বেঙ্গালুরু এফ সি-২(সি কে ভিনিথ ২)      মোহনবাগান-০

কটক: নির্ধারিত সময়ের প্রায় শেষ মুহূর্তে জেজের চমৎকার চেষ্টায় যদি গোলটা হয়ে যেত, তাহলে ফেডারেশন কাপ জিতে যেত মোহনবাগান। খুশি হতেন বিশাল সংখ্যাক বাঙালি মোহনবাগান সমর্থকরা। কিন্তু ফুটবলের অপমান হত তাতে।

মোহনবাগান দলটা যে আনফিট। দ্বিতীয়ার্ধে দম পায়না অনেকেই, সেটা আই লিগে দিব্যি বোঝা গেছিল। কিন্তু বেশ কিছু খেলোয়াড়ের দক্ষতায় তা চাপা পড়ে গেছে বারবার। কিন্তু এদিন একই সঙ্গে নিষ্প্রভ ছিলেন সনি, কাতসুমি। ব্যস। এরকম গুরুত্বপূর্ণ দুটো খেলোয়াড়কে আটকে দিতে পারলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলের জেতাই উচিৎ। তাই হয়েছে।

তবে এমন নয়, যে ডিফেন্স করতে করতে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে গোল দিয়েছে বেঙ্গালুরু। বরং গোটা ম্যাচে বাগান ডিফেন্সকে নাকানিচোবানি খাইয়েছেন উদান্তা, ভিনীথ, লিংডোরা। অনেক গোল হতে পারত, হয়নি। তাও তো আজ সুনীল ছেত্রী খেলতে পারেননি। অবাক কাণ্ড, গোটা মরশুমে মোহনবাগান ডিফেন্স এত খারাপ কখনও খেলেনি। এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আক্রমণ আর রক্ষণ একসঙ্গে সুপারফ্লপ, এটাও দেখার মতো বিষয় হয়ে থাকল এদিন।

সত্যি বলতে কি, আই লিগ, ফেড কাপ, এএফসি- মিলে গোটা মরশুমে এই দুটো দল তো কমবার মুখোমুখি হল না এই মরশুমে। কিন্তু বেঙ্গালুরু যে বাগানের থেকে এতটা এগিয়ে আজকের আগে বোঝা যায়নি।

ম্যাচের কথা তেমন কিছু বলার নেই। মোহন ডিফেন্স প্রথম থেকেই নড়বড় করছিল। বেঙ্গালুরুর দুটো গোল বাতিল না হলে, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াত না। তার মধ্যে প্রথম গোলটা অফসাইড বোঝা গেলেও দ্বিতীয় গোলটা কেন বাতিল হল স্পষ্ট নয়। জেজে নামার পর মিনিট ১৫ দৌড়েছিল সঞ্জয় সেনের ছেলেরা। ওই টুকুই।

অতিরিক্ত সময়ে মোহনবাগান আরও ধুঁকছিল। তখনই ১০৭ আর ১১৮ মিনিটে দুটি গোল করে দেন দেশের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার সি কে ভিনীথ।

আগামী বছর ফেডারেশন কাপ হবে কি না ঠিক নেই। যদি এটাই শেষ ফেড কাপ হয়, তাহলে ইতিহাসে ঢুকে গেল ভারতীয় ফুটবলের নবীন তারকা বেঙ্গালুরু এফসি। ইতিহাস আর তারুণ্যের এও এক মেলবন্ধন বইকি!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here