বার্সিলোনা-৩(মেসি ২, রাকাতিচ)     রিয়াল মাদ্রিদ-২(কাসেরিমো, হামিস)

মাদ্রিদ: পৃথিবী জুড়ে বহু বাবা-মা নিশ্চয় তাঁদের ছেলের নাম ইতিমধ্যেই মেসি রেখেছেন। আরও অনেকেই রাখবেন ভবিষ্যতে। কিন্তু শুধু তো মানুষের নাম নয়, কত কিছুরই নাম হতে পারে মেসি। তা সে ফুল হোক বা ক্ষেপণাস্ত্র। যদি বলা যায়, ৯০ মিনিট ধরে মাদ্রিদের মাঠে এদিন ফুল ফুটিয়েছেন মেসি, কারও আপত্তি করার প্রশ্ন নেই। আবার যদি বলা যায়, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হানায় তছনছ করে দিয়েছেন রিয়ালকে, তাহলেও বা কি কেউ আপত্তি করবেন? মনে হয় না।

খেলার ফল দেখে মনে হতে পারে, রবিবারের এল ক্লাসিকোয় দুর্দান্ত লড়াই হয়েছে। গোলের হিসেবে, গোল করে এগিয়ে যাওয়া এবং গোল শোধের পুনরাবৃত্তি ধরলে, তা হয়েছে নিশ্চয়। এমনকি ৭৭ মিনিটে অধিনায়ক রামোস লাল কার্ড দেখে(মেসিকে আটকাতে গিয়েই) বেরিয়ে যাওয়ার পরও ৮৫ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদের গোল শোধ নিশ্চয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে অক্ষত থাকবে অনেক দিন।

কিন্তু সেসবই টুকরো টুকরো বিষয়। সামগ্রিক ভাবে ৯০ মিনিটকে দেখলে, এদিন রিয়ালের ডিফেন্সকে তছনছ করে দিয়েছেন মেসি, সুয়ারেজ, রাকিতিচ, পিকে, আলবা, ইনিয়েস্তারা। রিয়ালের দুটি গোলই কাউন্টার অ্যাটাকে এবং খেলার গতির বিরুদ্ধে।

তবে পাশাপাশি এদিন চমকে দিয়েছেন দু’দলের গোলকিপারই। গোটা দুয়েক দারুণ সেভ করেছেন বার্সার জার্মান গোলকিপার টের স্টেগান। আর রিয়ালের কোস্টারিকান গোলকিপার নাভাস যে কতগুলো নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন তার কোনো হিসেব নেই। নইলে এই ম্যাচ হয়তো ৬-৩ গোলে জিততে পারত লুইস এনরিকের দল।

খেলা শুরুর পর প্রথম ১০ মিনিট চমৎকার খেলছিল রিয়াল, তারপর খেলা ধরে নেন মেসি। বার্সা যখন ছিঁড়ে খাচ্ছে রিয়াল ডিফেন্সকে, তখনই হঠাৎ ম্যাচের ২৭ মিনিটে বক্সের কাছে ৩টি পাসে গোল করেন রিয়ালের কাসিরিমো। মিনিট পাঁচেক টিকেছিল সেই লিড। ৩২ মিনিটের মাথায় বক্সের একটু ওপরে বল পান মেসি। তিনটি টাচে সরিয়ে দেন বিপক্ষের ৪-৫ জন ডিফেন্ডারকে এবং বল গোলে রাখেন।

 

মেসির জাদু থামাতে এদিন ফাউলের অন্ত রাখেননি রিয়াল ডিফেন্ডাররা। হলুদ কার্ডও দেখেছেন বিস্তর। তবু কখনওই মনে হয়নি বার্সা এ ম্যাচ জিতবে না। সেই মনে হওয়া সত্যি করেই ৭৩ মিনিটের মাথায় বক্সে বল পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে আউটসাইড ডজে সরিয়ে বাঁ পায়ে জোরালো শটে গোল করেন রাকিতিচ।

এর চার মিনিট পর যখন মেসিকে আটকাতে গিয়ে লাল কার্ড দেখে বেরিয়ে গেলেন রামোস, তখন তো মনেই হচ্ছিল বার্সার জয়ের ব্যবধান বাড়বে এবার। কিন্তু এর নাম ফুটবল। আর রিয়ালের কোচের নাম জিনেদিন জিদান। তার কিছুক্ষণ আগেই তিনি মাঠে নামিয়েছেন হামিস রডরিগেজকে। ৮৫ মিনিটে সেই হামিস মার্সেলোর ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে সমতা ফেরালেন ম্যাচে।

পৃথিবী জোড়া দর্শক তখনই জেনে গিয়েছিল ১ পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে বার্সিলোনাকে। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায়ের পর, লা লিগা জয়ের স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল এনরিকের দলের। কিন্তু অন্যটাই ভাবা যার কাজ, তিনি কি আর থামতে পারেন। ইনজুরি টাইমের শেষ সেকেন্ডে আলবার পাস থেকে দূরন্ত শটে গোল করলেন লিওনেল মেসি। জার্সি খুলে জয় উদ্‌যাপন করে জেনেশুনে হলুদ কার্ডও দেখলেন।

ঘুমের ওষুধ ছাড়া কোনো বাঙালি কি ঘুমোতে পারল এ রাতে?

ও হ্যাঁ। গোটা ম্যাচ রিপোর্টে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নাম লেখা হল না। কিছু করার নেই। লেখার কোনো সুযোগ দেননি সিআর সেভেন। এ শুধু মেসির দিন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here