চরম নাটকীয়তার ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পাক বধ

0

অস্ট্রেলিয়া ৩০৭ (ওয়ার্নার ১০৭, ফিঞ্চ ৮২, আমির ৫-৩০)

পাকিস্তান ২৬৬ (ইমাম ৫৩, হাফিজ ৪৬, কামিন্স ৩-৩৩)

টউনটন: উত্তেজনার দিক থেকে দেখতে গেলেই, এটাই বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচ। এমন এক ম্যাচ যেখানে মুহূর্তের মধ্যে ঘুরে যাচ্ছে ভাগ্য। কখনও মনে হচ্ছে পাকিস্তান জিতবে, আবার পরক্ষনেই মনে হচ্ছে ম্যাচে দিরছে অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শেষমেশ টিকে থাকল অ্যারন ফিঞ্চের দলই। হেরে গেল পাকিস্তান।

দু’জনেই নিজেদের দেশবাসীর চোখে ভিলেন হয়েছিলেন। এখনও দু’জনই মাঠে নামলে বিদ্রুপ শুনতে হয়। সেই দু’জনেই একসঙ্গে এক ইনিংসে জ্বলে উঠলেন। একজন ব্যাট হাতে তো অন্যজন ভেল্কি দেখিয়ে গেলেন বল হাতে।

শতরানটা করে তাঁর চিরাচরিত ঢঙ্গে উদযাপন এবং মুখে অদ্ভুত একটা হাসি বুঝিয়ে দিল অবশেষে শাপমুক্তি হয়েছে ওয়ার্নারের। এই বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত রানের মধ্যেই ছিলেন তিনি, কিন্তু কিছুতেই তাঁর পুরনো ফর্ম দেখা যাচ্ছিল না। রবিবার ভারতের বিরুদ্ধে সাড়ে তিনশো রান তাড়া করতে গিয়েও প্রধান ভিলেন হয়ে গেলেন তিনিই। কারণ কুড়ি ওভারেরও বেশি ব্যাট করে মাত্র ৬০-এর কাছাকাছি স্ট্রাইক রেটে ৫৭ রান করেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার চাপ ছিল যথেষ্ট।

এ দিন শুরু থেকেই যেন নিজের পুরনো সেই ছন্দটি ফিরে পেলেন ওয়ার্নার। অ্যারন ফিঞ্চকে সঙ্গে নিয়ে দুর্ধর্ষ শুরু করলেন তিনি। তাঁর আর ফিঞ্চের সামনে ক্রমে চাপে পড়ে গেল পাকিস্তান। যদিও প্রথম দিকে ফিঞ্চই বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন, তুলনায় ম্রিয়মাণ ছিলেন ওয়ার্নার। প্রথম উইকেটে প্রায় দেড়শোর কাছাকাছি রান ওঠার পর যখন ফিঞ্চ আউট হলেও, তখনই খেলা ধরে ফেললেন ওয়ার্নার।

গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় সেই কাণ্ডটি করার পর নিজের দেশের মানুষের কাছেই ভিলেন হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সুযোগ খুঁজছিলেন, নিজেকে আবার প্রমাণ করার। এ দিনই সেই সুযোগ এসে পেলেন তিনি। ওয়ার্নার এবং ফিঞ্চের তাণ্ডবের পর মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া হয়তো চারশো পেরিয়ে যাবে। কিন্তু সেটা না হয়ে ৩০৭-এই শেষ হয়ে গেল তাদের ইনিংস।

আর সেটা হল মহম্মদ আমিরের জন্য। ২০১০ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত নির্বাসিত ছিলেন তিনি। তাঁকে দলের ফেরানো নিয়ে পাকিস্তান জুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। নানা মুনির নানা মত ছিল। কিন্তু পাকিস্তান দলে ফিরলেও ২০১০-এর আগের সেই আমিরকে কোনো ভাবেই পাওয়া যাচ্ছিল না। সেটাই এ দিন হল।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষ দিকে জ্বলে উঠলেন তিনি। তুললেন পাঁচটা উইকেট, আর তিন রান প্রতি ওভারের হিসেবে খরচ করলেন মাত্র ৩০ রান।

পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপের পক্ষে এই রান তাড়া করা খুব একটা কষ্টকর কিছু ছিল না। কারণ ফাকর জামান, ইমাম উল হক, বাবর আজম সম্বিলিত পাকিস্তানের টপ অর্ডার যথেষ্ট দক্ষই ছিল। পাকিস্তানের জবাবের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ইমাম। প্রথমে বাবর এবং পরে মহম্মদ হাফিজের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটিও তৈরি করেন তিনি। কিন্তু পাকিস্তান দলের ব্যাপারে যে প্রবাদতা আছে, তারা কখন কী করে, কিছুই বোঝা যায় না। সেটাই হল। ইমাম আউট হতেই দ্রুত উইকেট পড়তে থাকল পাকিস্তানের।

কিন্তু আচমকা এই জায়গা থেকে ঘুরে যায় খেলা। সরফরাজকে এক দিকে রেখে অপরদিকে তাণ্ডব চালিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন হাসান আলি এবং ওয়াহাব রিয়াজ। রান রেটের কোনো সমস্যাই তাদের ছিল না, দরকার ছিল উইকেটে টিকে থাকা। যে মুহূর্তে মনে হচ্ছিল পাকিস্তান অবাক করে ম্যাচ বের করে ফেলবে, তখনই আবার প্রত্যাবর্তন অস্ট্রেলিয়া। ওয়াহাবকে ফেরানোর পরেই ফিরে যান আমির। ব্যাস, সাত উইকেট থেকে হঠাৎ করে ন’উইকেট হয়ে যায় পাকিস্তানের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here