জৌলুসহীন সন্তোষের ফাইনালে সোনালি হাতছানি বাংলার

0
131

সানি চক্রবর্তী:

সন্তোষ ট্রফি। নামটা শুনলেই বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ভেসে উঠে হাজারো স্মৃতি। ৩১ বারের চ্যাম্পিয়নদের অগুনতি ফুটবলারের নায়কোচিত গাথা জড়িয়ে ট্রফিটির সঙ্গে। কিন্তু বর্তমানে সেই ট্রফি একেবারেই জৌলুসহীন। কিন্তু শুধু চাকচিক্যেই কি আর বাঙালির ফুটবল-আবেগকে বশ মানানো যায়? তাই তো ৭১তম সন্তোষ ট্রফির ফাইনাল ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছে তারা। শেষ বার ২০১১ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলা। তার পর থেকে আর শেষ চারে জায়গা হয়নি এক বারও, যদিও তাতে বাংলা ফুটবলের থেকেও এআইএফএফ-র নিয়মের দোষ বেশি। ২০১২ সাল থেকে আই লিগে খেলা কোনো ফুটবলারকে সন্তোষে খেলার ছাড়পত্র দেয় না সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থা। আই লিগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা ঘিরে রয়েছে অনেক বিতর্ক। তবে এ বারে অন্তত দ্বিতীয় ডিভিশন আই লিগে খেলা ফুটবলারদের খেলার ছাড়পত্র দেওয়াতে কিছুটা ফুটবলের মান বেড়েছে সন্তোষে।

আরও পড়ুন: মিজোরামকে সাডেন ডেথ-এ হারিয়ে সন্তোষ ফাইনালে গোয়ার সামনে বাংলা

আপাতত সেখানেই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই বাংলার ফুটবলারদের। প্রতিপক্ষ গোয়া। বাংলা-গোয়ার ফুটবল দ্বৈরথ ঘিরেও আবেগের ঝুলিতে গল্পের সংখ্যা কম নেই। তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে মাত্র এক বারই ফাইনালে বাংলাকে হারাতে পেরেছে গোয়া। শেষ বার ২০০৯ সালে চেন্নাইয়ে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। যেখানে পেনাল্টি শুটআউটে বাসুদেব মণ্ডলদের হারতে হয়েছিল। এ ছাড়া প্রত্যেক বারই বাংলার হাতে পরাস্ত হয়েছে গোয়া। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৯ টানা চার বার ফাইনালে গোয়াকে হারিয়েছিল বাংলা। ১৯৯৬ সালে গোয়াতেই বসেছিল সন্তোষের আসর। উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে গোয়ার প্রথম ট্রফি জয় (বাংলা ও গোয়া যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন)। তাই গোয়ার ঘরের মাঠে তাদের হারানোর রেকর্ডও রয়েছে বাংলার। তাই মর্যাদার লড়াইয়ে নামার আগে মুখিয়ে থাকা বাংলা কোচ মৃদুল বন্দোপাধ্যায় বলছেন, “এটা আমার কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। বাংলার কোচ হিসেবে অনেকটা দায়িত্ব রয়েছে কাঁধে।”

এ বারে যদিও পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। কলকাতা লিগে ইউনাইটেড, মহমেডান ছাড়া বিভিন্ন ছোটো দলে খেলা ফুটবলারদের জড়ো করে দল গড়েছেন মৃদুল বন্দোপাধ্যায়। সেমিফাইনালে ওঠার আগে পর্যন্ত বিশেষ কেউ তাদের নিয়ে মাথা ঘামায়নি। তবে তারা অপরাজিত থেকেই ফাইনালে উঠেছে। প্রতিপক্ষের কড়া ফুটবলের জেরে দলের একাধিক ফুটবলার রয়েছেন চোট-আঘাতের তালিকায়। এটাই কিন্তু ফাইনালের আগে চিন্তায় রাখছে মৃদুলকে। গোয়ার মাঠে তাদের সমর্থকদের সামনে খেলার চাপ যদিও সে ভাবে নিতে নারাজ তিনি। বলছিলেন, “ছেলেরা যাতে মানসিক ভাবে ফুরফুরে থাকে সেই চেষ্টা করছি। বড়ো দলের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা কমবেশি সকলের আছে। সেখানে যেমন চাপের মাঝে নিজের সেরাটা প্রমাণ করার তাগিদ থাকে, তেমনটাই করতে বলেছি ছেলেদের।”

দুই দলই অপরাজিত থেকেই ফাইনালে উঠেছে। গ্রুপ পর্বে দুই দলের লড়াই বিনা গোলে অমীমাংসিত ভাবে শেষ হয়েছে। মূলত প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবলই গোয়ার শক্তি। ১৯ বছরের স্ট্রাইকার লিস্টন কোলাসো চমৎকার ছন্দে রয়েছেন। তাঁকে রেখেই যাবতীয় ছক কষা গোয়া প্রশিক্ষক ম্যাতিয়াস কস্তা বলছেন, “আমরা বেশ আত্মবিশ্বাসী। অপরিবর্তিত একাদশই নামবে। দুই দলকেই দুরন্ত ফুটবল উপহার দিতে হবে একে অপরকে টেক্কা দিতে।” চোটসমস্যায় ভোগা বাংলা শিবির চাইবে গোটা প্রতিযোগিতার মতোই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে। গোলের জন্য মনবীর সিং, বসন্ত সিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। তেমনই রক্ষণে বড়ো ভরসা অধিনায়ক রানা ঘরামি। ম্যাচটার গুরুত্ব বাংলার ফুটবলারদের কাছে কতটা তা খুব ভালো বুঝেছেন সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে দলকে জেতানো শংকর রায়। শংকর বলছিলেন, “গত দু’দিনে প্রচুর ফোন পেয়েছি। সঙ্গে এটাও বুঝেছি ফাইনালটা না জিততে পারলে কেউ মনে রাখবে না।” মৃদুলের দুর্গপ্রহরীর কথাতেই পরিষ্কার, বাংলার সম্মান ও নিজেদের প্রতিষ্ঠার জন্য সেরাটা দিয়েই ঝাঁপাতে চাইছেন ফুটবলাররা। বর্তমানে প্রতিযোগিতা জৌলুসহীন হলেও তা তো আখেরে ভারতসেরার সম্মান। সঙ্গে গোয়ার বিরুদ্ধে মর্যাদার লড়াই।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here