সানি চক্রবর্তী: লিওনেল মেসির নক্ষত্রখচিত ক্লাব-কেরিয়ারের পঞ্জিকায় স্থান পায়নি, এমন নজির বা রেকর্ড কমই আছে। যে কটা বাকি, তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা যুক্ত হয়ে গেল এদিন। জিয়ানলুইজি বুঁফোকে টপকে ক্লাব কেরিয়ারে গোল ছিল না এলএমটেনের। এদিন সেটা করে ফেললেন পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার। দু’বার বুঁফোকে টপকে গোল করে গেলেন। ভাগ্য আর কিছুটা সঙ্গ দিলে, এদিনও হয়ে যেত আরও একটা হ্যাটট্রিক। করা হয়ে যেত ইউরোপের মঞ্চে শততম গোল। একবার পোস্টে লেগে প্রয়াস প্রতিহত হওয়ায়, সেটা এদিনের ম্যাচে হল না। তবে জাদুকর মেসির ফুটবল স্কিলের ঝলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শুরুতেই বাকি দলগুলোকে বড়োসড়ো বার্তা দিয়ে রাখল বার্সেলোনা। গতবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের ছিটকে দেওয়া জুভেন্তাসকে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে হারাল বার্সা। দুই অর্ধে দুটো চোখ ধাঁধানো গোল করলেন মেসি। তারই আটকে যাওয়া একটি প্রয়াস থেকে অপরটি রাকিটিচের। ডিফেন্সে বোনুচ্চি-চেলেনির অভাব বারেবারে টের পেল তুরিনের ক্লাবটি। জুভেন্তাস ছেড়ে এসি মিলানে চলে গিয়েছেন বোনুচ্চি, চোটের জন্য ছিলেন না চেলেনি। ছিলেন না প্রথম একাদশের আরও অনেকে। কিছুটা কমজোরি ইতালিয় চ্যাম্পিয়নদের ন্যু ক্যাম্পে কার্যত ছিঁড়ে খেল বার্সা।

মরশুমের শুরু থেকেই দলবদলের বাজারের একাধিক বিতর্ক ঘিরে বার্সার খেলার মান নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। আর্নেস্তো ভেলভের্দের প্রশিক্ষণাধীন দল আপাতত সেসব হিমঘরে পাঠিয়ে দেওয়ার মতো খেলাটাই মেলে ধরল এদিন। প্রথমার্ধের ঠিক আগে সুয়ারেজের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বাঁ পায়ের মাপা প্লেসিংয়ে গোলের খাতা খুললেন মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ালেন রাকিটিচ। আর ৬৯ মিনিটে দুরন্ত প্রতি আক্রমণে ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলল বার্সা। বল নিয়ে ইনিয়েস্তা এগিয়ে লম্বা দৌড়ের পরে মেসিকে মাপা পাস বাড়ালেন। দুজন ডিফেন্ডারকে টপকে আগের গোলের মতোই দ্বিতীয় পোস্টের কোন ঘেঁষে গোলার মতো শটে ৩-০ করলেন মেসি।

এদিকে, দলবদলের বাজারে সবথেকে বেশি শোরগোল ফেলে দেওয়া প্যারিস সাঁ জাঁ-ও ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতার শুরুটা করল দারুণভাবে। তাদের নেইমার-এমবাপে-কাভানি সমৃদ্ধ আক্রমণভাগ প্রথম দিনেই সুপারহিট। পিএসজি-র আক্রমণের নতুন এন-এম-সি ত্রয়ী প্রথম দিনেই করল চার গোল। সেলটিককে তাদের ঘরের মাঠে ৫-০ ফলে উড়িয়ে শুরু করল উনাই এমরির প্রশিক্ষণাধীন দল। ১৫ মিনিটের মাথায় পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিষেকে গোলের খাতা খুললেন নেইমার। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি তার পথ ধরলেন এমবাপে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে পেনাল্টি থেকে কাভানি করলেন দলের তিন নম্বর গোলটা। দ্বিতীয়ার্ধে সেলটিকের একটা আত্মঘাতী গোলের পরে শেষলগ্নে গোলার মতো হেডে কাভানির ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ও দলের পক্ষে পঞ্চম গোল।

ইংল্যান্ডের দুই ক্লাবও তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করে রাখল। মূলত চেলসির রিজার্ভ দলের কাছে প্রতিযোগিতায় নবোন্নীত কারাবাখ পর্যুদস্ত হল ৬-০ ফলে। আর হোসে মোরিনহোর ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ৩-০ ফলে এফসি বাসেলকে হারিয়ে অভিযান শুরু করল। একই ফলে অ্যান্ডারলেখটকে হারাল বেয়ার্ন মিউনিখ। শুধুমাত্র এএস রোমার কাছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ আটকে গেল ০-০ ফলে।

একনজরে ম্যাচগুলির ফলাফল –

বার্সেলোনা- ৩  জুভেন্তাস- ০

পিএসজি- ৫  সেলটিক- ০

চেলসি- ৬ কারবাখ- ০

ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড – ৩  এফসি বাসেল – ০

বেয়ার্ন মিউনিখ – ৩  অ্যান্ডারলেচট- ০

এএসরোমা – ০ অ্যাটলেটিকো মাদ্রদ- ০

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here