Virat Kohli

অস্ট্রেলিয়া: ৩৮৯-৪ (স্মিথ ১০৪, ওয়ার্নার ৮৩, পান্ড্য ১-২৪)

ভারত: ৩৩৮-৯ (কোহলি ৮৯, রাহুল ৭৬, কামিন্স ৩-৬৭)

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আবার হার ভারতের। সিডনিতে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ ৫১ রানে খোয়াল তারা। দ্বিতীয় ম্যাচ হারার সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় একদিনের ম্যাচের সিরিজ খোয়াল ভারত। ক্যানবেরায় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি জিততে পারলে কিছুটা সম্মান ধরে রাখতে পারবে তারা।

এই হারের সঙ্গে সঙ্গে এই নিয়ে পর পর ৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারল ভারত। ২০২০-এর ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে সে দেশের কাছে তিন ম্যাচের একদিনের সিরিজে ও ২টি টেস্ট ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বিরাট কোহলির ভারত।  

এ যেন সেই প্রথম একদিনের ম্যাচেরই পুনরাবৃত্তি! তবে রানের হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় ঝুলিতে এল আরও বেশি, ৩৮৯। দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান অর্ধশতরান করলেন। একদিনের ক্রিকেটের ইতিহাসে এই ঘটনা দ্বিতীয় বার ঘটল। এঁদের মধ্যে আবার সেঞ্চুরি করলেন স্টিভ স্মিথ। প্রথম ম্যাচের মতো দ্বিতীয় ম্যাচেও সেঞ্চুরি করলেন ৬২ বলে। প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ১০৫, এই ম্যাচে ১০৪। ভারতকে ৩৯০ রানের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ার পথে অস্ট্রেলিয়া খোয়াল মাত্র ৪টি উইকেট।     

অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া দলে একটা পরিবর্তন করা হয়। মার্কাস স্টয়নিসের বদলে এ দিন খেলানো হয় ময়সেস হেনরিকেসকে। ভারতীয় দলে কোনো পরিবর্তন ছিল না।

অ্যারন ফিঞ্চ আর ডেভিড ওয়ার্নার প্রথম উইকেটের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থেকে ২৩ ওভারে ১৪২ রান তুলে দেন। প্রথম ৬ ওভার কিছুটা দেখেশুনে খেলেন ফিঞ্চ-ওয়ার্নার জুটি। মহম্মদ শামি, জসপ্রীত বুমরাহ তাঁদের বোলিংয়ে মাঝেমাঝে চমক দেখালেও তেমন দাগ কাটতে পারেননি।

ভারত প্রথম আঘাত হানে ২৩তম ওভারে। অজি অধিনায়ককে তুলে নেন শামি। শামির বল একটু আগ বাড়িয়ে খেলেছিলেন ফিঞ্চ। বল ব্যাটের কানায় লেগে চলে যায় এক্সট্রা কভারে কোহলির হাতে। ব্যক্তিগত ৬০ রানের মাথায় আউট হন ফিঞ্চ।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট পড়ে ২৬তম ওভারে। ওয়ার্নারকে ডায়রেক্ট থ্রো-তে রান আউট করেন শ্রেয়স আয়ার। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ১৫৭-২। ১৭ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন ওয়ার্নার।

এর পর ম্যাচ ধরে নেন স্টিভ স্মিথ এবং মার্নাস লাবুশানে। ভারতীয় বোলারদের ছেলেখেলা করতে থাকেন দুই ব্যাটসম্যান। এর মধ্যে স্মিথ বেশি ধ্বংসাত্মক ছিলেন। ৩৪তম ওভারে আরও একটি অর্ধশত পূর্ণ করেন ঠান্ডা মাথার অজি রান-মেশিন স্টিভ স্মিথ। ৩৮তম ওভারে দলের ২৫০ রান পূর্ণ হয়।

স্টিভ স্মিথের শতরান এল ৪১তম ওভারে। এ বারও সেঞ্চুরি করলেন ৬২ বলে। স্মিথকে এ রকম ধ্বংসাত্মক মেজাজে খুব একটা দেখা যায়। তবে পরের ওভারেই আউট হলেন তিনি। শট বাছাইয়ে খুব একটা ভুল করেন না তিনি। কিন্তু হার্দিক পান্ড্যর এই বলটা বুঝতে করেছিলেন। শামির হাতে ক্যাচ দিয়ে ৬৪ বলে ১০৪ করে স্মিথ যখন মাঠ ছাড়লেন তখন দলের রান ৩ উইকেটে ২৯২।

খেলতে নেমেই হাত খুললেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, তাঁকে যেন একটা ৫০ করতেই হবে। ইতিমধ্যে ৪৪তম ওভারে লাবুশানে অর্ধ শতরান পূর্ণ করলেন।

অস্ট্রেলিয়া আগের ম্যাচের স্কোর ছুঁল ৪৯তম ওভারের শেষ বলে। তার এক বল আগে বুমরাহের বলে ময়াঙ্ককে ক্যাচ দিয়ে নিজস্ব ৭০ রানের মাথায় আউট হলেন লাবুশানে।

শেষ ওভারে ৫০ পূর্ণ করলেন ম্যাক্সওয়েল। ২৫ বলে ৫০ করেই নবদীপ সাইনিকে পর পর ৬ মারতে থাকেন ম্যাক্সওয়েল।৪০০ থেকে একটু দূরে আটকে যায় অস্ট্রেলিয়া। ভারতকে ৩৯০ রানের টার্গেট দেয় তারা। ম্যাক্সওয়েল নট আউট থাকলেন ৬৩ রানে।

জয়ের এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা খুবই কঠিন কাজ। তবু সেই অসাধ্যসাধনের চেষ্টায় নেমে শুরুটা খুব খারাপ করেননি শিখর ধাওয়ান ও ময়াঙ্ক অগ্রবাল। কিন্তু অষ্টম ওভারেই প্রথম পতন। হ্যাজেলউডের বলে স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে নিজস্ব ৩০ রানে আউট ধাওয়ান।

ময়াঙ্কের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। কিন্তু ময়াঙ্কও বেশি দূর এগোতে পারলেন না। তাঁকে তুলে নিলেন কামিন্স। ক্যারেকে ক্যাচ দিয়ে প্যাভেলিয়নের পথে পা বাড়ালেন ময়াঙ্ক। দল তখন ৬০-এ, ময়াঙ্ক ২৮।      

ভারতের শত রান পূর্ণ হল ১৫.৫ ওভারে। একটা বিশাল লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে গোড়ার যে রানরেটের দরকার হয়, সেই রানরেটেই খেলা চালিয়ে যেতে লাগলেন কোহলি ও শ্রেয়স আয়ার। দলের ২৩তম ওভারে অর্ধশত রান পূর্ণ করলেন কোহলি। একদিনের ম্যাচে কোহলির এটি ৫৯তম অর্ধশত রান।

ওদিকে যখন মনে হচ্ছিল তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ভারত ১০০ রান পূর্ণ করতে চলেছে, ঠিক তখনই আউট হলেন শ্রেয়স আয়ার। হেনরিকেসের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় হলেন শ্রেয়স। ভারত তখন ২৩.১ ওভারে ১৫৩-৩।

কোহলির সঙ্গে জুটি বাঁধেন রাহুল। এবং তাঁরা দু’ জনে দলের রান এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। তাঁদের জুটিতে ৫০ রান পূর্ণ হয় ৩২তম ওভারে। কিন্তু ৩৫তম ওভারে ভারতের ‘বিরাট’ ক্ষতি। হ্যাজেলউডের বলে হেনরিকেসকে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান কোহলি। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১১ রান দূরে থেকে প্যাভিলিয়নের পথে পা বাড়ান তিনি। ভারত তখনও লক্ষ্যমাত্রা থেকে ১৬৫ রান দূরে, হাতে রয়েছে ১৫.১ ওভার।

এর পর হার্দিক পান্ড্যর সঙ্গে জুটি বেঁধে কিছুটা চেষ্টা করেন কে এল রাহুল। কিন্তু দলের ২৮৮ রানে রাহুল এবং ৩২১ রানে পর পর দু’টি বলে জাডেজা এবং পান্ড্য আউট হয়ে যাওয়ার পর ভারতের ভাগ্যে কী ঘটতে চলেছে তা স্পষ্ট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ভারত থেমে যায় ৯ উইকেটে ৩৩৮-এ।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন  

কোভিড নেগেটিভ হয়েই দেশ ছেড়েছিলেন, নিউজিল্যান্ডে পৌঁছে কী ভাবে পজিটিভ হলেন ৭ পাক ক্রিকেটার  

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন