সানি চক্রবর্তী: লিওনেল মেসির পরের দিনই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। নির্বাসনের জাঁতাকলে লা লিগায় না থাকলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দলে ফিরেই দেখালেন সিআরসেভেন-ভেলকি। রোনাল্ডোর জোড়া গোল করে ভর করেই ইউরোপীয় স্তরে সেরা ক্লাব হওয়ার হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে পথচলা শুরু করল। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল-সুলভ আগ্রাসন দেখা না গেলেও সহজেই অ্যাপোয়েল নিকোসিয়াকে ৩-০ ফলে হারাল তারা। বারতিনেক অফসাইডের ফাঁদে না পড়লে হাফডজন গোলেও জিতত পারত তারা। রোনাল্ডোও হয়তো করতে পারতেন আরেকটা হ্যাটট্রিক, তবে এদিন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ৩০ ম্যাচে জোড়া গোল করার অনন্য নজির গড়া হয়ে গেল চারবারের বিশ্বসেরা ফুটবলারের। এদিনের জোড়া গোলের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১০৭ গোল করা হয়ে গেল রোনাল্ডোর। প্রতি আক্রমণে ইসকোর থেকে পাস পেয়ে বেলের রাখা মাপা ক্রস থেকে ১২ মিনিটের মাথায় স্কোরশিটে নাম তোলেন রোনাল্ডো। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পেনাল্টি থেকে তার দ্বিতীয় গোল। আর ৬১ মিনিটে দুরন্ত ব্যাকভলিতে রামোসের রিয়ালের পক্ষে তৃতীয় গোল।

গ্রুপ অফ ডেথ তথা গ্রুপ ‘এইচ’ এর অপর ম্যাচে ওয়েম্বলিতে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারাল টটেনহ্যাম। ইংল্যান্ডের দলটির পক্ষে জোড়া গোল করে জয় নিশ্চিত করলেন হ্যারি কেন। খেলা শুরুর মিনিট চারেকের মধ্যে হুং-মিন সানের একক প্রয়াসে করা দুরন্ত গোলে লিড নিয়েছিল টটেনহ্যাম। কিন্তু মিনিট সাতেকের মধ্যেই ইয়ারমোলেঙ্কোর দিনের সেরা গোলে সমতা ফেরায় ডর্টমুন্ড। যদিও ১৫ মিনিটের মাথাতেই টটেনহ্যামের লিড ফের এনে দেন কেন। আর দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে আরেকটি গোল করে টটেনহ্যামের জয়ের রাস্তা পাকা করেন তিনি। প্রথম ম্যাচেই হেরে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেল ডর্টমুন্ড। কারণ, তাদের গ্রুপপর্বে পরের ম্যাচ রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে।

এদিকে, একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেও ঠিকমতো তা গোলে রুপান্তর না করতে পেরে ও রক্ষণের ভুলে গোলহজম করে প্রথম দিনেই পয়েন্ট খোয়াল লিভারপুল। ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে তারা সেভিয়ার কাছে আটকে গেল ২-২ ফলে। দ্বিতীয়ার্ধে জমাট ফুটবল ও জোয়াকিন কোরেয়ার গোলে এক পয়েন্ট তুলে নিল স্পেনের দলটি। খেলা শুরুর মিনিট পাঁচেকের মধ্যে লোভরানের শিক্ষানবীশসুলভ ভুলে বেন ইয়েডার এগিয়ে দিয়েছিলেন সেভিয়াকে। ২১ মিনিটের মাথায় পালটা আক্রমণে মোরেনোর পাস ধরে দারুণ গোল করে লিভারপুলের পক্ষে সমতা ফেরান ফার্মিনো। মিনিট ষোলো পরে সালাহ-এর শট দিক পালটে জালে জড়ালে এগিয়ে যায় লিভারপুল। এইপর্বে দারুণ ফুটবল মেলে ধরে জুরগেন ক্লপের প্রশিক্ষণাধীন দল। কিন্তু ফার্মিনোর পেনাল্টি মিস ও একাধিক সুযোগ নষ্ট তাদের ভোগায়। শেষমেশ ডিফেন্সের ভুলের সুযোগে কোরেয়ার গোলে ড্র করে সেভিয়া। তবে প্রিমিয়ার লিগে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির কাছে ০-৫ ফলে হারের পরে এই ড্র নিয়ে খুব একটা হতাশ নয় রেডস শিবির। অপরদিকে, ইপিএলের মতোই দুরন্ত গতিতেত দৌড় অব্যাহত পেপ গুয়ার্দিওলার দলের। এদিন ম্যান সিটি ৪-০ ফলে হারিয়ে দিল ফেয়েনুর্ডকে। অ্যাওয়ে ম্যাচের ২ মিনিটের মধ্যে জন স্টোনস গোল করে ইংল্যান্ডের দলটিকে এগিয়ে দেন। মিনিট দশেকের মাথায় ব্যবধান বাড়ান আগুয়েরো। ২৫ মিনিটে জেসুস করেন তৃতীয় গোলটি। আর দ্বিতীয়ার্ধের ৬৩ মিনিটে ম্যাচসেরা স্টোনসের দ্বিতীয় তথা দলের চতুর্থ গোল।

পাশাপাশি গ্রুপপর্বের খেলায় প্রথম লিগ থেকেই অঘটনও উপহার দিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। পোর্তোকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে চমকে দিল বেসিকতাস। তুরস্কের দলটি আগাগোড়া প্রাদান্য রেখে যোগ্য দল হিসেবেই জিতল। একই ঘটনা শাখাতার ডোনেস্কের ক্ষেত্রেও। ইউক্রেনের দলটি ঘরের মাঠে নাপোলিকে হারাল ২-১ ফলে।

একনজরে ম্যাচগুলির ফলাফল-

রিয়াল মাদ্রিদ-৩ অ্যাপোয়েল নিকোশিয়া-০

টটেনহ্যাম- ৩ বরুশিয়া ডর্টমুন্ড -১

লিভারপুল-২ সেভিয়া-২

ফেয়েনুর্ড- ০ ম্যাঞ্চেস্টার সিটি-৪

শাখাতার ডোনেস্ক – ২ নাপোলি-১

বেসিকতাস- ৩ পোর্তো-১

মোনাকো-১ লেইপজিগ-১

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন