দুবাই: রাজস্ব মডেল কী হবে, তা নিয়ে ভারতের ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বিরোধ মঙ্গলবার আরও তীব্র হল। প্রস্তাবিত নতুন বিন্যাস অনুসারে আইসিসি আরও যে ১০ কোটি ডলার তথা ৬৪২ কোটি টাকা তাদের দিতে চেয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল ভারতীয় বোর্ড।

দুবাইয়ে আইসিসি-র বৈঠকে উপস্থিত বিসিসিআইয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে বলেন, “হ্যাঁ, নতুন আর্থিক মডেল অনুযায়ী আইসিসি চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহর আমাদের অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ডলার দিতে চেয়েছিলেন। এ ব্যাপারে আমাদের মতামত জানানোর জন্য তিনি আমাদের একটা সময় দেন। আমাদের দিক থেকে আমরা বলতে পারি, তাঁকে আমরা কিছুই জানাব না, কারণ এটাকে আমরা কোনো অফার বলে মনেই করি না।”

কেন এই অফারটা বিবেচনা পর্যন্ত করা হল না, জানতে চাওয়া হলে ওই কর্মকর্তা মনোহর ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে তাকে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, “অফারটা এসেছে মনোহরের কাছ থেকে। তিনি চেয়ারম্যান, কিন্তু আইসিসি সদস্যদের একটা সংস্থা। রাজস্বের ভাগ কে কতটা পাবে তা চেয়ারম্যান ঠিক করেন না। সদস্যরা সবাই মিলে ঠিক করেন। রাজস্ব ভাগাভাগির সূত্র কী হওয়া উচিত তা নিয়ে আমরা সদস্য-দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলছি। তারা সাড়া দিচ্ছে। বিসিসিআইয়ের ভাগ কতটা হওয়া উচিত তা মনোহর ঠিক করে দিতে পারেন না।”

প্রস্তাবিত রাজস্ব মডেল নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডের তীব্র বাদানুবাদ চলছে। নতুন মডেল অনুযায়ী ভারতের ভাগ অনেক কমে যাওয়ার কথা। রাজস্ব ভাগাভগির যে মডেল এখন চালু রয়েছে তাতে ভারত আইসিসি-র কাছ থেকে ৫৭৯ মিলিয়ন (৫৭.৯ কোটি) ডলার পায়। মনোহরের নতুন প্রস্তাব যদি আইসিসি-তে গৃহীত হয়, তা হলে ভারতের ভাগ কমে দাঁড়াবে ২৯০ মিলিয়ন (২৯ কোটি) ডলার। ‘কমিটি অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’ও (সিওএ) অবশ্য এই প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করে। এমনকি আইসিসি-র বিগত বৈঠকে উপস্থিত বিসিসিআইয়ের অন্যতম প্রশাসক বিক্রম লিমায়েও এই মডেলে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

বিসিসিআইয়ের পরিকল্পনা

এ ব্যাপারে বিসিসিআইয়ের অবস্থান কী জানতে চাওয়া হলে দুবাইয়ের বৈঠকে উপস্থিত ওই কর্মকর্তা তাঁদের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “ধরা যাক বিসিসিআইকে দেওয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। এবং অন্যদের দেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। ধরা যাক ওই সদস্য-দেশদের ১৭৫ টাকা বা ২০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। মনোহর যেটা করার চেষ্টা করছেন তা হল অন্যদের ভাগের টাকা বাড়ানোর জন্য বিসিসিআইয়ের ভাগ ৩০০ টাকা করা।”

তা হলে সমাধান কী? ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সদস্য-দেশদের আশ্বাস দিয়ে বলছি আমাদের ভাগের টাকা যদি ৫০০-ও থাকে আমরা এমন একটা মডেল তৈরি করব যাতে তাদের ভাগের টাকা ২০০ হয়। আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন। আরও রাজস্ব আয় সংক্রান্ত নতুন মডেল আমরা প্রস্তাব করতে পারি।”

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা হল না

মঙ্গলবারই ছিল আইসিসি নির্ধারিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণার শেষ দিন। কিন্তু বিসিসিআই দল ঘোষণা করল না। আইসিসি-র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কিছু কিছু পরিস্থিতিতে ডেডলাইন পেরিয়ে গেলেও দল ঘোষণা করা যায়। ভারতের ১৫ সদস্ বিশিষ্ট দলে কারা কারা থাকবে তা মোটামুটি জানা। তাই ভারতীয় কর্মকর্তারা কোনো তাড়াহুড়ো করার পক্ষপাতী নন। এই প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তার মন্তব্য, “আমাকে একটা কথা বলুন, ধরুন ৫ মে আমরা দল ঘোষণা করলাম। তা হলে কি আইসিসি আমাদের প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়া ঠেকাতে পারবে? আমাদের দল মোটামুটি ঠিক আছে। নাম ঘোষণা করাটা নিছকই আনুষ্ঠানিকতা।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here