sunil-chhetri

বেঙ্গালুরু এফসি-২(সন্তোষ, সুনীল)  মোহনবাগান-১ (কাতসুমি- পেনাল্টি)

বেঙ্গালুরু: সেই একই খেলা। ক্লান্ত, আনফিট সবুজমেরুন। প্রথমার্ধটা তেড়েফুড়ে খেলা। দ্বিতীয়ার্ধে দাঁড়িয়ে যাওয়া। গোল খেয়ে গেলে আরও তাড়াতাড়ি। একটু চাপ পড়লেই বেরিয়ে পড়ছে ডিফেন্সের ফাঁক। সোনি কিছুটা খেলার চেষ্টা করছেন, বলবন্ত মন্দ না কিন্তু জেজে গত মরশুমের ছায়া। সব মিলিয়ে এএফসি কাপের গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসি-র কাছে হারল মোহনবাগান। 

প্রথমার্ধে অনেক কিছুই ঠিকঠাক চলছিল সঞ্জয় সেনের ছেলেদের। ২২ মিনিটে বলবন্তের দারুণ হেড একটুর জন্য বাইরে গেল। ২৮ মিনিটে সোনির দারুণ পাস বক্সের মধ্যে রিসিভই করতে পারলেন না জেজে। এ সবের মধ্যেই ৩৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে জেজের পাস ধরতে ছুটতে থাকা সোনিকে ফেলে দিলেন বেঙ্গালুরুর সন্তোষ ঝিঙ্গান। হলুদ কার্ড দেখলেন আর পেনাল্টিতে গোল করে দিলেন কাতসুমি।

হাফটাইমের পর শুরুটা ভালই করেছিল বাগান। ৪৮ মিনিটে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে বনবন্ত চলে গিয়েছিলেন গোলকিপারের কাছে, কিন্তু দারুণ সেভ করলেন অরিন্দম। তারপরই পাল্টে গেল সব। 

৫২ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে জোরাল শট করে গোল করে দিলেন আনমার্কড সন্তোষ ঝিঙ্গান। পেনাল্টি দেওয়ার পাপের প্রায়শ্চিত্তই করলেন যেন। তারপরই খেলা ধরে নিয়েছিল বেঙ্গালুরু। তবে ৫৮ মিনিটে বক্সের বাইরে নিজের ফেভারিট জায়গা থেকে ফ্রিকিক পেয়ে যে গোলটা করলেন সুনীল ছেত্রী, সেটা তাঁকেই মানায়। গোটা আই লিগটা নিষ্প্রভ থাকার পর এ যেন তাঁর জ্বলে ওঠার শুরু।

দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময়টা একের পর এক আক্রমণের ঝড় তুলে মোহন-ডিফেন্সকে দিশেহারা করে দিয়েছিল সুনীল-বিনীতরা। গোল হয়নি, তবে হতে তো পারতই। মোহনবাগান দলটা যেন কেমন ছন্নছাড়া হয়ে গেল।

যাক। আপাতত দিন পনেরো ছুটি। দেখা যাক আই লিগের দ্বিতীয়ার্ধে কতটা ফিট টিম নামাতে পারেন সঞ্জয় সেন। মনোবলই বা কতটা ঠিক রাখতে পারেন দলটার।

শেষে একটা কথা। দুটো ভারতীয় দল এএফসি কাপের ম্যাচ খেলল। দেশের মাটিতে। অথচ কোনো টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রসারণ দেখা গেল না। ভারতীয় ফুটবলের হালফিলের অবস্থার আর একটা মানদন্ড হিসেবে এটাকে দেখা যেতেই পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here