সানি চক্রবর্তী:

এত দিন ধরে কাজটা চলছিল আড়ালে-আবডালে, বৃহস্পতিবার সরাসরি সেটা শুরু করে দিল আইএসএল কর্তৃপক্ষ। এক প্রকার সুযোগ ও একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলকে চাপে ফেলার কাজে নেমে পড়ল তারা।

এ দিন সন্ধ্যায় হঠাৎই আইএসএল কর্তৃপক্ষ আসন্ন চতুর্থ আইএসএল-এ (২০১৭-১৮ মরশুম) নতুন দল নিয়োগের জন্য দরপত্র ডেকে বসল। উল্লেখযোগ্য ভাবে, কলকাতা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের আরও দু’টি শহর দুর্গাপুর ও শিলিগুড়িকেন্দ্রিক দলকে দরপত্র ডাকার জন্য মনোনয়ন করা হয়েছে। ইঙ্গিতটা পরিষ্কার, কলকাতার দুই প্রধানের কাছে এই রাজ্যেরই ভিন্ন শহরের দল হয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হল। কিন্তু সমীকরণটা যে এতটাও সরল নয়। কারণ, সময় দেওয়া হল মাত্র ১২ দিন। খুবই ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৪ মে। আর এখানেই চ্যালেঞ্জটা বা চাপে ফেলার কৌশলটা। এআইএফএফ সভাপতি প্রফুল পটেল এএফসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আইলিগ-আইএসএল সংযুক্তিকরণ ও সংযুক্ত লিগের এএফসি মান্যতা নিয়ে আলোচনায় বসবেন। ঠিক তার আগের দিনে ডেটলাইন রেখে দুই প্রধানকে বুঝিয়ে দেওয়া হল, আইএসএল খেলতে চাইলে সেই সভার আগেই দরপত্র জমা দিতে হবে।

আইএসএলের পক্ষে পালটা চাপটা তৈরি করা হল কলকাতার দুই প্রধানের প্রাথমিক দাবির ভিত্তিতেই। দুই ক্লাবই দীর্ঘদিন ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় বাকি নতুন ক্লাবগুলোর মতো ১৫ কোটি টাকার দরপত্র হেঁকে আইএসএল খেলতে নারাজ। পাশাপাশি, রয়েছে এএফসি-র বিভিন্ন লিগে খেলার প্রসঙ্গ। কারণ, অবনমন বা মূল লিগে নীচের লিগের দলের উত্তোরণের ব্যবস্থা না থাকলে সেই লিগ এএফসি-র স্বীকৃতি পায় না। অর্থগত কোনো সমস্যা না থাকলেও ঠিক এই কারণেই বেঙ্গালুরু এফসিও দোটানায়। ১০টি শহরের তালিকায় নাম রয়েছে বেঙ্গালুরুরও। রয়েছে জামশেদপুর, হায়দরাবাদের নামও। টাটা অ্যাকাডেমি ও হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ী গোষ্টী ইতিমধ্যেই আইএসএল খেলায় ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে। বাকি শহরগুলো হল তিরুঅনন্তপুরম, আমদাবাদ, রাঁচি ও কটক। এই দশটি শহর থেকে সর্বোচ্চ তিনটি ফ্রাঞ্চাইসি টিমকে পেতে চায় আইএসএল।

এ দিকে কয়েক দিন আগে মুম্বইয়ের সভায় প্রফুল পটেল দুই প্রধানের কর্তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন এখনই দুই লিগের না মেশার ব্যপারে। পাশাপাশি এএফসি-র সঙ্গে কথাবার্তা বলেই যাবতীয় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার মাঝেই আইএসএল কর্তৃপক্ষের এই নতুন চালে গোটা পরিস্থিতিটাই ঘোলাটে হয়ে গেল আরও। মোহন-কর্তারা সরাসরি বলে দিয়েছেন, “সিদ্ধান্তে অনড় আমরা। দরপত্রে টাকা দিয়ে আইএসএল খেলার প্রশ্নই নেই। এআইএফএফ সভাপতিকে আগেই জানিয়ে দিয়েছি আমাদের অবস্থান। ফের চিঠি দিচ্ছি। পাশাপাশি এএফসি কাপে খেলা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সংকেতও পায়নি। সভাপতি আশ্বাস দিয়েছেন ব্যাপারটা দেখবেন। পরিস্থিতি এ ভাবে এগোলে আইনি পথে যেতে বাধ্য হব আমরা।” ইস্টবেঙ্গল কর্তারাও যে সবুজ-মেরুন কর্তাদের সঙ্গে এই বিষয়ে একমত, তা আগেই জানিয়েছেন। এ দিনের ঘটনাবলির পর অবশ্য তাঁদের মতামত মেলেনি।

কটকে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে হয়তো দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই হবে কয়েক দিন পরেই! কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দলের কর্তারা কিন্তু মশাল হাতে পালতোলা নৌকায় সওয়ার। বেঙ্গালুরু দরপত্রের বিষয়ে আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে নারাজ। গোটা ব্যাপারটায় স্বচ্ছতা ও এএফসি কাপে খেলার সুযোগ, তাদের দাবি আপাতত এই। অসমর্থিত সূত্র যদিও বলছে, বেঙ্গালুরু কর্তাদের কিছুটা নরম মনোভাবের ইঙ্গিতেই পালটা চাপ বাড়িয়েছে আইএসএল কর্তৃপক্ষ। কারণ আই লিগ থেকে বেঙ্গালুরুকে ভাঙিয়ে নিতে পারলে যে মোহন-ইস্টের পাল্লা অনেকটাই দুর্বল হয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here