়া যাবে। অর্থাৎ মোহন-ইস্টের হয়ে আই লিগ খেললে ভালো হয় নাকি আইএসএল।

আরও পড়ুন: রিলায়েন্স, আলট্রাটেক-কে টেক্কা দিয়ে মোহন-ইস্টের স্পনসর হওয়ার লড়াইয়ে বহু সংস্থা

প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন পরামর্শ দিচ্ছে, ভালো চাও তো আইএসএল-এই খেলো। মোহন-ইস্ট বেশি দর দিতে চাইলেও এ বছর আই লিগ খেলো না কারণ সামনের বার একটাই লিগ হবে, আর দুটো লিগ হলেও আই লিগের গুরুত্ব বলতে কিছুই থাকবে না। দুই প্রধানকে নতুন লিগে নেওয়া হবে কি না, তাতে সন্দেহ আছে। সে ক্ষেত্রে তোমরা হয়তো ক্লাব খুঁজে পাবে না। অনেক কম টাকায় মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল বা গোয়ার টিমের হয়ে খেলতে হবে।  প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে বাইচুং ব্যক্তিগত ভাবে অনেককেই বোঝাচ্ছেন, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলে খেলে সময় নষ্ট করো না। দীর্ঘ মেয়াদে বেশি পয়সা রোজগার করতে হলে আইএসএল-এ যাও।

তবে সনি নর্দে আই লিগ খেলার ব্যাপারে ষোল আনা নিশ্চিত, কারণ আইএসএল খেললে পরিবারের সঙ্গে থাকা যাবে না, কিন্তু মোহনবাগানে খেললে সে সমস্যা নেই। অন্যদিকে আইএমজিআর বিদেশি ফুটবলারদের জন্য যে টাকা বেঁধে দিয়েছে, তাতে মোহনবাগানে খেলায় সনির কোনো আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে না। এর সঙ্গে মোহনবাগানের সঙ্গে সম্পর্কের দিকটা তো আছেই।

সবাই জানেন, প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রেনেডি সিং হলেও আসল কর্তৃত্ব কিন্তু বাইচুঙের হাতেই রয়েছে। গত মাসের সাত তারিখে আইএসএল না আই লিগ, এই বিতর্কে এএফসি সিঙ্গাপুরে যে সভা করেছিল, তাতে খেলোয়াড়দের হয়ে বাইচুং-ই সেখানে গিয়েছিলেন। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ফুটবলারদের ব্যাপারে তাঁর মতামতের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। সম্প্রতি ফুটসল অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে তিনি আবার এআইএফএফ-এর কাউন্সিল সদস্য হয়েছেন। ফলে এক ধাক্কায় তাঁর ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এ হেন একজন গুরুত্বপূর্ণ লোক যখন আইএসএল-এ খেলার পক্ষে সওয়াল করছেন, তখন তা শুনতে হবে বইকি। শুধু ভারতীয় ফুটবলাররাই যে তাঁর কথা শুনছেন এমনটা নয়। বিদেশিরাও এখন অনেকটাই বাইচুং-মুখী হয়ে পড়েছেন। তাই সনি নর্দে বা কাতসুমি ইয়ুসারাও কোথায় খেলবেন, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিচ্ছেন।

সম্প্রতি রাজু গায়কোয়াড়, বলবন্ত সিং-রা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁরা আইএসএল-এ খেলবেন। অথচ বলবন্তের সঙ্গে মোহন-কর্তাদের কথা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। মোহনবাগানের সহসচিব সৃঞ্জয় বসু বেশ প্রত্যয় নিয়েই জানিয়েছিলেন, বলবন্ত তাঁদের হয়েই খেলবেন। কিন্তু প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের মন্ত্রে গোটা ব্যাপারটাই উল্টে গেছে।

তবে সনি নর্দে আই লিগ খেলার ব্যাপারে ষোল আনা নিশ্চিত, কারণ আইএসএল খেললে পরিবারের সঙ্গে থাকা যাবে না, কিন্তু মোহনবাগানে খেললে সে সমস্যা নেই। অন্যদিকে আইএমজিআর বিদেশি ফুটবলারদের জন্য যে টাকা বেঁধে দিয়েছে, তাতে মোহনবাগানে খেলায় সনির কোনো আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে না। এর সঙ্গে মোহনবাগানের সঙ্গে সম্পর্কের দিকটা তো আছেই।

সে যাই হোক, বাইচুং-বাহিনীর এ হেন কীর্তির ব্যাপারে মোহন-ইস্ট কর্তারা কি হাত গুটিয়ে থাকবেন? জানা গিয়েছে, গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পর্রিকর গোয়ার ক্লাবগুলিকে কথা দিয়েছেন, তিনি কেন্দ্রের ক্রীড়ামন্ত্রী বিজয় গোয়েলের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান বের করবেন। সব খেলোয়াড়ই যাতে দুটি লিগ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খলেতে পারে, এ ধরনের কোনো ফর্মুলা বের করার ব্যাপারে তিনি চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here