বিশ্বকাপের অ্যাসেজ ছিনিয়ে শেষ চারে পৌঁছোল অস্ট্রেলিয়া

0

অস্ট্রেলিয়া: ২৮৫-৭ (ফিঞ্চ ১০০, ওয়ার্নার ৫৩, ওক্স ২-৪৬)

ইংল্যান্ড: ২২১ (স্টোক্স ৮৯, বেয়ারস্টো ২৭, বেহরেনড্রফ ৫-৪৪)

লন্ডন: মাস চারেক আগেও যাদের পারফরম্যান্স নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন উঠত, গত বছর যারা একের পর এক ম্যাচ হেরে জেরবার হয়েছে, বিশ্বকাপে বিশেষ কিছু করতে পারবে না বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল, সেই অস্ট্রেলিয়াই কি না প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে পৌঁছে গেল। ইংল্যান্ডকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের অ্যাসেজ দখল করার পাশাপাশি ট্রফিটাকেও পাখির চোখ করে ফেলেছে তারা।

মাস চারেক আগেও অস্ট্রেলিয়াকে বিশেষ কোনো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল না। একটার পর একটা সিরিজে হার। ভারতের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠেও হারতে হয়েছে তাদের। কিন্তু হঠাৎ করে সব হিসেব পালটে যায় মার্চ থেকে। ভারতের মাটিতে আকস্মিক ভাবে একদিনের সিরিজ জিতে নেয় ফিঞ্চের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া। পরের সিরিজে পাকিস্তানকেও হোয়াইট ওয়াশ করে তারা। তখন থেকেই এই অস্ট্রেলিয়াকে নিয়েও স্বপ্ন দেখা শুরু।

অন্য দিকে ইংল্যান্ডের ভাগ্য এক্কেবারে উলটো ছিল। একটার পর একটা একদিনের সিরিজ দাপটের সঙ্গে জয়। সাড়ে তিনশো রান তোলা প্রায় অভ্যাসে পরিণত করে ফেলা। ফলে এই বিশ্বকাপ যখন শুরু হল, তখন মনেই করা হচ্ছিল এ বার সম্ভাব্য চাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।

জয়ের আসল ভিত গড়ে দিয়েছিলেন এই মুহূর্তে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রহকারীর তালিকায় থাকা যথাক্রমে এক এবং দুই নম্বর। সোমবার পর্যন্ত ওই তালিকায় শীর্ষে ছিলেন বাংলাদেশের শাকিব আল হাসান, কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শাকিবকে তিন নম্বরে ঠেলে এক এবং দুইয়ে উঠে এলেন যথাক্রমে ডেভিড ওয়ার্নার এবং অ্যারন ফিঞ্চ।

ফিঞ্চ আর ওয়ার্নার নিজেদের মধ্যে খুব সমঝোতা করে খেলেন বোঝা যায়। যে দিন ফিঞ্চ আগ্রাসী থাকেন, সে দিন ওয়ার্নার কিছুটা ম্রিয়মাণ থাকে, আবার উলটোটাও হয়। কিন্তু মঙ্গলবার ফিঞ্চ অনেক বেশি আগ্রাসী ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটিকে কী ভাবে ভাঙা হবে, তার কোনো রসদই খুঁজে পাচ্ছিলেন না ওইন মর্গ্যানের বোলাররা। শুরুর দিকে সেই ছন্নছাড়া বোলিংয়ের সুযোগ প্রথম জুটিতেই ১২৩ তুলে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। তখন মনে হচ্ছিল, আবার সাড়ে তিনশোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া। সেই স্বপ্ন আরও জোরালো হয়, যখন শতরান পেরিয়ে যান ফিঞ্চ। কিন্তু তার পরেই ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ডের বোলাররা। চাপা বোলিংয়ের সুবাদে তিনশোর ১৫ রান আগেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়া।

আরও পড়ুন বিশ্বকাপে রেকর্ড ওয়ার্নার-ফিঞ্চ জুটির

গত কয়েক বছরে ইংল্যান্ড যে একদিনের সিরিজে অন্যতম বিধ্বংসী দল হয়ে উঠেছে, তার অন্যতম কারণ তাঁদের বিস্ফোরক ওপেনার জেসন রয়। বিশ্বকাপের মাঝামাঝি চোট পেয়ে মাঠের বাইরে রয় বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিম্নমুখী। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দেওয়া টার্গেট তাড়া করতে পড়েনি ব্রিটিশ বাহিনী। আর এই ম্যাচে নড়বড়ে টপ অর্ডারকে নাড়িয়ে দিলেন দুই অজি পেসার মিচেল স্টার্ক এবং জেসন বেহরেনড্রফ।

৫০ রান পেরোতেই ইংল্যান্ডের চার উইকেট চলে যাওয়ার পর ম্যাচের ফলাফল ওখানেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা যে এগোল, তার কারণ বেন স্টোক্স। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং নিয়ে এই বিশ্বকাপটা ভালোই যাচ্ছে স্টোক্সের। সেই স্টোক্সের ব্যাট এই ইনিংসে যখন জ্বলতে শুরু করল, তখন ইংল্যান্ডের জয়ের ক্ষীণ একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল।

কিন্ত একা স্টোক্সের পক্ষেই বা কতটা কী করা সম্ভব ছিল, কারণ আস্কিং রেট যে কার্যত আকাশ ছুঁয়েছে। তবে সঙ্গীর অভাব না হলে, লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করার জন্য তিনি ঝাঁপাতেন। তবে মনকাড়া ইনিংসকে শেষ করার জন্য দরকার ছিল মনকাড়া একটা বল। সেটাই করলেন স্টার্ক। দুর্ধর্ষ ইনসুইংগিং ইয়র্কারে ছিটকে দিলেন স্টোক্সের স্টাম্প। তার পর বাকিটা ছিল শুধুমাত্র নিয়মরক্ষার।

আর এরই মধ্যে নজর কেড়ে নিলেন জেসন বেহরেনড্রফ। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম আবির্ভাবেই পাঁচ উইকেট দখল করলেন তিনি।

আসলে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যাওয়াই ইংল্যান্ডের কাছে কাল হল। হয়তো কিছুটা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ফল ভুগতে হয়েছে তাদের। এখন তাদের রাস্তা আরও কঠিন। কারণ সামনে রয়েছে ভারত এবং নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই দুই দলকে হারানোর নজির ইংল্যান্ডের নেই। এখন ব্রিটিশদের কাছে প্রশ্ন, আদৌ শেষ চারে যাওয়া হবে তো, নাকি অন্য বারের মতো এ বারও আগেভাগেই বিদায় নিতে হবে।

তবে সেই সমস্যা এখন অস্ট্রেলিয়ার নেই। শেষ চারে উঠে গিয়ে তারা এখন সুখী সংসার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.