IMG_6453

শ্রয়ণ সেন

বার বার তিন বার। দু’বছর আগের বিশ্বকাপ, গত বছরের কোপা, ফের এ বার। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দল হিসেবেই সন্তুষ্ট থাকতে হল আর্জেন্তিনাকে। আন্দেস পর্বতের ও-পার থেকে আমেরিকা সেরার ট্রফিটা ছিনিয়ে আনতে ব্যর্থ লিওনেল মেসি। এ দিন গোটা ম্যাচেই সে ভাবে জ্বলে উঠতে দেখা যায়নি ফুটবলের যুবরাজকে। তার ওপর উপরি হিসেবে টাই-ব্রেকারের প্রথম শটটা গোলের বাইরে মারা।

ফাইনালের আগে পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে আর্জেন্তিনা করেছিল ১৮টি আর চিলে ১৬টি গোল, কিন্তু ফাইনালে এসে দুই দলেরই সেই চেনা আক্রমণের ঝাঁজ উধাও। যখনই মেসি বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন, তাঁকে দুর্দান্ত ম্যান মার্কিং-এ আটকে দিচ্ছিলেন চিলের ডিফেন্ডাররা। আবার যখন ডিফেন্স সামলে প্রতি আক্রমণে যাচ্ছিল চিলে, দেওয়ালের মতো তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন আর্জেন্তিনা ডিফেন্সের অলিখিত অধিনায়ক হাবিয়ের মাসচেরানো। এমনিতে একে অপরের সাথে বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম সীমান্ত (৫৩০০ কিমি) ভাগ করে নেওয়া আর্জেন্তিনা আর চিলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক মধুর নয়। দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে পান্তাগোনিয়া অঞ্চল নিয়ে দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ঝামেলা লেগেই থাকে। সেই আঁচ কিন্তু খেলাতেও পড়ছিল। মাঝেমধ্যেই নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ছিলেন দুই দেশের ফুটবলাররা। ম্যাচের ২৮ মিনিটে চিলের দিয়াজ আর ৪২ মিনিটে আর্জেন্তিনার রোখোকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ৯০ মিনিটেও কোনও গোল না হওয়ায়, ম্যাচ গড়ায় এক্সট্রা টাইমে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে একটা দুর্দান্ত সুযোগ এসেছিল আর্জেন্তিনার কাছে। মেসির ফ্রি-কিক থেকে হেড করে চিলের জালে প্রায় বল ঢুকিয়ে দিচ্ছিলেন সার্খিও আগুয়েরো। কিন্তু চিলের অধিনায়ক তথা গোলকিপার ক্লাদিও ব্রাভো অসামান্য দক্ষতায় গোল বাঁচিয়ে দেন। অতিরিক্ত সময়েও কোনও দল খাতা না খুলতে পারায় ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে। এখানেও চিলের নায়ক হিসেবে উদিত হন ব্রাভো।

চিলের প্রথম শট আর্জেন্তাইন গোলকিপার রোমেরো বাঁচিয়ে দেওয়ার পর শট নিতে আসেন মেসি। কিন্তু বারবার ট্রফির এত কাছে এসেও হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় মেসি যে এ বার বেশ চাপে ছিলেন বোঝা যাচ্ছিল। সেই চাপকে হারাতে না পেরে শটটি গোলের বাইরে মারেন মেসি। এ দিকে মেসি মিস করায় চাপে পড়ে যান আর্জেন্তাইন গোলকিপার। পরবর্তী শটগুলি বাঁচানোর জন্য সে ভাবে ঝাঁপাতে দেখা যায়নি তাঁকে। একটু পরেই এল ব্রাভোর সেই ‘ব্রাভাডো’। আর্জেন্তিনার হয়ে চতুর্থ শটটি নেন বিগলিয়া। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত ভাবে সেটিকে বাঁচান ব্রাভো। আর্জেন্তাইন জালে আর একটা বল ঢোকাতে পারলেই ফের ট্রফি চিলের। এমন সময় শট নিতে এসে আর কোনও ভুল করেননি সিলবা। এই নিয়ে টানা ২৩ বছর ট্রফি খরা চলতে থাকল আর্জেন্তিনার।

ম্যাচের শেষের পর হতাশ মেসিকে ডাগ আউটে একা একা বসে থাকতে দেখা যায়। শুধু নিজের ক্লাব নয়, দেশের হয়েও দুর্দান্ত খেলেন তিনি। এই টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিক-সহ পাঁচটি গোল করেছেন তিনি, তবু মোক্ষম সময়ে ফের ব্যর্থ। আবার অপেক্ষা দু’বছরের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here