দুই কর্নাটকীর জুটিতে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতল পঞ্জাব

0
ম্যাচ বের করছেন রাহুল ময়াঙ্ক।

হায়দরাবাদ: ১৫০-৪ (ওয়ার্নার ৭০ অপরাজিত, শঙ্কর ২৭, শামি ১-৩০)

পঞ্জাব: ১৫১-৪ (রাহুল ৭১ অপরাজিত, আগরওয়াল ৫৫, সন্দীপ ২-২১)

মোহালি: এই তো আমাদের ভারতবর্ষ! বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একাত্মতা। যেখানে দক্ষিণ ভারতের দুই ক্রিকেটার জুটি বেঁধে জিতিয়ে দিচ্ছেন উত্তর ভারতের এক দলকে। তাই দেখে ভাংড়ার তালে নেচে ওঠেন স্থানীয় দর্শকরা।

এ রকমই কিছু হল সোমবারের মোহালিতে। ময়াঙ্ক আগরওয়াল এবং কেএল রাহুলের অসাধারণ জুটির সৌজন্যে হায়দরাবাদকে হারিয়ে দিল কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। তবে পঞ্জাবের কাছে আপাত সহজ ম্যাচটি শেষ দিকে চূড়ান্ত নাটকীয় মোড় নেয়।

টি২০ ক্রিকেটে দাপটের সঙ্গে ব্যাট করবেন ডেভিড ওয়ার্নার, সেটাই দস্তুর। সাধারণত কুড়ি ওভার ব্যাট করে তিনি যদি অপরাজিত থাকেন, যে আর পাঁচটা দিনেই শতরান করবেন তিনি। কিন্তু সোমবারের মোহালির পিচ ছিল অন্য রকম। সে কারণেই কুড়ি ওভার ব্যাট করে ৭০-এর বেশি উঠতে পারলেন না তিনি। তা-ও খরচ করলেন ৬২ বল।

তাও হায়দরাবাদ যে শেষ পর্যন্ত দেড়শোতে পৌঁছোল, তার কৃতিত্ব মূলত দীপক হুডার জন্য। ইনিংসের শেষ তিন বলে ১৪ রান করে দলের কিছুটা মুখ রক্ষা করেন তিনি।

এ দিন পিচের আচরণ অন্য রকম ছিল। তবুও টস জিতে চিরাচরিত ভাবেই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন পঞ্জাব অধিনায়ক রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সানরাইজার্সদের ইনিংসের শুরু থেকে কখনোই মনে হয়নি, রানের গতি বাড়ানোর জন্য তারা সচেষ্ট। আগের ম্যাচে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে আকস্মিক হারেই মনে হয়, দলের মনোবল কিছুটা ভেঙে দিয়েছে। তাই তো ডেভিড ওয়ার্নার অপরাজিত থাকা সত্ত্বেও দশ ওভারে তাঁদের স্কোর ছিল মাত্র ৫০। তাও ওয়ার্নারেরই গিয়ার বদল করার জন্য শেষ দশ ওভারে একশো তোলে হায়দরাবাদ। এরই মধ্যে শেষ ওভারটি বাদে নজর কেড়েছেন বাংলার মহম্মদ শামি।

ক্রিস গেলের ঝড় দেখার জন্য অপেক্ষা করে থাকা মানুষরা সোমবার হতাশ হয়েছেন। ‘দ্য ইউনিভার্স বস’ শুরু করেছিলেন ভালোই। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তার পরেই শুরু হল ময়াঙ্ক-রাহুল শো। ময়াঙ্ক এবং রাহুল, দু’জনেই কর্নাটকের। কিন্তু সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সিরিজে দু’জনের ভাগ্যে বিপরীতধর্মী দু’টো জিনিস ঘটেছে। এক দিকে ভারতীয় দলের ওপেনারের জায়গাটা হারিয়েছেন রাহুল, তো সেই জায়গাটা নিয়েছেন ময়াঙ্কই। কিন্তু তা বলে, দু’জনের বন্ধুত্বে কোনো ছেদ পড়েনি। এ দিনের জুটিতে ফের সেটাই প্রমাণিত হল। টি২০-এর ধূমধড়াক্কার মধ্যেও যে সন্তর্পণে এই দুই ক্রিকেটার ম্যাচ বের করার দিকে এগিয়ে গেলেন তা প্রশংসার যোগ্য।

কিন্তু তার পরেই যে হঠাৎ করে তাল কেটে গেল। ময়াঙ্ক আউট হলেন, সঙ্গে সঙ্গে ফিরলেন ডেভিড মিলার। তার পর ১৯তম ওভারের শেষ বলে মন্দীপ সিংহ যখন ফিরলেন, তখন পঞ্জাবের দরকার ছিল শেষ ওভারে ১১। কিন্তু এখানেই ঠান্ডা মাথার পরিচয় দেন রাহুল। এক বল বাকি থাকতে জিতে নেয় পঞ্জাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here