rahim nabi

সমীর গোস্বামী: গ্রাম বাংলায় বাড়ি। তার উপর ছোটো বেলায় ছেলেটি খুবই দুষ্টু ছিল। আবার দুরন্তও। সত্যি কথা বলতে কী, ছেলেটি যেন পাড়ার লোকের কাছে অপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। এর কারণ একটাই-সে অন্যের বাড়ির ফল পেয়ে খেয়ে নিত। গরমের মরশুমে গাছের আম নিয়ে তার জন্য দুশ্চিন্তা থাকত গোটা পাড়ার। পাশাপাশি পেয়ারা, লিচু, জাম খাওয়ারও ওস্তাদ ছিল সে।

এ ছাড়া সারাদিন টইটই করে ঘুরে বেড়াত। এই পুকুরে সাঁতার কাটছে। তার পরেই হয়তো ওই পুকুরে ডুব সাঁতার দিয়ে কাউকে ভয় দেখাল। হুগলি জেলার পাণ্ডুয়ার এই ছেলেটিকে নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশীর অভিযোগের অন্ত ছিল না। তবে ওর নাগাল পেত না কেউ। ছেলেটির বেশ বুদ্ধি ছিল। তাই ওকে বাগে আনতে পারত না।

এদিকে আবার বিকেল হলেই সে চলে যেত মাঠে। খেলত ফুটবল। ছোটো হলেও ভালোই খেলত। তাই দাদা আলিম (ছোট্টু) ভাইয়ের ফুটবল প্রতিভা দেখে তাকে তালিম দিতে শুরু করলেন। খুব সহজেই রপ্ত করে ফেলল ফুটবলের প্যাঁচ-পয়জার। একটু বড়ো হতেই কোচ বিদ্যুৎ পাল তার জীবনটাই বলদে দিলেন। তাকে পাঠানো হল কলকাতায়।

আরও পড়ুন: ইস্টবেঙ্গলের পিদে: মাঠে কথা বলতেন কম, গোল করতেন বেশি

ওর খেলা দেখে টাটা ফুটবল আকাদেমি তাকে নিয়ে নিল। সেখানকার আধুনিক ট্রেনিংয়ে সে বড়ো ফুটবলার হয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি রাখল। আকাদেমি তাকে জার্মানিতে পাঠাল। দেখতে দেখতে তিনি হয়ে উঠলেন এক পরিণত ফুটবলার। আকাদেমি পাট চুকে যাওয়ার পরই মহামেডান তাঁকে আমন্ত্রণ জানাল। তিনি সই করলেন।

গড়ের মাঠে এই ফুটবলারের খেলা দেখে সবাই মুগ্ধ। সেই ছেলেটি আজকের নামী ফুটবলার রহিম নবি। মহামেডান থেকে নবি চলে আসেন মোহনবাগানে। ইস্টবেঙ্গলের হয়েও খেলেছেন সুনামের সঙ্গে। তার পর তাঁর গায়ে ওঠে ভারতীয় দলের জার্সি। সম্প্রতি আইএসএলেও তিনি খেলেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে নবি বলেন, বাবা-মা যদি সন্তানকে উৎসাহ দেন এবং সন্তানও যদি সঠিক ভাবে অনুশীলন করে তা হলে এক দিন সে বড়ো ফুটবলার হবেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here