ব্রাভোর হাতে আটকে ছিটকে গেলেন রোনাল্ডোরা

0
2060

চিলে – ০  পোর্তুগাল -০ (পেনাল্টি শুটআউটে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী চিলে)

সানি চক্রবর্তী: টাইব্রেকারে হ্যাটট্রিক! হ্যাঁ, এমনটাই করে চিলেকে কনফেডারেশনস ফাইনালে তুললেন ক্লাউদিও ব্রাভো। টাইব্রেকারে পোর্তুগালের তিন ফুটবলারের শট বাঁচিয়ে ‘সেভের হ্যাটট্রিক’ ব্রাভোর। রিকার্ডো কোরেসমা, জোয়াও মোটিনহো ও নানির শট আটকে দিয়ে নায়ক ম্যাঞ্চেস্টার সিটির এই গোলরক্ষক। দেশের জার্সিতে রোনাল্ডোর আর একটা ট্রফি জয় আপাতত অধরাই রইল। আর দেশকে ফাইনালে তুলে চিলি অধিনায়ক ব্রাভো জানিয়ে গেলেন, “কিছুটা আহত ছিলাম, তাই পুরো ম্যাচ স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারিনি। তবে নিজেদের উপরে বিশ্বাসটা রেখেছিলাম, সব সময়।”

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বা আলেক্সি সাঞ্চেজের হিরো হওয়ার মঞ্চে সব হিসেবনিকেশ পালটে দিলেন ব্রাভো। শট আটকানোর ঠিক আগের মুহূর্তে তাঁর গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসা নিয়ে হালকা বিতর্ক থাকলেও দুরন্ত তিনটি সেভের জেরে তা কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল। শুটআউটে কোরেসমার ডান দিকে নেওয়া শট দু’হাতে আটকান ব্রাভো। তার আগেই প্রথম শট নিতে এসে প্রায় জাল ছিঁড়ে দিয়ে গেছেন বিদাল। মাঝে আরাঙ্গুইজ লিড বাড়ান কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের পক্ষে। মোতিনহোর শটে যেন অ্যাকশন রিপ্লে হয় কোরেসমার শটের ও ব্রাভোর সেভের।। সাঞ্চেজ গোটা ম্যাচে দুরন্ত খেলা পোর্তুগিজ গোলরক্ষক রুই প্যাট্রিসিওকে উলটো দিকে ফেলে ৩-০ করেন। অভিজ্ঞ নানি শট মারতে এসে কার্যত হাতে বল তুলে দেন। ব্রাভোর জোড়া সেভের জেরে ততক্ষণে যে পোর্তুগিজদের আত্মবিশ্বাস তলানিতে, সেটা প্রকাশ পাচ্ছিল নানির শরীরী ভাষাতেই। শট মারতে না এসেই হতাশায় সোজা ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন রোনাল্ডো। তখন মাঠে ব্রাভোকে কাঁধে তুলে নাচছেন চিলির সতীর্থরা।

নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে খেলার ফল ছিল ০-০। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের বাঁশি বাজার স্রেফ কিছুক্ষণ আগে ভাগ্যের জোরে বেঁচেছিল পোর্তুগাল। বিদালের গোলার মতো শট প্রথমে গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে অরক্ষিত রোডরিগুজের প্রয়াস লাগে ক্রসবারে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে এ ভাবে গোল ফসকানো চিলে তার আগে রক্ষণে লোক বাড়িয়ে খেলা ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিল শুটআউটে। অতিরিক্ত সময়ের এটুকু ছাড়া বলার মতো তেমন কিছু নেই।

তুল্যমূল্য লড়াই হলেও ভালো ফুটবল উপহার দিতে পারেনি কোনো দলই। খেলা যত গড়িয়েছে গতি ও গোলমুখী প্রয়াস ততই কমেছে। যদিও শুরুটা হয়েছিল চমৎকার ছন্দে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই গোল করার সুবর্ণ সুযোগ চলে এসেছিল দুই দলের কাছে। প্রথমে স্যাঞ্চেজের দুরন্ত পাস থেকে চিলির সুযোগ, পরে রোনাল্ডোর মাপা বল থেকে পোর্তুগালের। দু’টি ক্ষেত্রেই গোল হয়নি। পোর্তুগালের গোলরক্ষক প্যাট্রিসিও এগিয়ে এসে যদিও বার্গাসের জন্য গোলমুখ ছোটো করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আন্দ্রে সিলভা সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। গোললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্রাভোর গায়ে বল মারেন তিনি।

চিলে রোনাল্ডোর জন্য ও পোর্তুগাল স্যাঞ্চেজের জন্য ডবল মার্কিং জোরালো করতেই প্রাণ উড়তে শুরু করেছিল খেলা থেকে। তা-ও পোর্তুগিজ লেফ্‌ট ব্যাক গুয়েররো না থাকায় চিলি ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণ চালাচ্ছিল। ইসলা দারুণ ভাবে বিদালের সঙ্গ দিচ্ছিলেন। দ্বিতীয়ার্ধে আরাঙ্গুইজ একটা সুযোগ নষ্ঠ করেন আর বার্গাসের শট আটকান প্যাট্রিসিও। চিলের আক্রমণ পোর্তুগালের পেনাল্টি বক্সে পৌঁছোলেও উলটোটা হচ্ছিল না। রোনাল্ডো চেষ্টা চালালেও বারবার একা হয়ে যাচ্ছিলেন। আর বক্সের বাইরে থেকে বেশ কিছু সুযোগ পেয়ে প্রত্যেক বার অন্তত গোলের ছ-ফুট বাইরে দিয়ে মেরেছেন আন্দ্রে গোমেস।

রবিবারের ফাইনালে স্থান করে নিয়ে খুয়ান আন্তোনিয়ো পিজ্জির প্রশিক্ষণাধীন চিলে প্রমাণ করে দিল তাদের কনফেডারেশনস কাপের সমীকরণের বাইরে রাখলে ঠকতে হবে। ফিফা ক্রমতালিকায় বর্তমানে চার নম্বরে থাকা চিলে সঙ্গে রবিবার ট্রফিজেতার টক্করে নামবে জার্মানি বা মেক্সিকো।

দেখুন সেই পেনাল্টি শুট আউটের ভিডিও

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here