ভিভ-কলিসের দ্বৈত সংগীত, কে ঢাকা পড়লেন কার ছায়ায়?

0
Vivian Richards and Collis King
অরুণাভ গুপ্ত

ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কলিস কিং কথায় কথায় গল্পচ্ছলে আড্ডায় বলেন, “ভিভ হচ্ছেন মেজাজি মানুষ। মজলিসেও যেমন, ব্যাট হাতে ক্রিজেও তেমন। পরিস্থিতি যতই প্রতিকুল থাকুক না কেন, ভিভের মধ্যে তার কোনো ছাপ নেই, টেনশন-লেস”। কলিস তাই ভিভ নামে গদগদ। এ রকম দিলখুশ থাকতে পারেন বলেই ভিভ ক্রিকেটটা এনজয় করেন, নিছক খেলেন না, বা টিমে বেশ গুছিয়ে শিকড় ছড়িয়ে বসে থাকা তাঁর ধান্দা নয়। কিন্তু এমন দোর্দণ্ড ভিভিয়ান রিচার্ডস পর্যন্ত কেমন জানি থ’ মেরে শুধু দেখছেন সতীর্থ কলিসের কাণ্ডকারখানা।

বিশ্বকাপের বারান্দায়/ ১০

১৯৭৯, অর্থাৎ দ্বিতীয় বিশ্বকাপের ফাইনাল লড়াই লর্ডসের মাটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাঞ্জা লড়ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তাই এ বারও জেতার প্রতিজ্ঞায় এককাট্টা। ইংল্যান্ড কমতি নয়, তারাও লড়াইয়ে সমান ভাবে একবগ্গা। শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিন্তু টলমল অবস্থায় পড়ে যায়। মাত্র ৯৯ রানের বিনিময়ে চারখানা উইকেট খুইয়ে বসে থাকে। ক্রিজে অবশ্য তখনও রয়েছেন ভিভ, মাঠে এলেন কলিস কিং। ভিভ তাঁর কাছে গেলেন সামান্য কিছু টিপস দেওয়ার জন্য। তবে বিরাট কোনো উপদেশ নয়, সহজ গলায় বললেন, “বুঝলে তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। হাতে প্রচুর সময় রয়েছে, কোনো চাপ নেই, সহজ ভাবে খেলো”।

কলিস ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’, কোনো প্রতিক্রিয়া দিলেন না। ভাবখানা যেন, ‘সহজ ভাবে নিতে বলেছে তাই হবে, তুমি শুধু দেখে যাও বন্ধু’।

ইয়ান বোথামের প্রথম বল কলিসের স্কোয়ার কাটে সীমানার বাইরে, চার। আরম্ভে এমন রণংদেহী মূর্তিতে প্রকাশ করে বোঝালেন- এই মুহূর্তে আমি ভিনি-ভিডি-ভিসি। এক দম তাই, এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। মাঠের সব প্রান্তেই একের পর এক বল আছড়ে পড়ল। কলিস ব্যাট করছেন, ভিভ দু’চোখ ভরে দেখছেন এবং যেন টেলিপ্যাথির মাধ্যমে বলতে চাইলেন, ‘বন্ধু, আজ তোমার দিন। তুমি বাড়ো তোমার মতো করে। আমি সঙ্গত দিচ্ছি’। যেমন ভাবা তেমন কাজ। রিচার্ডস একটা করে খুচরো রান নিয়ে কলিসকে স্ট্রাইক দিচ্ছেন, আর কলিস কৃতজ্ঞ চিত্তে তার সদ্ব্যবহার করছেন। মারলেন ১০টা চার, ৩টে ছয়।

শেষমেশ ৬৬ বলে ৮৬ রানের একটা ঝকঝকে ইনিংস খেলে যখন ফিরলেন ততক্ষণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাঁড়া কাটিয়ে সংসার গুছিয়ে নিয়েছে। কলিস গেলেন ভিভ হাল ধরলেন। এ বার তাঁর পালা, সেঞ্চুরি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বৈতরণী পার করালেন। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে ভিভিয়ান আপ্লুত হয়ে বলেছেন, “কলিসের ইনিংস ছিল স্বপ্নের মতোন। আমি ভাগ্যবান, উল্টো দিকে সাথী থাকার জন্য। আর ওঁর মিউজিক চরমে নিতে পেরেছি বলে আমি ভিভিয়ান রিচার্ডস আনন্দে ভাসছি”।

বলবেনই তো! সে দিন ১৫৭ বলে ১৩৮ রান দলের স্কোরে যোগ করেছিলেন ভিভ। তবে ফাইনাল ম্যাচে কলিসের দুর্দান্ত পারফরমেন্স নিয়ে শুরু হয় যায় তোলপাড়। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ থেকে অনুরাগীদের একাংশের চর্চায় উঠে আসে এক ‘ব্যাঁকা’ কথা- রান বেশি করলেও কলিসের ছায়ায় ঢাকা পড়েছেন ভিভ!

সংযোজন: ওই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯২ রানে জয় পায়।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন