সানি চক্রবর্তী:অভিযোগের তির ছিল দীপেন্দু বিশ্বাসের দিকে। তার বিরুদ্ধে বলতে গিয়েই চরম মন্তব্যটা করে বসলেন বাবুল সুপ্রিয়। একদিকে যখন মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের সমস্যা নিয়ে তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে রাজ্য বিজেপি, তখনই রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে খেলার মাঠে রাজনীতি করার অভিযোগ করলেন বাবুল। এক সমর্থকের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কেন্দ্রের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় বললেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস দ্বারা রাজনৈতিকভাবে চালিত হয় মোহনবাগান।’

ঠিক কী ঘটেছিল ঘটনাটা? সম্প্রতি বসিরহাটের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে সেখানকার বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাসকে কাঠগড়ায় তোলেন বাবুল। তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিধায়ক ‘আইনবিরুদ্ধ’ কাজ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন বিজেপির সাংসদ। টুইটারে দীপেন্দুর ছবি দিয়ে বাবুল লেখেন, ‘আইনবিরুদ্ধ কাজে জড়িয়ে থাকা একজন একসময়ে মোহনবাগানে খেলে গিয়েছে, ভাবতেও লজ্জা হচ্ছে। দারুণ এক স্ট্রাইকার কীভাবে তার পথ হারিয়ে ফেলেছেন, সেটা দেখে কষ্ঠ হচ্ছে। আরও অবাক লাগছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চোখ বুজে থাকা দেখে।’ সঙ্গে তিনি জুড়ে দেন, লিগাল রাইট অবজারভেটরি নামের এক সংস্থার দীপেন্দুর বিরুদ্ধে এফআইআর করে তাকে গ্রেফতার করার দাবির ছবি। রাজনৈতিক তরজার মধ্যে না ঢুকেই জনৈক মোহনবাগান সমর্থক গৌরব রায় বাবুলের কাছে অপ্রিয় প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। গৌরব লেখেন, ‘মোহনবাগানের প্রয়োজনের সময়ে তো মন্ত্রী হিসেবে আপনিও কিছু করেননি, সেটাও আমাদের দুঃখ দেয়।’

আরও পড়ুন: আই লিগকে ফের সমস্যায় ফেলল আইএসএল-এর নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইএমজিআর

মোহন সমর্থকের এই খোঁচার পরেই আক্রমণাত্মক সুরে মোহনবাগানের ক্লাবের তৃণমূল কংগ্রেস দ্বারা পরিচালিত হবার ঘোরতর দাবি তুলে দেন বাবুল। ওই সমর্থককেও খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি। বাবুল লেখেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস দ্বারা রাজনৈতিকভাবে চালিত হয় মোহনবাগান। বেশ কিছু কিংবদন্তি ফুটবলার আগে ক্লাব তাঁবুতে ঢুকতে পারেননি, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?’ রাজ্যের শাসক দলের পাশাপাশি মোহনবাগানের বর্তমান কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তাঁর যে এই বার্তা, বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না।

ততক্ষণে বেশ কিছু মোহন-কর্তাদের বিরোধী সমর্থককে নিজের দলে পেয়ে গিয়েছেন বাবুল। উলটো সুরও তখনই প্রবলভাবে ওঠা শুরু করে। সরাসরি মন্ত্রী বাবুলের উদ্দেশ্যে চাঁচাছোলা আক্রমণ উড়ে আসতে থাকে মোহনবাগান সমর্থকদের পক্ষ থেকে। সৌরভ ঘোষ নামের এক সমর্থক লেখেন, ‘মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কি আপনি একদিনও সংসদে মুখ খুলেছেন? এআইএফএফ ও আইএমজিআর যখন মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলকে আই লিগে খেলতে বাধ্য করল, তখন কেন্দ্রের মন্ত্রী হিসেবে আপনি কি করেছেন? শিল্পী হিসেবে আপনাকে শ্রদ্ধা করি বাবুলদা, তবে দয়া করে মোহনবাগানকে রাজনীতির মধ্যে টানবেন না। বরং আপনি বা আপনার দল আইএসএলে খেলার ব্যাপারে কোনো সাহায্য করলে মন থেকে খুশি হব।’

গোটা ব্যাপারটায় সঙ্গে সঙ্গে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে ইতি টানার পথে বেছে নেন বাবুল। তিনি ওই সমর্থকের উদ্দেশে লেখেন, ‘অনেক এমন ব্যাপার রয়েছে যেগুলো তোমাদের জানা নেই, খুশি হতাম তোমরা সেগুলো জানলে। যাক ব্যাপারটা এখানেই থামানো যাক। শুধু একটাই কথা বলব, মোহনবাগান সম্পর্কে আমার ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন তুলো না।’ কোন ব্যাপারগুলো সমর্থকরা জানলে ভালো হত, তার উত্তর হয়তো বাবুলই দিতে পারবেন। তার মোহনবাগান প্রেম ঘিরে প্রশ্ন না থাকলেও, সবুজ-মেরুন ক্লাবের সঙ্গে তৃণমূলের সম্পর্ক ঘিরে তার মন্তব্যের জেরে যথেষ্টই জলঘোলা কিন্তু শুরু হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here