বিধ্বংসী শতরানের পথে ম্যাক্সওয়েল

ভারত: ১৯০-৪ (বিরাট ৭২ অপরাজিত, রাহুল ৪৭, বেহরেন্ড্রফ ১-১৭)

অস্ট্রেলিয়া: ১৯৪-৩ (ম্যাক্সওয়েল ১১৩ অপরাজিত, শর্ট ৪০, শঙ্কর ২-৩৮)

Loading videos...

বেঙ্গালুরু: ‘পাবলিক ডিমান্ড’ মিটিয়েও পারলেন না বিরাট। ম্যাক্সওয়েল ঝড়ের সামনে উড়ে গেল ভারত। নিউজিল্যান্ডের পর ফের টি২০ সিরিজে হেরে গেল ভারত। কিন্তু ঘরের মাঠে এবং অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিরুদ্ধে।

অস্ট্রেলিয়ার কোনো ভাবে এ দিন জিততে পারত না যদি না অসাধারণ একটা ইনিংস উপহার দিতেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তিনি যখন ক্রিজে আসেন, তখন ভারতের খাড়া করা ১৯০ রান তাড়া করতে নেমে তাঁর দল কার্যত ধুঁকছে। সেই আবহেই হাল ধরলেন তিনি।

দলকে ম্যাচ জিতিয়ে যখন ফিরলেন, শতরান করে ফেলেছেন তিনি। অথচ ঘণ্টা দেড়েক আগেও ম্যাচে এ রকম পরিস্থিতি ছিল না। তখন ‘পাবলিক ডিমান্ড’ মিটিয়ে দলকে জেতানোর দিকে অনেকটাই পা বাড়িয়েছিলেন বিরাট।

আজ পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটারকে এ ভাবে ‘পাবলিক ডিমান্ড’ মেটাতে দেখা গিয়েছে কী না সন্দেহ আছে। কিন্তু বিরাট কোহলি সেটা করলেন। তিনি সেটা করতে পারলেন তাঁর অদম্য আত্মবিশ্বাসে ভর করেই।

ইনিংসের শেষ বল। ক্রিজে রয়েছেন বিরাট। হঠাৎ গ্যালারি থেকে ধ্বনি উঠল ‘উই ওয়ান্ট সিক্স।’ বল হাতে প্যাট কামিন্স এগিয়ে আসতেই স্টেপ আউট করে ছক্কাই হাঁকালেন বিরাট। সেই সঙ্গে ম্যাচের সুরটাও ওখানেই বেঁধে দিলেন। আগের দিন খুব কাছে এসে হারতে হয়েছিল ভারতকে। এ বার সেই হিসেব পালটে দিতে চায় তারা।

আগের ম্যাচে পরে ব্যাট করে সাফল্য এসেছিল, সেই আন্দাজ করেই এ দিন টস জিতে বোলিং-এর সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। শুরু থেকেই এ দিন কার্যত তাণ্ডব নৃত্য করে যান কেএল রাহুল। তাঁর দাপটের সামনে ম্রিয়মাণ ছিলেন শিখর ধাওয়ান।

কিন্তু স্কোরবোর্ডে ৬১ উঠতেই হঠাৎ ছন্দপতন রাহুলের। কুল্টার-নাইলকে নিজের উইকেটটা দিয়ে আসার সময়ে তাঁর নামের পাশে ৪৭ উঠে গিয়েছে। এর পরের কয়েক ওভারে অজিরা প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেছিল। তাই তো ধোনি যখন ব্যাট করতে এলেন, ততক্ষণে ধাওয়ান এবং পন্থকেও হারিয়েছে ভারত।

ভারতের রানের গতি এতটাই স্লথ হয়ে গিয়েছিল যে ১৫তম ওভারে ১০০ পেরোয় তারা। তার পরেই অবশ্য খেলার গতি পুরো পালটে দেন ধোনি-কোহলি জুটি। আগের ম্যাচে মন্থর ইনিংস খেলে সমালোচিত হয়েছিলেন ধোনি। এ দিন নিজেকে শুধরে নিলেন তিনি। অন্য দিকে কোহলি তো আবার নিজের পুরোনো ছন্দে।

ধোনি এবং বিরাটের যুগলবন্দির সামনে দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন অজি বোলাররা। প্রাক্তন এবং বর্তমানের জুটিতে শেষ ছ’ওভারে ৯১ রান তোলে ভারত।

কিন্তু ম্যাক্সওয়েল ঝড়ের সামনে সব শেষ। রান তাড়া করতে নেমে দ্রুত দু’টো উইকেট হারালেও অদম্য ছিলেন ম্যাক্সি। প্রথমে ডার্সি শর্ট এবং পরে হ্যান্ডস্‌কম্বকে জুটি তৈরি করে দলকে জিতিয়ে দেন তিনি।

৫০ ওভারের খেলার সঙ্গে টি২০-এর কোনো সম্পর্ক যদিও নেই, তবুও এই অস্ট্রেলিয়ার কাছে এ ভাবে হেরে যাওয়ার ফলে বিশ্বকাপের আগে ভারতের আত্মবিশ্বাস কিছুটা ধাক্কা তো খাবেই। আবার অন্য দিকে উলটোটা হবে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে। হারতে হারতে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া একটা দল নতুন করে উদ্বুদ্ধ হবে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.