মধুমন্তী চট্টোপাধ্যায়

অ্যাডভেঞ্চারের নেশা তাঁকে পেয়ে বসেছিল সেই ছোটোবেলাতেই। পরিবারের সঙ্গে প্রতি বছর পাহাড়ে যেতে যেতেই কখন যেন ভালোবেসে ফেলল পাহাড়কে। আঠেরোয় পৌঁছেই জীবনের প্রথম ট্রেক। গঙ্গোত্রী-গোমুখ। ১৬ বছর বয়সে হলদিয়া থেকে কলকাতায় আসা, কাজের সূত্রে কলকাতা থেকে পাড়ি দেওয়া সুদূর অস্ট্রেলিয়ায়। অ্যাডভেঞ্চার স্বাগতার পিছু ছাড়েনি এখানেও। হিমালয় থেকে দূরে থেকেছেন তো কি হয়েছে? অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ দশটি শৃঙ্গ(‘অসি-১০’) ছুঁয়ে ফেলেছেন গত ডিসেম্বরেই। সম্ভবত এটাই প্রথম কোনো বাঙালির ‘অসি-১০’ জয়।

স্বাগতা গাঙ্গুলি। পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার স্বাগতা বছর তিনেক ধরে আছেন মেলবোর্নে। কাজের ফাঁকে ডিসেম্বরে দিন চারেকের মধ্যে ছুঁয়ে এসেছেন ক্যাঙ্গারুর দেশের ১০ খানা শৃঙ্গ। পাহাড়ে চড়ার পাশাপাশি স্কুবা ডাইভিং, স্কাই ডাইভিং, হোয়াইট ওয়াটার র‍্যাফটিং-এও রীতিমতো দক্ষ স্বাগতা। পেশাগত জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে মাঝেমাঝেই বেড়িয়ে পড়েন এদিক সেদিক। ভবিষ্যতে ‘সেভেন সামিট’-এর স্বপ্ন দেখা মেয়েটা সমাজের চেনা ছকের ভাবনাগুলোকে প্রশ্ন করেছে বারবার। মেয়েরা শারীরিক ভাবে দুর্বল, মনে সাহস কম, এসব ধারণাকে আঘাত করেই এগোতে হবে, এই সত্যিটা বুঝে গেছেন একত্রিশ বছরের তরুণী।

পর্বতারোহণ কিংবা পুরো খেলাধুলোর জগতেই বাংলার মেয়েদের খুব বেশি না আসার কারণ জানতে চাইলে স্বাগতা স্পষ্টই বললেন, “আমাদের সমাজে স্কুলগুলোতে এখনও পড়াশোনাকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। খেলাধুলো করার জন্য তেমন উৎসাহ দেওয়া হয় না। আর এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজের ক্ষেত্রেও মেয়েদের থেকে আশা করা হয় নিপুণ হাতের কাজ। বাংলার মা বাবারাও তাঁদের সন্তানকে মানুষ করে বড্ড আদর দিয়ে। মেয়ের জলে নামা চলবে না, ঠান্ডা লেগে যাবে! কেউ বলবে না ‘জলে নেমে সাঁতারটা শিখে দেখা’। ভয় দূর করানোর বদলে এখানে অভিভাবকরাই ছেলে মেয়েদের মধ্যে বিপদের আশঙ্কা ঢুকিয়ে দেন। এই মনোভাবটা পালটানো খুব দরকার”।

অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস স্বাগতার কাছে এক নতুন পৃথিবীর দরজা খুলে দিয়েছে। জলের তলায় ডুব দিলেই মাছেদের কথকতা , বরফে ঢাকা পাহাড়ে ভোরের প্রথম আলো কিংবা মাঝ রাতে তাঁবু থেকে বেরোলেই মাথার ওপর আকাশগঙ্গা তাঁকে ভুলিয়ে দিয়েছে ১০টা-৫টার নিয়ম মানা বাধ্যতা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here